নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলা-ভাঙচুর: জামায়াত এমপির জামাতাসহ ৩ জন কারাগারে
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রোপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানসহ তিন জনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার আরও তিন আসামিকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালত এই আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক তারেকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কারাগারে যাওয়া বাকি দুই আসামি হলেন- আসলাম ও শাহ আলম অনিক।
আর রিমান্ডে যাওয়া তিন আসামি হলেন- মামুন, মুন্না ও শাহরিয়ার মাহমুদ।
এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর জেহাদ হোসেন ৬ আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এদের মধ্যে মিজানুর রহমান, আসলাম, শাহ আলম অনিককে কারাগারে আটক রাখার আবেদন এবং মামুন, মুন্না ও শাহরিয়ার মাহমুদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন এই তদন্তকারী কর্মকর্তা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এতথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, 'তিন আসামির পক্ষে রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন এবং অপর তিন আসামির জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধীতা করি। শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির তিন দিনের রিমান্ড এবং অপর তিন আসামির জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।'
গত ১ অক্টোবর মিজানুর রহমান, আসলাম, শাহ আলমের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগের দিন ৩০ সেপ্টেম্বর আসামি মামুন, মো. আসলাম ও মো. মুন্না নামে তিন আসামির তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানার দক্ষিণ মানিকদীর ইসিবি চত্বরের 'নিউগিনি প্রোপোর্টিজ লিমিটেড'-এর প্রকল্প এলাকায় আনুমানিক ৫০ জন দুষ্কৃতকারী বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। এসময় তারা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
আরও বলা হয়, হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি ক্যাবল, ক্যামেরা ও প্রফেশনাল মিডিয়া ইকুইপমেন্টসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে বাদী প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং এক কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ওই সময়ে আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের 'ব্রাউন ফিস' নামের স্টুডিওতে অনাধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে।
এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
