‘আজ ইরানে হামলা চালাব না’: আক্রমণের হুমকি দেওয়ার পরই মত বদলালেন ট্রাম্প
ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই 'আগামীকালই' ইরানে হামলা হতে পারে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরবর্তীতে মত বদলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, 'আজ' দেশটিতে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র।
রোববার (২৫ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'না, আজ হামলা চালাব না।'
এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র 'আগামীকালই' ইরানে হামলা চালাতে পারে; আবার তেহরানের সঙ্গে 'বড় ও চমৎকার' একটি চুক্তিতেও পৌঁছাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। এদিকে ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরানের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে বারবার সতর্ক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
গতকাল ইরানের দুই কর্মকর্তা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই দুই কর্মকর্তার একজন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদস্য।
ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে তিনি কতটা অগ্রসর হয়েছেন জানতে চাইলে শনিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। হয়তো আগামীকালই।'
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আপনারা কি সত্যিই মনে করেন, আমি আপনাদের বলে দেব যে হামলা চালাব কি না?'
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছালে ইরান আরও সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে পারে।
ইরান যাতে শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে—সেটিই তার লক্ষ্য উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, 'আমাকে এটি স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করতে হবে। আমি এটি করছি শুধু এই কারণেই।'
ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি ট্রাম্প। বরং সামরিক অভিযান ও আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা—দুটি সম্ভাবনাই খোলা রেখেছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, 'আমাকে হয়তো এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে হবে, অথবা তারা চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। তবে আমি নিশ্চিত নই। যেভাবেই হোক, জয় আমাদেরই হবে।'
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতি এবং শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সমঝোতা হলেও সংকটের এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
