বিসিবি সভাপতির মন্তব্য এড়িয়ে গেলেন মুমিনুল
টেস্ট ম্যাচের আগেরদিন, একাদশ-উইকেট নিয়েই বেশি প্রশ্ন হওয়ার কথা। কিন্তু অক্রিকেটীয় প্রশ্ন শুনে শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলন শুরু করতে হলো প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে। প্রোটিয়া এই কোচ অবশ্য সাংবাদিকদের দেওয়া বাউন্সার ভালোই সামলেছেন। কিন্তু টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক এসব বাউন্সার খেলার চেষ্টাই করেননি, টেস্ট স্টাইলে ছেড়ে দিয়েছেন।
আলোচনাটা একাদশ এবং গেম প্ল্যান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে জানানো প্রসঙ্গে। কদিন আগে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট ঠিকভাবে এগোচ্ছে না। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বাঁচাতে আগের মতো করেই সবকিছুতে হস্তক্ষেপ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এমনকি ম্যাচের আগেরদিন একাদশ ও গেম প্ল্যানও জানতে চান তিনি।
বিসিবি সভাপতি বলেছিলেন, ‘সাধারণভাবে আগের ফর্মুলাতেই চলবে। ১৬ জনের স্কোয়াড নির্বাচকরা দিতে পারবেন। তারপর ১৬ হোক ১৩ হোক, এখান থেকে অধিনায়ক ও কোচ সেরা একাদশ নিতে পারবেন। কিন্তু আমি আগের দিন জানতে চাই গেম প্ল্যান কী।’
এমন দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে বিসিবি সভাপতির এই বিশেষ আগ্রহ কতটুকু যুক্তিযুক্ত? কিংবা এটা বিসিবি সভাপতিকে জানিয়ে মাঠে নামা কতটা কঠিন? এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল অধিনায়ক মুমিনুল হককে। উত্তর দেননি তিনি। বিসিবি সভাপতির মন্তব্য সম্পর্কে ধারণা নেই জানিয়ে মুমিনুল বলেছেন, ‘আমি উনার মন্তব্য শুনিনি। আপনাদের কাছ থেকেই শুনছি। ঠিক জানি না। এ বিষয়ে আমার জন্য মন্তব্য করা কঠিন।’
মুমিনুলের জন্য এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যতটা কঠিন, একাদশ-গেম প্ল্যান জানিয়ে মাঠে নামাটা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য তারচেয়ে অনেক বেশি কঠিন। কারণ অবস্থা বিবেচনায় অনেক সময় সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। কোচ, অধিনায়করা উইকেট দেখার পর নতুন সিদ্ধান্তও নিয়ে থাকেন। এমন হলে সেই পুরনো সুরেই বিসিবি সভাপতি বলে উঠবেন, ‘আমাকে বলা হয় একটা, মাঠে হয় আরেকটা।’
টেস্ট অধিনায়ক বিসিবি সভাপতির মন্তব্য এড়িয়ে গেলেও প্রধান কোচ উত্তর দিয়েছেন। ডমিঙ্গো জানিয়েছেন, দল নিয়ে সবকিছু জানাতে হবে, এমন নির্দেশনা তিনি পাননি। তবে সংবাদ সম্মেলনে এ জাতীয় প্রশ্ন যে তার জন্য বিব্রতকর, সেটা তার উত্তরে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচ বলেছেন, ‘বিসিবি সভাপতির সঙ্গে দল নিয়ে আমার বোঝাপড়াটা বেশ দারুণ। তিনি চান, দল সত্যিই ভালো করুক। গত সপ্তাহে খুব ভালো অনুশীলন সেশন হয়েছে আমাদের। তবে হ্যাঁ, এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে কথা হয়নি। আর দল নিয়ে কাউকে সবকিছু বলতে হবে, আমার কাছে এমন নির্দেশনা আসেনি। এমন কিছু করতে হবে, সেই ধারণা আমার নেই।’
বাংলাদেশ ক্রিকেটের যেকোনো সিদ্ধান্তে বিশেষ ভূমিকা থাকে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের। মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে; গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত তাঁকে ছাড়া নেয়া হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেটে এমন নজির নেই বললেই চলে। মাঝে কয়েক মাস সেভাবে হস্তক্ষেপ না করলেও আবারও পুরনো ভূমিকায় ফিরতে যাচ্ছেন নাজমুল হাসান।
