ম্যাচ ছাপিয়ে আলোচনায় মাশরাফি
সিরিজ শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন। দেড়টার দিকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে এলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। শুরুতেই প্রশ্ন ছোড়া হলো তার অবসর নিয়ে। প্রশ্ন থাকলো ওয়ানডে অধিনায়কের পারফরম্যান্স নিয়েও। একটি দুটি করে শেষ পর্যন্ত অনেক প্রশ্ন। যেখানে প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে বা ক্রিকেট নিয়ে প্রশ্ন থাকলো সামান্যই।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে রোববার (১ মার্চ) জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হচ্ছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচের আগেরদিন ক্রিকেট নয়, 'টক অ দ্য টাউন' হয়ে উঠলেন ওয়ানডে অধিনায়ক। ক্ষিপ্ত মাশরাফির একটি উত্তরই মূলত তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বসিয়ে দিয়েছে।
বল হাতে দীর্ঘদিন ধরে অনুজ্জ্বল মাশরাফি। শেষ ১০ ম্যাচে নিয়েছেন একটিমাত্র উইকেট। পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অবসর ইস্যু। যেখানে প্রশ্ন ছিল প্রথমবারের মতো এমন সময় পার করার মাঝে আত্মসম্মান বোধের ব্যাপারটি চলে আসে কিনা? এটা শুনেই যেন মেজাজ হারালেন মাশরাফি। বলে উঠলেন, 'আত্মসম্মান বা লজ্জা, আমি কী চুরি করি মাঠে? আমি কী চোর? খেলার সঙ্গে লজ্জা, আত্মসম্মান, আমি মেলাতে পারি না।'
মাশরাফির এই মন্তব্য নিয়েই দিনভর আলোচনা। ১ মার্চের ম্যাচ নিয়ে কাটাছেড়া নেই বললেই চলে। যদিও এই সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, নিজের দল, ড্রেসিং রুমের অবস্থা নিয়েও কথা বলেছেন মাশরাফি। জানিয়েছেন, জিম্বাবুয়ে বলে নির্ভার থাকার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক ম্যাচ সব সময় আন্তর্জাতিক ম্যাচই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হেরে যাওয়াও অস্বাভাবিক কিছু নয়।
দুই বছর পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগেরদিন প্রতিপক্ষকে নিয়ে মাশরাফির মূল্যায়ন, 'আন্তর্জাতিক ম্যাচ আন্তর্জাতিক ম্যাচই। জিম্বাবুযের কাছে আমরা হারতেও পারি। এমন না যে আমরা জিম্বাবুয়ের কাছে আগে হারিনি। যে ম্যাচগুলো আমরা জিতেছি, এরমধ্যে কিন্তু দুই তিনটি ম্যাচ ছিল যে আমরা হারা ম্যাচ জিতে গেছি। সুতরাং, অতটুকু নিশ্চিত হয়ে আমাদের ক্রিকেট খেলতে হবে।'
বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে খেলা হয়নি মাশরাফির। মাঝে একটি সিরিজ গেলেও ইনজুরির কারণে তিনি দলের বাইরে ছিলেন। ফিরে ড্রেসিং রুমের অবস্থা দেখে কী মনে হচ্ছে? মাশরাফি বলেন, 'যারা ছিল, তারা সবাই খেলার ভেতরে ছিল। ওয়ানডে তো ছিল না, কোনো পরিবর্তন দেখছি না। সবাই পেশাদার, যার যার দায়িত্ব সবাই জানে। এর আগেও হয়েছে এ রকম, তিন চার পাঁচ মাস ওয়ানডে খেলা নেই। এসে অধিনায়কত্ব করতে হয়েছে। নতুন কিছুই না।'
অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের ওয়ানডে অধিনায়ক চামু চিবাবা দলকে চাঙ্গা করতে প্রস্তুত। টেস্ট হারের কথা ভুলে ভালো শুরু দিকে তাকিয়ে তিনি। চিবাবা বলেন, 'দুটি ফরম্যাট ভিন্ন, এটা সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের খেলা। এই ফরম্যাটে আমরা তুলনামূলক ভালো খেলি। আশা করি আমরা ইতিবাচক ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে পারব। এই পথে ওয়ানডে ক্রিকেট আমাদের জন্য এক ধরনের সুযোগ।'
এ পথে অবশ্য রেকর্ড জিম্বাবুয়ের হয়ে কথা বলছে না। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ওয়ানডে জিততে পারেনি সফরকারীরা। সর্বশেষ ২০১০ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে জেতে জিম্বাবুয়ে। রেকর্ড পক্ষে না থাকলেও চিবাবা সেসব নিয়ে ভাবছেন না। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক এই সিরিজটিকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে চিবাবা বলেন, 'আমি আগেও যেটা বললাম, বাংলাদেশের মাটিতে আমাদের রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। কিন্তু আমরা এটা পরিবর্তন করতে চাই। এটা আমাদের জন্য সেরা সুযোগ। পেছনের রেকর্ড বদলাতে তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ।'
ওয়ানডে স্কোয়াডে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন এসেছে। স্বভাবতই সর্বশেষ একাদশের চেয়ে এই ম্যাচের একাদশে পরিবর্তন আসবে। এশিয়া কাপের পর প্রথমবারের মতো একাদশে সুযোগ পেতে পারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। অভিষেক হতে পারে তরুণ আফিফ হোসেনের।
মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন একাদশে ফিরছেন এটা অনেকটাই নিশ্চিত। তরুণ এই অলরাউন্ডারসহ তিনজন পেসারকে নিয়ে মাঠে নামতে পারে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মাশরাফির সঙ্গে পেস আক্রমণ সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন মুস্তাফিজুর রহমান।
বাংলাদেশ একাদশ (সম্ভাব্য): তামিম ইকবাল, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন ধ্রু্ব, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক) ও মুস্তাফিজুর রহমান।
জিম্বাবুয়ে একাদশ (সম্ভাব্য): চামু চিবাবা (অধিনায়ক), টিমিসেন মারুমা, ক্রেইগ আরভিন, ব্রেন্ডন টেলর (উইকেটরক্ষক), শন উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজা, টিনোটেন্ডা মুতোমবদজি, ডোনাল্ট টিরিপিানো, এইন্সলে এনডিলভু, ক্রিস এমপফু ও কার্ল মুম্বা।
