ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা
লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বহির্নোঙ্গরে অলস বসে আছে ৫৪ টি মাদার ভেসেল। এসব জাহাজের মধ্যে খালাসরত ৪০ টি জাহাজে পণ্য রয়েছে প্রায় ৯ লাখ মেট্রিক টন।
নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এবং লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে ১১ দফা দাবীতে ধর্মঘটের কারণে গত ১৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে সারাদেশে পণ্যবাহী সকল ধরনের নৌ যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাসে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে বন্দরে অলস বসে থাকার কারণে ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার হিসেবে প্রতিদিন ৫৪ টি জাহাজের জন্য প্রায় ৫ লাখ থেকে ৮ লাখ ডলার জরিমানা গুনতে হচ্ছে শিপিং এজেন্টদের। ধর্মঘট প্রত্যাহার না হলে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি শফিকুল আলম জুয়েল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, প্রতিটি মাদার ভেসেলের আকার অনুযায়ী একদিনের জন্য ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার ডেমারেজ চার্জ গুনতে হয়। নৌ যান শ্রমিক এবং মালিক পক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের শিপিং সেক্টর। এভাবে চলতে থাকলে মাদার ভেসেলগুলো আর বাংলাদেশে আসতে চাইবেনা। এর কারনে শিপিং সেক্টরে বাংলাদেশে সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বহির্নোঙ্গরে পণ্যবাহী ৫৪ টি জাহাজ অবস্থান করছে। নৌ যান শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যায় ৪০ টি জাহাজে। এসব জাহাজে ৮,৯৫,৩৪০ মেট্রিক টন পণ্য রয়েছে।
এর মধ্যে ক্লিংকারবাহী ১০ টি জাহাজে ১,৪৮,২১১ মেট্রিক টন, স্ল্যাগবাহী ১ টি জাহাজে ২৯ হাজার মেট্রিক টন, লাইম স্টোনবাহী ৩ টি জাহাজে ১,০০,৪৬৫ মেট্রিক টন, জিপসামবাহী ১ টি জাহাজে ৪৫,৯০০ মেট্রিক টন, বল ক্লে বাহী ৩ টি জাহাজে ৭,৬৬০ মেট্রিক টন, চিনিবাহী ১ টি জাহাজে ৪৩,১৯০ মেট্রিক টন, স্টোন বাহী ১ টি জাহাজে ১৭০০ মেট্রিক টন কয়েলবাহী ২ টি জাহাজে ৩০,৫৮০ মেট্রিক টন, গমবাহী ৮ টি জাহাজে ২৫৫৮৭৪ টন এবং ১০ টি জাহাজে বিভিন্ন ২,৩২,৭৬০ টন বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।
এছাড়া ৩ টি জাহাজ বার্থিংয়ের ১১ টি জাহাজ পণ্য খালাসে নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে।
বাংলাদেশ নৌ যান শ্রমিক ফেড়ারেশনের যুগ্ন সম্পাদক মো: খোরশেদ আলম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, নৌ যান শ্রমিকদের খাদ্য ভাতা, স্বাস্থ্য-সুরক্ষা সরঞ্জাম, নিয়োগ পত্র প্রদান, নৌ পথে সন্ত্রাস চাঁদাবাজী বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন সহ ১১ দফা দাবীতে গত ১৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ধর্মঘটন চলছে। মালিক পক্ষ এসব দাবী বাস্তবায়নে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। উল্টো সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমাদের দাবী পুরণ করা হবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছে। আমাদের দাবী না মানা হলে কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে।
নৌ যান শ্রমিকদের ধর্মঘট কর্মসূচীকে অযৌক্তিক এবং বেআইনী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশেনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক। তিনি বলেন, তাদের দাবী মানা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ধর্মঘট প্রত্যাহার না করলে আমরা শ্রমিকদের সাথে বৈঠকে বসবো না।
এদিকে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহারে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের প্রত আহবান জানিয়েছেন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি'র সভাপতি মাহবুবুল আলম। ২০ অক্টোবর পাঠানো চিঠিতে চেম্বার সভাপতি উল্লেখ করেন, নৌযান শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘপেটর কারনে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। লাইটারেজ জাহাজ চলাচল না করায় সারাদেশে এসব কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বন্দরে জাহাজজট এবং কন্টেইনারজট নতুনভাবে সংকট তৈরি করছে। জাহাজের টার্ণ এরাউন্ড টাইম বৃদ্ধি এবং ওভারস্টের কারণে ডেমারেজ চার্জসহ পণ্য আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।
