দেহ গড়তে অর্ধেক জীবন পার
দূর থেকে দেখলে ধন্ধেই পড়ে যেতে হবে। মনে হবে ক্রিকেট দলের সঙ্গে কী করছেন এই রেসলার! একে তো দীর্ঘদেহী, তার ওপর বিশাল বাহু। তাকে দেখলে যে কারও মনে পড়তে পারে সিনেমার দৈত্যচরিত্র হাল্কের কথা। হাল্কের সঙ্গে অবশ্য তার অনেক পার্থক্য। সিনেমার হাল্ক সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দেয়, আর মাঠের এই মানুষটি গড়ার কাজে নিয়োজিত।
ওয়েবস্টার কারিমাঞ্জিরা নামের এই 'বডি বিল্ডার' জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের ফিটনেস ট্রেইনার। ক্রেইগ আরভিন, সিকান্দার রাজাদের ফিটনেস ঠিক রাখার দায়িত্ব তার কাঁধে। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে এই কাজ করে আসছেন তিনি।
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটারদের কাছে কারিমাঞ্জিরা যতটা না ট্রেইনার, তারচেয়ে বেশি বডি বিল্ডার। বডি বিল্ডার নামটি শুনতে বেশ ভালো লাগে তার। ক্রিকেট মাঠে বেশিরভাগ সময় কাটলেও বডি বিল্ডিং করতে বেশি ভালোবাসেন। যে কারণে ৩১ বছর বয়সী এই ট্রেইনার জীবনের অর্ধেক সময়ই পার করেছেন জিমে।
এখনও নিয়মিত জিমে ঘাম ঝরান কারিমাঞ্জিরা। বিশ্রাম শুধু শনি ও রোববার; বাকি পাঁচদিন জিমে ব্যয়াম করেন। যদিও তার ছোটবেলার গল্প অন্য রকম। স্কুলে পড়াকালে ফুটবল পায়েই বেশি সময় কাটত তার, স্বপ্নও ছিল ফুটবলার হওয়ার। সে সময়ের কারিমাঞ্জিরাও ছিলেন রোগা-পাতলা।
'আগে থেকেই আপনার শরীর এমন?' মনে হলো প্রশ্নটা শুনে কিছুটা বিব্রতই হলেন কারিমাঞ্জিরা। বলে উঠলেন, 'না, না, তেমন নয়। স্কুলে আমি ফুটবল খেলতাম। তখন চিকন ছিলাম; খেলোয়াড়সুলভ দেহ ছিল আমার। কিন্তু বডি বিল্ডিংয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল। আস্তে আস্তে শুরু করি। শরীর বাড়ছে দেখে মজা পেয়ে যাই। এরপর নিয়মিতভাবে বডি বিল্ডিং করে আসছি।'
এমন শরীর বানাতে দীর্ঘ সময়ের জন্য জিমকেই ঘর-বাড়ি বানিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়টা তার ভাষায় অর্ধেক জীবন। কারিমাঞ্জিরা বলেন, 'এমন শরীর বানাতে আমার জীবনের অর্ধেক সময় চলে গেছে। ডায়েটের চেয়ে এখানে পুষ্টিকর খাবারের প্রতি বেশি জোর দিতে হয়। আর জিমের যে ব্যায়ামগুলো, সেগুলো নিয়মিত করতে হয়।'
জিম করা, ডায়েট, খাবারসহ নিজের ট্রেইনিংয়ের ধরন নিয়ে কারিমাঞ্জিরা বলেন, 'সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন জিম করতে হবে। আমি সাধারণত শনিবার ও রোববার বিশ্রামে থাকি। কিন্তু বেশিরভাগ দিন ডায়েট নিয়ে কাজ করি। প্রোটিন ও চর্বিযুক্ত খাবার না খাওয়ার চেষ্টা করি। বডি বিল্ডিং করতে গেলে আপনাকে আরও বেশি কাজ করতে হবে। বডি বিল্ডিং করতে আমি ভালোবাসি।'
ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিজের ট্রেইনিংয়ের পার্থক্যটাও জানালেন কারিমাঞ্জিরা। বললেন, 'ক্রিকেট এবং এখানকার ট্রেইনিং পুরোপুরি আলাদা। আমি জিমে যেটা করি, ক্রিকেটের সঙ্গে সেই ট্রেইনিংয়ের কোনো মিল নেই। ক্রিকেটের অনুশীলনে নমনীয়তার দরকার। এখানে আমার মতো বডি বিল্ডিংয়ের ব্যাপার নেই। আমার কাজ জিমে গিয়ে ওজন এবং মাসল বাড়ানো।'
এমন শরীর গড়তে ক্রিকেটারদের কখনই উদ্বুদ্ধ করেন না জিম্বাবুয়ের এই ট্রেইনার। কারণ তিনি জানেন মাঠে ক্রিকেটারদের কাজটা কী। তার ব্যাখ্যাটা এমন, 'এখানে অনেক বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হয়, ক্রিকেটারদের শারীরিক গঠন দেখলে সেটা বোঝা যায়। জন্মগতভাবে পাওয়া শারীরিক গঠন অনুসারে কাজ করতে হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল বা কাইরন পোলার্ডরা জন্মগতভাবেই এমন। ক্রিকেটারদের অবশ্যই খেলোয়াড়সুলভ দেহ থাকতে হবে।'
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ফিটনেস উন্নতিতে কী করা দরকার? এমন প্রশ্ন শুনে সবার আগে হয়তো ক্রিকেটারদের উচ্চতার কথা কারিমাঞ্জিরার মাথায় এসেছে।
তিনি বলেন, 'এখানকার ক্রিকেটারদের বেশি ট্রেনিং করা উচিত। শারীরিক গঠনের দিক থেকে তারা লম্বা নয়। এটা পুষিয়ে নিতে তাদের বেশি ট্রেনিং করতে হবে। সেই সঙ্গে আবাহাওয়া এবং পরিবেশও বড় ভূমিকা পালন করে। আমি আমার ছেলেদের যেভাবে নিয়ে কাজ করি, ওদেরও ওইগুলোই করতে বলব।'
