এভারেস্টে ৩০ বছর ধরে জমে থাকা পর্বতারোহীর দেহাবশেষ উদ্ধারে অভিযানে নামছে ভারত
মাউন্ট এভারেস্টে প্রায় ৩০ বছর আগে নিহত এক পর্বতারোহীর জমে থাকা মরদেহ উদ্ধার করতে একটি অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ পর্বতের উত্তর ঢাল থেকে দীর্ঘদিন ধরে 'গ্রিন বুটস' নামে পরিচিত ওই পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধারের জন্য অতি-উচ্চতায় কাজ করা উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করেছে।
দরপত্রে বলা হয়েছে, চুক্তিবদ্ধ দলকে চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে মরদেহটি দিল্লিতে নিয়ে আসতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এভারেস্টে এখন পর্যন্ত পরিচালিত সবচেয়ে জটিল উদ্ধার অভিযানের একটি হবে। এটিকে স্বাভাবিক পর্বতারোহণের তুলনায় 'দ্বিগুণ ঝুঁকিপূর্ণ' বলে মন্তব্য করেছেন নেপালভিত্তিক 'এভারেস্ট শেরপা এক্সপেডিশন'-এর প্রতিষ্ঠাতা তাশি জাংবু শেরপা।
তাশি জাংবু শেরপা সিবিএস নিউজকে বলেন, 'পুরো উদ্ধারকারী দলটির জন্য এটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।'
তিনি আরও জানান, তিনি একাধিকবার এভারেস্ট শীর্ষে পৌঁছেছেন এবং ২০২৪ সালে অঞ্চলের বিভিন্ন পর্বত থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মতে, গ্রিন বুটসের মরদেহ উদ্ধার করতে ১০ সদস্যের একটি প্রশিক্ষিত দলের প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
জাংবু শেরপার মতে আবহাওয়ার কারণে বসন্তের আগে এই অভিযান শুরু করা প্রায় অসম্ভব। এতে দরপত্রে উল্লেখিত জুন থেকে অক্টোবর সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ সিবিএস নিউজের মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি।
গ্রিন বুটস কে?
'গ্রিন বুটস' নামে পরিচিত ওই মরদেহটি দশকের পর দশক ধরে এভারেস্টের অন্যতম পরিচিত চিহ্ন হয়ে আছে। মূলত মৃত পর্বতারোহীর উজ্জ্বল সবুজ বুট জুতার কারণে এই নামটি দেওয়া হয়েছে।
প্রায় ২৭ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই মরদেহটি তাশি জাংবু শেরপার মতে তিব্বতের দিক থেকে শীর্ষে ওঠা পর্বতারোহীদের জন্য একটি ভয়াবহ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
তিনি সিবিএস নিউজকে বলেন, 'যখন তারা বেসক্যাম্প বা অন্য পর্বতারোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তারা বলে—ঠিক আছে, আমরা এখন গ্রিন বুটসের খুব কাছাকাছি।'
এই অঞ্চলটি এভারেস্টের 'ডেথ জোন'-এর মধ্যে পড়ে, যা ২৬ হাজার ২০০ ফুটের ওপরে অবস্থিত। এখানে অক্সিজেন এত কম যে দীর্ঘ সময় মানুষের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। এর ফলে সাধারণ কাজও অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো, গ্রিন বুটস ছিলেন ২৮ বছর বয়সী ত্সেওয়াং পালজর, যিনি ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালের ১০ মে একদল পর্বতারোহীর সঙ্গে এভারেস্টে ওঠার চেষ্টা করেন। তখন হঠাৎ ভয়াবহ তুষারঝড় শুরু হয়। সেই ঘটনার বর্ণনা রয়েছে জন ক্রাকাওয়ারের বই 'ইনটু থিন এয়ার'-এ।
ঝড়ের মধ্যেও দলের তিনজন পর্বতারোহী শীর্ষে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যান, কিন্তু কেউই ফিরে আসেননি। গ্রিন বুটস হচ্ছেন সেই তিনজনের মধ্যে একমাত্র ব্যক্তি, যার মরদেহ পরবর্তীতে খুঁজে পাওয়া গেছে।
তবে দরপত্রের নথিতে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট মরদেহটি ভারতীয় সৈনিক দর্জে মোরুপের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি পালজরের সহযাত্রী ছিলেন।
দ্য গার্ডিয়ান এবং এএফপি জানিয়েছে, তারা এমন নথি দেখেছে যেখানে ডিএনএ পরীক্ষায় মরদেহটি মোরুপের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
