নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশে ছাত্র-জনতা ‘হত্যার’ বিচার, গণগ্রেপ্তারের মাধ্যমে হয়রানি বন্ধের দাবি
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে গণগ্রেপ্তারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধসহ আটক শিক্ষার্থীদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। সেই সঙ্গে আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাত-সংঘর্ষে সারাদেশে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মৃত্যুকে 'জুলাই হত্যাকাণ্ড' নামে ডাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
আজ সোমবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জড়ো হন। পরে সেখান থেকে একটি মৌন মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের পাদদেশে 'নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশ' করেন তারা। এ সময় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সমাবেশ থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ 'হত্যার' নিন্দা ও অবিলম্বে জড়িতদের বিচার দাবি করেন শিক্ষকরা।
সমাবেশে শিক্ষকরা বলেন, '২০২৪-এর মতো রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে নজির নেই। যে ছাত্র ও জনতা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে, তাদের অধিকাংশের বয়সই ১৮-র নিচে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি করছি।'
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাইদ ফেরদৌস।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ ভাবা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের খোলনলচে পাল্টে দিতে এসেছেন। স্বাধীনতার পর থেকে গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রে যে লাগাতার নৈরাজ্য চলেছে, হলগুলোয় যে সুপরিকল্পিত নিপীড়ন চলেছে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের—সেই সবকিছু পাল্টে নতুন ইতিহাস লেখার পথ তৈরি করেছেন এই শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবির প্রতি তারা সমর্থন জানান। আন্দোলন ঘিরে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনাকে 'জুলাই হত্যাকাণ্ড' নামে ডাকার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, 'ব্লক রেইড' দিয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটা জেনেও যদি প্রতিবাদ না করা হয়, সেটি হবে অন্যায়। গণমাধ্যমে শুধু একটি দিকের বিবরণ (ন্যারেটিভ) প্রচার করা হচ্ছে যে দেশের সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু জানতে হবে, আসল সম্পদ হচ্ছে মানুষ। যখন ছাত্রছাত্রীদের ওপর গুলি করা হয়, ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন কোনো শিক্ষক ঘরে বসে থাকতে পারেন না। এই নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক নাহিদ নেওয়াজ বলেন, '২০০-র ওপরে মানুষ মারা গেছে। শুধু শিক্ষার্থী না, শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশাচালক কিংবা পথচারী ও বাসার মধ্যে শিশুও মারা গেছে। এ ধরনের সহিংসতার দায় সরকারকে নিতে হবে।'
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মাসুদ ইমরান মানু বলেন, 'দিনে নাটক আর রাতে আটক হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রতি মুহূর্তে তুলে নেওয়া হচ্ছে। আমি এই ব্যবস্থাকে ঘৃণা জানাতে এসেছি। এই আন্দোলন এখন আর কোটা সংস্কারে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন বাংলাদেশের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।'
