বৈধ নথিবিহীন ১৫০ বাংলাদেশিকে কাশ্মীর থেকে ফেরত পাঠানোর দাবি ভারতের
বৈধ নথি ছাড়া অবস্থানের অভিযোগে ১৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে জম্মু-কাশ্মীর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাশ্মীর থেকে একসঙ্গে এত বড় সংখ্যায় বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম।
একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য প্রিন্ট-কে বলেন, 'কাশ্মীরে অবস্থানরত শ্রমিকদের নিবন্ধনের জন্য আধার কার্ড প্রদর্শন করতে বলা হয়েছিল। তখন তাদের তথ্যে গরমিল ধরা পড়ে। পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশে পাঠিয়ে তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং ফরেনার্স অ্যাক্টের (বিদেশি আইন) অধীনে সম্পন্ন করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গে মালদা ও বাগডোগরা নামে দুটি ট্রানজিট পয়েন্ট রয়েছে। সেখান থেকে বিএসএফ সদস্যরা তাদের সশরীরে সীমান্ত পার করে দেয়।'
বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) একটি বিশেষ বিমান ব্যবহার করা হয়। বাগডোগরায় পৌঁছানোর পর তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গঠিত 'হাই-লেভেল কমিটি অন ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জেস' (এইচএলসিডিসি) জম্মু-কাশ্মীর সফরের কয়েক মাস পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। গত বছর ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি 'হাই-পাওয়ার্ড ডেমোগ্রাফি মিশন' ঘোষণার পর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভালকারের নেতৃত্বে কমিটিটি গঠন করা হয়।
অবৈধ অভিবাসন পর্যালোচনার জন্য গঠিত চার সদস্যের কমিটি বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সফরের আগে গত জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে। পরে ১০ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত কমিটিটি জম্মু অঞ্চল সফর করে। এ সময় তারা নারওয়ালের কারইয়ানি তালাবে অবস্থিত রোহিঙ্গা বসতিও পরিদর্শন করে।
কমিটির তথ্যানুযায়ী, জম্মু-কাশ্মীরে মোট ৫০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিকের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে জম্মুতে ৪৬ জন এবং কাশ্মীর উপত্যকায় ৪৫৮ জন রয়েছেন।
এদিকে আগামী ৭ অক্টোবর আরও একদল বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।
