জুলাই হত্যা মামলায় অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের জামিন নামঞ্জুর
জুলাই আন্দোলন চলাকালীন রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ সোমবার (১৫ জুন) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত এই আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউ মার্কেটের নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন। এ ঘটনায় আব্দুল ওয়াদুদের শ্যালক আব্দুর রব নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।
আবুল বারকাতের আইনজীবী বাবুল মিয়া জামিন শুনানিতে বলেন, 'গত ৭ জুন দুদকের মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান আবুল বারকাত। নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। কারাগার থেকে মুক্তির আগমুহূর্তে আবারও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কি কারণে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো, এই ঘটনার সাথে তার কি সম্পৃক্ততা রয়েছে তা আমাদের জানা নেই।'
এসময় বারকাতের আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন আদালতের কাছে তার অসুস্থতা ও বয়স বিবেচনায় জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, 'উনি যে ব্যক্তি তাতে তার এই ঘটনার সাথে কোনো সম্পর্ক বা জড়িত থাকার কথা নয়। এবং তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। আমরা তার জামিনের প্রার্থনা করছি।'
এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে বলেন, 'এই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা তার সম্পৃক্ততা পেয়েছেন। দেশ থেকে হাজার কোটি টাকা অর্থ দেশ থেকে পাচার করেছেন। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। তাই তাকে জামিনের বিরোধিতা করছি। দুই পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আসামির জামিন না মঞ্জুর করেন।'
এর আগে, গত রোববার (১৪ জুন) এই মামলায় আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার পক্ষের আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করলে আদালত আজ সোমবার শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেন। এরপর আদালত আবুল বারকাতকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত বছরের ১০ জুলাই রাতে ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
