ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভর্তুকির চাহিদা বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের ভর্তুকির বোঝা আরও বড় হতে যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানির খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এই বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত তহবিল দাবি করছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন খাতের ভর্তুকি বাবদ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে জমা পড়েছে। এই বিশাল চাহিদার তিন-চতুর্থাংশই এসেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
সবচেয়ে বড় চাহিদার প্রস্তাবটি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ; তারা পুরো অর্থবছরের জন্য বিদ্যুৎখাতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রাথমিক জ্বালানির মূল্য পরিশোধে আগামী অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) জন্যই ২৭ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এছাড়া কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আরও ৩০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির প্রস্তাব দিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, বাড়তি ভর্তুকির চাহিদা জানিয়েছে ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থবিভাগের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাড়তি ভর্তুকির কারণে হিসেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বিশ্ববাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া, গ্যাস স্বল্পতার কারণে অন্যান্য জ্বালানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়া এবং ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়াকে উল্লেখ করেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সারের দাম ও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণ জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। আর বাড়তি দামে খাদ্য কেনা, পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়া ও সুবিধাভোগী বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
অর্থবিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিবিএসকে জানিয়েছেন, "বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বাড়তি ভর্তুকির চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বাড়তি ভর্তুকি চাচ্ছে। বিশেষত বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে চাহিদা বেশি। তবে এই চাহিদাই শেষ কথা নয়।"
তিনি বলেন, বিদ্যুতের মূল্যে সরকার ভর্তূকি দিয়ে থাকে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটেও বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকি হিসেবে ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হবে। তবে এর চূড়ান্ত পরিমাণ এখনও ঠিক হয়নি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, "বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা হয় যেসব জ্বালানি—বিশেষত গ্যাস, ফার্নেস অয়েল, কয়লার দাম বেড়েছে। অন্যদিকে টাকার মান কমেছে। ফলে ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা বাড়বে। আবার বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হলে ভর্তুকির পরিমাণ কমতে পারে।"
এরই মধ্যে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গতকাল গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ১৬.৬৮ শতাংশ (১ টাকা ৫২ পয়সা) বাড়িয়েছে। বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি চলতি জুন মাসের বিল থেকেই কার্যকর হবে। এর ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎখাতে সরকারের ভর্তুকি প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায়—আমদানির খরচ সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনে নেয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এরপর সংস্থাটি সরকার নির্ধারিত পাইকারি দামে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে, যা সাধারণত ক্রয়মূল্যের চেয়ে কম হয়ে থাকে। ক্রয়-বিক্রয় জনিত যে পার্থক্য হয়, সেটি সরকার ভর্তুকি হিসেবে দিয়ে থাকে বিপিডিবিকে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি, সার, জ্বালানি তেল ও খাদ্যের দাম কমে আসবে। তখন ভর্তুকি কম লাগতে পারে। ফলে ভর্তুকির পুরো চাহিদা অনুযায়ী বাজেটে বরাদ্দ রাখা হবে এমন নয়। বর্তমান বাজারের প্রেক্ষিতে একটা যৌক্তিক বরাদ্দ রাখা হবে। প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে এটি বাড়ানো বা কমানো হবে।"
সরকার আগামী বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা এবং নগদ ঋণ খাতে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করছে। এই তহবিলের মধ্যে ৮০ হাজার কোটি টাকা মূল ভর্তুকি খাতের জন্য নির্দিষ্ট করা হতে পারে। কৃষি, রপ্তানি, পাটজাত পণ্য ও রেমিট্যান্স খাতের প্রণোদনা বাবদ ৩৩ হাজার কোটি টাকা ও নগদ ঋণ বাবদ ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। এর তুলনায় বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এই তিন ক্যাটাগরিতে মোট ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
বিদ্যুৎ বিভাগের ৫৯ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রস্তাব
গত ২৪ মে তারিখে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে অর্থবিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎখাতে গ্যাসের দাম বেড়েছে ২০৮ শতাংশ। ডলারের বিপরীতে টাকার মানের ব্যাপক অবমূল্যায়ন হয়েছে। গ্যাস স্বল্পতার কারণে তরল জ্বালানির ব্যবহার বেড়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিপিসি থেকে সরবরাহ করা প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা নির্ধারণ করায় জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়বে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৫৯ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হবে বলে প্রাক্কলন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমান তাপদাহে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি বকেয়া থাকায় যথাসময়ে কয়লা ও জ্বালানি তেল আমদানি করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিপিডিবি জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের (আইপিপি) জন্য ৪৫ হাজার ৪০ কোটি টাকা ভর্তূকি লাগবে। মাতারবাড়ীতে অবস্থিত কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) এর জন্য ভর্তুকি লাগবে ৪ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা, রেন্টাল বিদ্যুতে ভর্তুকি লাগবে ২.৫০ কোটি টাকা, নেপাল ও ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতে ভর্তুকি লাগবে ১ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা এবং ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের জন্য ৭ হাজার ৮২১ কোটি টাকা ভর্তুকি লাগবে।
আমদানি করা বিদ্যুতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে
আমদানি করা বিদ্যুতে এবং যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত (জয়েন্ট ভেঞ্চার) বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুতে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ৭ মে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা পরিষদ কমিটির সভায় জয়েন্ট ভেঞ্চার, আদানি পাওয়ারসহ ভারত ও নেপাল থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ ভর্তুকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বিআর পাওয়ারজেন লিমিটেডের জন্য ২০২৫ সালের ৬ মার্চ থেকে, বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগের আরপিসিএল-নোরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেডের জন্য ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে, আদানি পাওয়ারের অবিতর্কিত দাবির ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে এবং একই তারিখ থেকে ভারত ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে এই ভর্তুকি সুবিধা কার্যকর হবে।
৬ মাসের গ্যাস ভর্তুকিতেই লাগবে ২৭ হাজার কোটি টাকা
অর্থবিভাগের সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) মাসের জন্য পেট্রোবাংলা ২৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। তবে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, প্রকৃত ভর্তুকি কত লাগবে তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর। বন্ধ থাকা হুরমুজ প্রনালী যদি চালু হয়, কাতার এবং ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নিরবচ্ছিন্নভাবে এলএনজি আমদানি করা গেলে এবং যুদ্ধ বন্ধ হলে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম কমলে, এই পরিমাণ ভর্তুকির প্রয়োজন হবে না।
জ্বালানি বিভাগের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিবিএসকে বলেন, "যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনা করে অর্থবিভাগের কাছে এই ভর্তুকি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতি ইউনিট এলএনজি গড়ে ২০ ডলার দাম ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পুরো অর্থবছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হবে।"
চলতি অর্থবছরের বাজেতে গ্যাসখাতে ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। যদিও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এই পরিমাণ সরকারকে বাড়াতে হয়েছে। অর্থবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল পর্যন্ত গ্যাসের ভর্তুকি বাবদ ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। আর মে মাসে ১১টি কার্গো আমদানি করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আরও ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি ছাড় করার অনুরোধ করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। আর শুধুমাত্র জুন মাসের জন্যই প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
খাদ্য ও কৃষি খাত
আগামী অর্থবছরের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় ১২ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি বরাদ্দ চেয়েছে। কৃষি খাতের ভর্তুকি মূলত সার, বীজ এবং সেচ কর্মসূচিতে সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হয়। চলতি অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ১৭ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয় খোলা বাজারে বিক্রি (ওএমএস ) এবং বিভিন্ন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে চাল ও আটা সরবরাহ করে থাকে। কর্মকর্তারা বলছেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে ধান ও চালের দাম বেড়েছে। বেড়েছে পরিবহন খরচও। এছাড়া এসব কর্মসূচির সুবিধাভোগীও বাড়ছে। ফলে আগামীতে বাড়তি ভর্তুকি লাগবে।
এছাড়া সরকার রপ্তানি, রেমিট্যান্স এবং পাটজাত পণ্যের জন্য প্রণোদনা হিসেবে আরও ১৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করছে।
'অদক্ষতা ও সুশাসনের অভাব'
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমদিা খাতুন টিবিএসকে বলেন, "মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভর্তুকি বাড়তে পারে। তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়। বরং বিদ্যুৎখাতে অদক্ষতা, দুর্নীতি, সম্পদের অপচয়, ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এ খাতটি লাভজনক হওয়ার পরিবর্তে ভর্তুকি দিয়ে চালাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ খাতের দক্ষতা, সুশাসনে উন্নতি হচ্ছে না। যেকারণে ভর্তুকি কমিয়ে আনার পরিবর্তে বাড়াতে হচ্ছে।"
তিনি বলেন, "সরকারকে অদক্ষতা দূর, দূর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে।"
এই অর্থনীতিবিদ বলেন, "বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত অনেক কম। এরমধ্যে ভর্তুকি বাড়লে অর্থায়ন কোথা থেকে হবে—সেটি এখন বড় প্রশ্ন। যদিও আগামী অর্থবছরে সরকার রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। কিন্তু সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে কিনা—সেটি নিয়ে সংশয় রয়েছে। সরকার ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে বাজেটের অর্থায়ন করলে—সেটি মূল্যষ্ফীতিকে উস্কে দেবে, বেসরকারি খাতের ঋণচাহিদা পূরণ করাও ব্যাংকগুলোর জন্য কঠিন হবে।"
