Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Monday
June 01, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
MONDAY, JUNE 01, 2026
শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: গৃহকর্মীরা কেনা দাসী নয়, পরিবারের অপরিহার্য সদস্য

মতামত

শাহানা হুদা রঞ্জনা
04 February, 2026, 10:15 pm
Last modified: 04 February, 2026, 10:19 pm

Related News

  • রামিসারা: ধর্ষণ ঠেকাতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা নিতে হবে রাষ্ট্রকেই
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে চিকিৎসক দম্পতি গ্রেপ্তার
  • কুষ্টিয়ায় যুবককে হাত-পা বেঁধে শরীরে পেরেক ঢুকিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ
  • কুমিল্লায় বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ
  • চট্টগ্রামে বিএনপির সাইনবোর্ড লাগিয়ে দোকান দখল, দোকানি নারীকে নির্যাতন ও লুটের অভিযোগ

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: গৃহকর্মীরা কেনা দাসী নয়, পরিবারের অপরিহার্য সদস্য

গৃহকর্মী নির্যাতন, বিশেষ করে ‘শিশু গৃহকর্মী’ নির্যাতন ইস্যুটা আবার সামনে উঠে এলো ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি ও সিইও শাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বিথী এই ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত। কারাগারে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন শাফিকুর রহমানের বাসার দুই গৃহকর্মী।
শাহানা হুদা রঞ্জনা
04 February, 2026, 10:15 pm
Last modified: 04 February, 2026, 10:19 pm
শাহানা হুদা রঞ্জনা। স্কেচ: টিবিএস

মনে করার কোনো কারণ নেই যে মানুষ উচ্চপদে আসীন, ধনী বা শিক্ষিত হলে বা কারো তারকা খ্যাতি থাকলেই সে তার অধীনস্থ মানুষের সাথে ভালো আচরণ করবে। শুধু সৌদি আরব, লেবানন বা অন্য কোনো দেশে নয়, বাংলাদেশেও সামান্য অপরাধে গৃহকর্মীকে পিটিয়ে মেরে ফেলা, নির্যাতন করা, চড়-থাপ্পড় মারা, খেতে না দেওয়ার মতো অপরাধগুলো নিয়মিত করা হয়। সবচেয়ে বেশি যা করা হয়, তা যৌন নিপীড়ন।

বহু প্রতিষ্ঠিত ও শিক্ষিত পরিবারে অল্পবয়স্ক গৃহকর্মীকে 'সেবাদাসী' বানানোর চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটে। সেক্ষেত্রে শিশু গৃহকর্মী হলে নির্যাতন করা আরও সহজ হয়। এদের বেতন কম বা না দিলেও চলে, এরা আক্রমণ ঠেকাতে পারে না, ভয় পায়; তাই অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করতে বাধ্য হয়।

দু-মুঠো ভাত, বছরে ২-৪টি কাপড়, সস্তা পাউডার, চুড়ি, মালা, কানের দুল; ব্যাস, এই তো চাহিদা মানুষগুলোর। যেখানে কাজ করতে আসে, সেখানেও তারা পায় না ঠিকমতো বিশ্রাম, খাওয়া-দাওয়া, সেবা, ভালোবাসা এবং সম্মান। মোট কথা, আমাদের দেশের অধিকাংশ গৃহকর্মী এভাবেই শহরে কাজ করে যাচ্ছেন।

গৃহকর্মী নির্যাতন, বিশেষ করে 'শিশু গৃহকর্মী' নির্যাতন ইস্যুটা আবার সামনে উঠে এলো ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি ও সিইও শাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বিথী এই ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত। কারাগারে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন শাফিকুর রহমানের বাসার দুই গৃহকর্মী।

ওই শিশু গৃহকর্মীর বাবাকে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—মেয়েটির বিয়েসহ যাবতীয় খরচ এই 'ধনী গৃহকর্তা' বহন করবে। এতে রাজি হয়ে গত বছরের জুন মাসে ১১ বছর বয়সী মেয়েটিকে এই বাসায় কাজে দেওয়া হয়েছিল। এরপর মেয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে মেয়েকে আনতে গিয়ে দেখেন, তার মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম। মেয়েটি ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কীভাবে এমন হলো জানতে চাইলে বিথী সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে দেখা গেল মেয়ের শরীরে মারধর ও গরম খুন্তির ছ্যাঁকার চিহ্ন। এই অবস্থায় শিশুটিকে চিকিৎসা না করিয়েই বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বোঝা গেল, এরা 'ভদ্রলোক' নামের অমানুষ।

আমাদের দেশে এখনও গৃহকর্মীকে 'দাস' বলে মনে করা হয় এবং সেভাবেই ব্যবহার করা হয়। এদের মধ্যে কেউ কেউ সুবিধা পেয়ে ভালো আছেন, কিন্তু কয়জন? যখন কোনো মানুষ অন্যের বাড়িতে 'গৃহকর্মী' হিসেবে কাজ করেন, তখন সমাজে তার মর্যাদা থাকে না। এরপরও শুধুমাত্র পেটের তাগিদে শিশু থেকে বয়স্ক নারী—সবাই গৃহকর্মীর তালিকায় নাম লেখাতে বাধ্য হচ্ছেন। শুধুমাত্র থাকা-খাওয়ার অভাব না হলে কেউ বাসায় কাজ বা 'দাসত্ব' করতে আসত না।

গৃহকর্মী নির্যাতন আমাদের সমাজে খুব প্রচলিত অপরাধ। শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আমরা শিশুশ্রমিক বা শিশু গৃহকর্মী রাখি। এদের প্রতি অত্যাচার চলছেই, মারাও যাচ্ছে কেউ কেউ। অপরাধী টাকা দিয়ে মামলা মিটমাট করে ফেলে। তাই বিচারের পাশাপাশি অপরাধী যত ধনী বা বড় চাকুরেই হোক না কেন, তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা খুব জরুরি। মানবাধিকারকর্মীরা অনেক দিন ধরেই বলে আসছেন যে গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতনের হার উদ্বেগজনক এবং গৃহকর্মী নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হয় না বলেই এ ঘটনা কমছে না।

জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী বলেছেন, 'আমরা একটা মামলাতেও এখন পর্যন্ত সেরকম জাজমেন্ট দেখি নাই যে গৃহশ্রমিককে মারার কারণে শাস্তি হয়েছে। যে সময়ের মধ্যে ইনভেস্টিগেশন শেষ হওয়া এবং একটা কেস শেষ হওয়ার কথা সেটাও দেখি না। এ ধরনের সেনসিটিভ কেসগুলো যদি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করে ফেলা যায়, তাহলে কিন্তু অনেকগুলো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমরা দিতে পারি। কিন্তু সেগুলো হয় না।'

তিনি আরও বলেন, 'গৃহকর্মীরা সবাই হতদরিদ্র কিন্তু দোষীরা সবাই প্রভাবশালী। এখানে তদন্ত সময়মতো হয় না বলে করাপশন থেকে শুরু করে অনেক বিষয় ঢুকে যায়। আর কেস যখন চলতে থাকে, একটা পর্যায়ে গিয়ে মা-বাবারা আপস করে ফেলেন বা টাকা-পয়সা নিয়ে মিটমাট করে ফেলেন।' (বিবিসি)

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) ২০২১ সালে ২৮৭ জন গৃহশ্রমিকের ওপর এক জরিপ করেছিল। জরিপে অংশ নেওয়া ৫০ ভাগ শ্রমিক জানিয়েছেন, তারা শারীরিক বা মানসিক কোনো না কোনো নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গৃহকর্মীদের আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় তারা মামলা করতে চান না বা মামলা করলেও তা চালাতে চান না বলে জানায় বিলস। (ডয়েচে ভেলে)

পেছনে তাকালে দেখতে পাবো গৃহকর্মী, বিশেষ করে শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনা। ২০২৩ সালের ঘটনা, ধরে নিই ১০ বছরের ছোট্ট মেয়েটির নাম ছিল পাখি। পাখির বাবা ওকে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন তিনবেলা খাবার ও মাথার গোঁজার ঠাঁই পাবে বলে। কিন্তু এর বদলে পাখি মারধর ও সহিংসতার শিকার হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল। ওর ছোট্ট দেহখানি লুকিয়ে রেখেছিলেন গৃহকর্ত্রী। কিন্তু দুই দিন পর মগবাজারের একটি হাসপাতালের সামনে ফ্রিজিং ভ্যান থেকে পাখির গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটির শরীরে নির্যাতনের অসংখ্য চিহ্ন ছিল। তাকে গোপনে কবরস্থ করার জন্য ফ্রিজিং ভ্যানে রেখে দেওয়া হয়েছিল।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় প্রতিবছরই দেখা যায় শিশু গৃহকর্মী অর্থাৎ ৭-৮ বছর বয়স থেকে ১৬-১৭ বছরের মেয়েরা বেশি নির্যাতনের শিকার হয়। গৃহকর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় করা এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে দেশের গৃহকর্মীরা দিনে গড়ে ১৪ ঘণ্টা কাজ করেন এবং তাদের ৮৭ শতাংশ কোনো সাপ্তাহিক ছুটি পান না।

এছাড়া ২৬ শতাংশ গৃহকর্মীর কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতি কিংবা বিলম্বের কারণে বেতন কাটা হয়ে থাকে। 'শোভন কাজ ও কর্মক্ষেত্রে জেন্ডার সহিংসতা: বাংলাদেশের নারী গৃহকর্মী' বিষয়ে বিলস-সুনীতি প্রকল্পের পক্ষে ডিনেট এই গবেষণাটি করেছে। এতে বলা হয়, প্রায় ৯৯ শতাংশ গৃহকর্মীকে কোনো ধরনের পেশাকালীন ঝুঁকি বা বিপদকালীন সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয় না।

গৃহকর্মীরা সামাজিক সুরক্ষা—যেমন চাকরি থেকে বহিষ্কার-পরবর্তী সুবিধাদি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি, পেনশন, দুর্ঘটনা সম্পর্কিত সুবিধাদি, চিকিৎসা ভাতা—এগুলো কখনো পান না; বরং কথায় কথায় মারধর, ভর্ৎসনা ও গঞ্জনার মুখে পড়েন। এছাড়া যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনাও অনবরত ঘটছে।

তবে ঠিক কতজন গৃহকর্মী কাজ করতে এসে মালিকের নির্যাতনে নিহত হচ্ছেন, এর কোনো সঠিক হিসাব নেই। এ নিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি, নেই কোনো সরকারি হিসাব। আমরা দেখেছি, কর্মক্ষেত্রে গৃহকর্মী নিহত হলে সেটা 'আত্মহত্যা' বলে চালিয়ে দেওয়া হয় বা অন্যভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়। গৃহকর্মী নিয়োগ রেজিস্ট্রেশন করা হয় না এবং গৃহশ্রমিক হিসেবে কোনো পরিচয়পত্র বা নিয়োগপত্র থাকে না বলে ঠিক কতজন, কোথায় কাজ করছেন—সেটাই জানা যায় না। আর সেই কারণেই জানা যায় না ঠিক কতজন অত্যাচারিত হচ্ছেন। বাংলাদেশে গৃহকর্মী হিসেবে সবচেয়ে বেশি নিয়োগপ্রাপ্ত এবং নির্যাতিত হয় বয়ঃসন্ধিকালের মেয়েরা। এদের বেতনের কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো নেই, নেই কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়।

অপরাধীরা ধরা পড়লেও শাস্তি হচ্ছে না। টাকা, ক্ষমতা খাটিয়ে বা আইনের ফাঁক গলে অপরাধীরা বেরিয়ে আসছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের 'গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি-২০১৫' প্রণয়নের লক্ষ্যে বহুদিন ধরে সরকারের সাথে কাজ করেছে সংস্থাটি। সেই নীতিমালাতে গৃহকর্মীদের সাথে ভালো ব্যবহার, তাদের বেতন-ভাতা ঠিকমতো পরিশোধ, নির্যাতন না করা, শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা বিধান, ভরণপোষণ, ছুটি ও প্রণোদনাসহ আরও সুবিধার কথা স্পষ্ট করে বলা আছে। (সূত্র: মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন)

এখন অধিকাংশ গৃহকর্মী ২৪ ঘণ্টার জন্য 'বাঁধা কর্মী' হিসেবে থাকতে চান না। কথা বলে জানতে পারলাম, এভাবে থাকলে তাদের নিজস্ব কোনো সময় থাকে না। ঘরের মানুষরা সারাক্ষণ যেমন ইচ্ছা অর্ডার করেন, বেড়ানো বা বিনোদন তেমনভাবে হয় না। এমনকি ফোনে কথা বললেও বকা খেতে হয়। এজন্য 'খণ্ডকালীন বা ছুটা' গৃহকর্মীর সংখ্যা ও জনপ্রিয়তা বাড়ছে। খণ্ডকালীন কাজে আয়ও বেশি হয় বলে তাদের ধারণা।

অবশ্য নিয়োগকর্তাদের দিক থেকেও এখন 'স্থায়ী মানুষ' নিয়োগ দেওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। মূলত বিশ্বাসী ও দক্ষ মানুষ না পাওয়া, বেতন বেশি দিতে হওয়া, রাতে থাকার ব্যবস্থা করতে হওয়া এবং সারাদিন বাসায় কেউ থাকে না বলে খালি বাসায় একজন মানুষ রাখা নিরাপদ বোধ করেন না অনেকেই।

গৃহশ্রমিক পার্টটাইম বা ফুলটাইম যাই হোক না কেন, একটি সংসার চালানোর জন্য এদের সাহায্য অপরিহার্য। এই সাহায্যকারীরা না থাকলে গৃহিণীর ওপর অনেক বাড়তি চাপ পড়ে। বিশেষ করে বাসার গৃহিণী যদি চাকরিজীবী হন। দেখা যাচ্ছে, আমরা গৃহকর্মীদের ওপর নানাভাবে নির্ভরশীল হওয়া সত্ত্বেও তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে পারি না অনেকেই।

গৃহকর্মীদের মারধর ও অত্যাচার করা হয় কেন? কেন কম খাবার দেওয়া হয়? ইত্যাদি প্রসঙ্গে মানুষ সাধারণত যে যুক্তিগুলো দেন, সেগুলো হচ্ছে—এরা খুব বেয়াদব, ছোট জাত, আচরণ ভালো না, অলস, ফাঁকিবাজ, প্রেম করে, ফোনে কথা বলে, চুরি করে, সাজগোজ করে ইত্যাদি। যদি ধরেও নিই সব অভিযোগ সত্য, তাহলে তাদের বিদায় করে দিই না কেন? কেন বন্দি রেখে নির্যাতন করতে হবে?

গ্রাম থেকে শহরে আসা এইসব মেয়ের পরিবার দরিদ্র, নিরক্ষর এবং অসহায় বলে তাদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধে রুখে দাঁড়াতে পারে না। জাতীয় নারী গৃহশ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও বারবার বলা হয়েছে—কেন শ্রম আইন ২০০৬-এ 'কেয়ারগিভার' হিসেবে গৃহশ্রমিকদের কথা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি?

অথচ আইএলও বহু বছর যাবৎ গৃহশ্রমিকের স্ট্যাটাস 'কেয়ারগিভার' বা 'হাউসকিপার' হিসেবে গণ্য করার কথা বলে আসছে। এশিয়ার অন্য অনেক দেশে হয়েছেও, কিন্তু বাংলাদেশে তা সম্ভব হচ্ছে না। কোনো রকম অধিকার ছাড়া গৃহশ্রমিকের এই জীবনটাকে দাসত্বের অন্ধকার জীবন বলা যায়।

সেই কারণেই নিবন্ধনকৃত কোনো জায়গা থেকে যদি গৃহশ্রমিক সরবরাহের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে গৃহকর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয় পক্ষই রেহাই পাবেন। এটা বাস্তবায়নে সরকারকে এগিয়ে এসে নিয়মিত মনিটরিং ও দোষীদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন করা, তদন্ত চালানো, নজরদারি বাড়ানো ও শাস্তি দেওয়া—ইত্যাদি বিষয়গুলোকে শ্রম আইন এবং গৃহকর্মে নিযুক্ত শ্রমিকের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নীতিমালার আওতায় আনতে হবে।

বিশ্বের অনেক দেশেই, এমনকি ভারতেও গৃহশ্রমিক সরবরাহ ও অভিযোগ জানানোর নিয়মতান্ত্রিক সংস্থা আছে। বাংলাদেশেও এখন বেসরকারি উদ্যোগে কিছু সংস্থা কাজ করছে, বিশেষ করে কেয়ারগিভার সরবরাহ করার কাজ। আমরা চাই দেশে বা বিদেশে যেখানেই একজন গৃহকর্মী বা কেয়ারগিভার কাজ করবেন, সেখানে তারা নিরাপদ থাকবেন; কারণ এটা তাদের অধিকার।

ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স রাইট নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে গৃহশ্রমিকেরা আর্থিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল হওয়ায় অনেক ঘটনায় মামলাই হয় না। আর মামলা হলেও শেষ পর্যন্ত বিচার পাওয়া যায় না। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংস্থাটি বলেছে—প্রথমত, মামলার বাদী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয় পুলিশ। এজাহার থাকে দুর্বল, চার্জশিটও হয় দুর্বল। আর এর মধ্যে আসামিরা অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে আদালতের বাইরে মামলা মিটিয়ে ফেলেন। ঘটনার সাক্ষীও পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশে অধিকাংশ গৃহকর্মী দাসত্বের শৃঙ্খলে বাধা পড়ে আছেন। এদের অনেকে মারা যান, নির্যাতনের হাত থেকে পালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন, পাচারকারীদের খপ্পরে পড়েন, যৌনদাসী হয়ে যান। তাদের জন্য নিরাপত্তামূলক কোনো ব্যবস্থা নেই, নেই অভিযোগ জানানোর জায়গা ও বিচার পাওয়ার ক্ষমতা। তাই গৃহশ্রমিক নিয়ে কর্মরত সংগঠনগুলো মনে করে, গৃহশ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার না দিলে এর সমাধান হবে না। একই সঙ্গে সংগঠনকে মামলার বাদী হওয়ার সুযোগ দিতে আইন করতে হবে।

গৃহকর্মীদের জন্য এমন কর্মক্ষেত্র চাই যেখানে তাদের শারীরিক, মানসিক ও যৌন নিপীড়নের শিকার হতে না হয়। গৃহকর্মীরা দাসী নয়, পরিবারের অপরিহার্য সদস্য। 'ভাতও চাই, নিরাপত্তাও চাই'—এই হোক স্লোগান।

 


লেখক: যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক


বিশেষ দ্রষ্টব্য: নিবন্ধের বিশ্লেষণটি লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন। অবধারিতভাবে তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর অবস্থান বা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।


 

Related Topics

টপ নিউজ

শাহানা হুদা রঞ্জনা / শিশু শ্রম / গৃহকর্মী / গৃহকর্মী নির্যাতন / নির্যাতন / শিশু নির্যাতন

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: সংগৃহীত
    ভিসা প্রক্রিয়া তরান্বিত করার ঘোষণা মার্কিন দূতাবাসের, অভিবাসী ভিসা মিলবে ২ কর্মদিবসে
  • ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
    রক্তে বিষাক্ত সীসা নিয়ে বড় হচ্ছে বাংলাদেশের শিশুরা: শৈশবেই কমে যাচ্ছে আইকিউ
  • যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ছবি: রয়টার্স
    দেশ ছাড়ছেন রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান, বিদেশে থাকার উপায় শিখতে গুনছেন শত শত ডলার
  • ভারতীয় রুপির নোট গুনছেন একজন ক্যাশিয়ার। ছবিটি তোলা হয়েছে ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদ শহরের একটি জ্বালানি পাম্পে। ফাইল ছবি: রয়টার্স
    এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ভারতের রিজার্ভ, রুপির মান বাঁচাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মরিয়া চেষ্টা
  • ছবি: এনডিটিভি
    ১০ মিটারের মধ্যে এলেই মৃত্যু—ইউক্রেন যুদ্ধকে নতুন রূপ দিচ্ছে রোবট, কোণঠাসা হয়ে পড়ছে রাশিয়া
  • ২০১৮ সালের ১২ জানুয়ারি ফ্লোরিডার হায়ালেহ-তে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস-এর একটি ন্যাচারালাইজেশন অনুষ্ঠানে একজন ব্যক্তি আমেরিকান নাগরিক হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ছবি: জো রেডল
    ‘এটা সত্যিই ভীতিকর’: গ্রিন কার্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নির্দেশনায় বিভ্রান্তি, উদ্বেগ

Related News

  • রামিসারা: ধর্ষণ ঠেকাতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা নিতে হবে রাষ্ট্রকেই
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে চিকিৎসক দম্পতি গ্রেপ্তার
  • কুষ্টিয়ায় যুবককে হাত-পা বেঁধে শরীরে পেরেক ঢুকিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ
  • কুমিল্লায় বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ
  • চট্টগ্রামে বিএনপির সাইনবোর্ড লাগিয়ে দোকান দখল, দোকানি নারীকে নির্যাতন ও লুটের অভিযোগ

Most Read

1
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

ভিসা প্রক্রিয়া তরান্বিত করার ঘোষণা মার্কিন দূতাবাসের, অভিবাসী ভিসা মিলবে ২ কর্মদিবসে

2
ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
ফিচার

রক্তে বিষাক্ত সীসা নিয়ে বড় হচ্ছে বাংলাদেশের শিশুরা: শৈশবেই কমে যাচ্ছে আইকিউ

3
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

দেশ ছাড়ছেন রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান, বিদেশে থাকার উপায় শিখতে গুনছেন শত শত ডলার

4
ভারতীয় রুপির নোট গুনছেন একজন ক্যাশিয়ার। ছবিটি তোলা হয়েছে ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদ শহরের একটি জ্বালানি পাম্পে। ফাইল ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ভারতের রিজার্ভ, রুপির মান বাঁচাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মরিয়া চেষ্টা

5
ছবি: এনডিটিভি
আন্তর্জাতিক

১০ মিটারের মধ্যে এলেই মৃত্যু—ইউক্রেন যুদ্ধকে নতুন রূপ দিচ্ছে রোবট, কোণঠাসা হয়ে পড়ছে রাশিয়া

6
২০১৮ সালের ১২ জানুয়ারি ফ্লোরিডার হায়ালেহ-তে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস-এর একটি ন্যাচারালাইজেশন অনুষ্ঠানে একজন ব্যক্তি আমেরিকান নাগরিক হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ছবি: জো রেডল
আন্তর্জাতিক

‘এটা সত্যিই ভীতিকর’: গ্রিন কার্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নির্দেশনায় বিভ্রান্তি, উদ্বেগ

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net