হরমুজে টোল আদায়, শেষ মুহূর্তের আলোচনায় যে ছাড় আদায় করল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের উপস্থিতিতে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই সমঝোতা স্মারক সই হবে।
এই সমঝোতা স্মারক হবে দুই দেশের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির পথে প্রথম ধাপ। আর এনিয়ে আলোচনার একেবারে শেষ মুহূর্তে বড় একটি ছাড়ও আদায় করে নিয়েছে তেহরান। যার আওতায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ফি বা টোল আরোপের সুবিধা আদায় করে নিয়েছে ইরান।
একেবারে শেষ মুহূর্তে একটি সংশোধনীর মাধ্যমে এই সুবিধা নিয়েছে ইরান।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) চূড়ান্ত করার স্বার্থে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নৌপথের ওপর কেবল ইরান ও ওমানের যৌথ কর্তৃত্ব বা সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
আগামী ৬০ দিনের জন্য তেহরান এই প্রণালী দিয়ে অবাধ ও টোলমুক্ত জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা দেবে। তবে এই সময়সীমা পার হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা, নৌচলাচল, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং বীমা সংক্রান্ত সেবার ব্যয় মেটাতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে টোল দিতে হবে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের প্রধান এই তেল সরবরাহ রুটটি "স্থায়ীভাবে টোল-মুক্ত" থাকবে বলে দাবি করার পরই ইরানের পক্ষ থেকে নতুন এই তথ্য সামনে এল।
ফার্স নিউজ জানিয়েছে, "আলোচনার শেষ মুহূর্তে সমঝোতা স্মারকের খসড়াটি সংশোধন করা হয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরান ও ওমানের যৌথ সার্বভৌমত্বের বিষয়টি পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্টভাবে বজায় থাকে।"
মূল ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে তেহরান এই সামুদ্রিক সেবা ফি সংক্রান্ত ধারাটি চুক্তিতে যুক্ত করে।
"এখানে 'সামুদ্রিক সেবা' (ম্যারিটাইম সার্ভিসেস) শব্দবন্ধটি ব্যবহারের অর্থ হলো—ইরানকে যে ফি প্রদান করা হবে, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত তা মেনে নিয়েছে" –বলে উল্লেখ করে ফার্স নিউজ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজে ইরানের পেতে রাখা সামুদ্রিক মাইনগুলো অপসারণের করার কাজ শেষ হলে, আগামী শুক্রবার থেকেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় পুরোদমে খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন।
