তাপপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় লন্ডনে বাতিল হলো জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক অনুষ্ঠান
লন্ডনে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে চরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাপপ্রবাহ মোকাবিলার উপায় নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ জলবায়ু বিষয়ক অনুষ্ঠানই শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকরা।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের (এলএসই) 'শ লাইব্রেরি'-তে 'ক্লাইমেট অ্যাকশন উইক'-এর অংশ হিসেবে বুধবার এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ব্রিটিশ আবহাওয়া দপ্তর 'মেট অফিস' বৃহত্তর লন্ডনের জন্য বিরল 'রেড ওয়েদার ওয়ার্নিং' জারি করার পর অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, লন্ডন থেকে সোয়ানসি এবং সমারসেট থেকে বার্মিংহাম পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত এই সতর্কতা জারি থাকবে।
বাতিল হওয়া এই অনুষ্ঠানটির শিরোনাম ছিল— 'এক্সট্রিম হিট: ইমপ্রুভিং গভর্নেন্স অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং অ্যাকশন অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড' (চরম তাপপ্রবাহ: বিশ্বজুড়ে সুশাসন ও কার্যকর পদক্ষেপের উন্নয়ন)। এটি আয়োজন করেছিল গ্রান্থাম রিসার্চ ইনস্টিটিউট অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যালায়েন্স জানায়, 'লন্ডনের অধিকাংশ ভবনের মতো এই অনুষ্ঠানের ভেন্যুতেও কোনো কৃত্রিম শীতলীকরণ ব্যবস্থা (কুলিং মেকানিজম) নেই। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে যাতায়াত এবং ভেন্যুর অস্বস্তিকর পরিবেশের কারণে আমরা বক্তা বা অতিথিদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিতে পারি না।'
আয়োজক সংস্থাটি আরও বলে, 'যারা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তাদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য ধন্যবাদ। যারা বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন, দয়া করে নিরাপদ থাকুন।'
মেট অফিস জানিয়েছে, এবারের নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কিছু অংশে তা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে রাতের বেলাও আবহাওয়া গুমোট ও উত্তপ্ত থাকবে, যা মানুষের শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে বাধা দেবে। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এই মাত্রার তাপপ্রবাহ অত্যন্ত বিরল।
জুরিখ ক্লাইমেট অ্যালায়েন্সের মতে, 'ভবিষ্যতে চরম তাপপ্রবাহের প্রভাব কতটা ভয়াবহ হবে তা নির্ভর করবে বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা ও কর্মপরিকল্পনার ওপর। লন্ডনের মতো শহরগুলোর উচিত বিভিন্ন স্তরে কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই বদলে যাওয়া তাপমাত্রার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া।'
অলাভজনক সংস্থা 'প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন'-এর একজন মুখপাত্র 'দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট'-কে বলেন, 'যুক্তরাজ্যের মতো দেশই যদি এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খায়, তবে আমাদের উচিত জলবায়ু পরিবর্তনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং বিশ্বজুড়ে যা ঘটছে তা থেকে শিক্ষা নেওয়া।'
এদিকে মঙ্গলবার থেকেই ইস্ট মিডল্যান্ডস, পূর্ব ইংল্যান্ড, লন্ডন, দক্ষিণ-পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম, ওয়েলস এবং ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে 'অ্যাম্বার' বা কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই প্রচণ্ড গরমে মৃত্যুর হার বাড়তে পারে, বিশেষ করে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং আগে থেকেই অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া তীব্র গরমের কারণে মানুষের স্বাভাবিক কাজ করার সক্ষমতাও ব্যাহত হবে।
