হার, হার, হার, হার এবং হার
সম্ভবত এই রিপোর্ট পড়ার ইচ্ছা আর নাও থাকতে পারে কারও। শিরোনামই বলে দিচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মিশনটা কেমন গেল। হারে শুরু, হারেই শেষ। হারের বৃত্তে বন্দি থাকা বাংলাদেশ হতাশার সমুদ্রে হাবুডুবু খেয়ে শেষ করল বিশ্বকাপ মিশন। সুপার লিগে শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও হারই অমোঘ নিয়তি হয়ে উঠল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের জন্য।
বৃহস্পতিবার দুবাইয়ে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। এদিন হারের ষোলকলা পূর্ণ হলো বাংলাদেশের। সেমি-ফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছাড়া দলটিই বিশ্বকাপ মিশন শেষ করলো সবচেয়ে বাজেভাবে। এবারের আসরে বাংলাদেশ একমাত্র দল, যারা মূল পর্বে কোনো জয় পায়নি। স্কটল্যান্ডও জয় পায়নি, তবে তাদের আরও দুটি ম্যাচ বাকি আছে।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হয়েছিল হার দিয়ে। প্রথম রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। শেষেও থাকলো হার। পার্থক্য এতটুকু এবারের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। শুরু আর শেষের বিন্দু একই জায়গায়। মাঝে কেবল দুটি জয়। এ ছাড়া বিসিবি সভাপতি- ক্রিকেটারদের কথার লড়াই, সমালোচনা, বিতর্ক, ক্যাচ মিস, চরম হতাশার ব্যাটিংয়ে সময় কেটেছে বাংলাদেশের।
টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন বাংলাদেশের সব ব্যাটসম্যান। এই ম্যাচেই সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। ম্যাচসেরা অ্যাডাম জ্যাম্পা, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউডদের দার্দান্ত বোলিংয়ের সামনে ১৫ ওভারে মাত্র ৭৩ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ৬.২ ওভারে ২ উইকেট হারিয়েই জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। বিশাল জয়ে রান রেট পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে উঠে গেল অজিরা।
৭৩ রানের ইনিংসটি টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। চলতি বিশ্বকাপে এটা চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এর আগের সর্বনিম্ন ছিল ৯ উইকেটে ১০৪ রান। ঘরের মাঠে গত আগস্টের সেই সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ৬২ রানে অলআউট করে সর্বনিম্ন রানের লজ্জা দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেটাই যেন সুদসহ ফিরিয়ে দিল অজিরা।
মামুলি লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে দাপুটে শুরু করেন দুই অজি ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার। চার-ছক্কার ফুলঝুরি সাজিয়ে মাত্র ৫ ওভারে ৫৮ রানের জুটি গড়েন তারা। তাসকিনের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২০ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪০ রান করেন অধিনায়ক ফিঞ্চ। ওয়ার্ডার ১৪ বলে ১৮ রান করেন। মিচেল মার্শ ৫ বলে ১৬ রান করে জয়ে তুলে নেন। একটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম।
এর আগে ব্যাটিং করা বাংলাদেশের ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভাঙনের সুর বেজে গেছে। অ্যাডাম জ্যাম্পা, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউডদের আগুনে বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানই দলকে পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। ৩৩ রানের মধ্যেই ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস যে এলোমেলো হয়ে পড়ে, সেটা আর গুছিয়ে তুলতে পারেননি কোনো ব্যাটসম্যান। সর্বোচ্চ ১৯ রানের ইনিংস ইনিংস খেলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। এ ছাড়া অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৬ ও নাঈম শেখ ১৭ রান করেন।
বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। চারজন ব্যাটসম্যান রানের খাতাই খুলতে পারেননি। তারা হলেন লিটন দাস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, শেখ মেহেদি হাসান ও শরিফুল ইসলাম। এ ছাড়া সৌম্য সরকার ৫, মুশফিকুর রহিম ১, তাসকিন আহমেদ ৬* ও মুস্তাফিজুর রহমান ৪ রান করেন।
বাংলাদেশের ইনিংসে আঘাত হেনে শুরুটা করে দেন মিচেল স্টার্ক। এরপর যোগ দেন জশ হ্যাজেলউড। আর বাকিটা বলতে গেলে একাই শেষ করে দেন অ্যাডাম জ্যাম্পা। অজি এই লেগ স্পিনার ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান খরচায় ৫টি উইকেট নেন। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং এই ফরম্যাটে তার সেরা বোলিং। স্টার্ক ও হ্যাজেলউড ২টি উইকেট নেন। একটি উইকেট পান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।
