করোনায় ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে দিনাজপুরে ফিরেছেন ৭ হাজার লোক
দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাহী এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোঃ আরিফ। ঢাকায় সেলুনের দোকান ছিল, ২ জন মিলে সেই দোকানটি পার্টনার হিসেবে দিয়েছিলেন। করোনা মহামারিতে গত ২৫ মার্চ বাড়ি ফিরেছেন। এরপর থেকে বেকার।
তিনি বলেন, 'মহামারিতে ভয়ে ঢাকায় যাওয়ার ইচ্ছা নাই। এখন বেকার হয়ে আছি। করোনা চলে গেলে আবার ঢাকায় যাব। আমরা ৩ ভাই। আমার বাবা ও ছোটভাইয়ের উপার্জনে এখন সংসার চলছে। আমি বিয়ে করেছি; একটি মেয়ে আছে ৫ বছরের। স্ত্রী ও মেয়ের সব খরচই আমাকে এখন চেয়ে চেয়ে নিতে হয়।'
দিনাজপুরের সদর উপজেলার বড়ইল গ্রামের সোহেল রানা। রান্নার কাজ করতেন ঢাকার এক হোটেলে। করোনা প্রাদুর্ভাবে গত ফেব্রুয়ারিতে নিজ বাড়ি ফিরেছেন। ওই হোটেল থেকে চাকরি চলে গেছে; বাড়ির লোকজনও আর ঢাকায় যেতে দিতে চায় না। তাই বাড়ির পাশে কোম্পানি মোড় নামক এলাকায় একটি লন্ড্রির দোকান দিয়েছেন। কিন্তু একদিকে বাড়ি বাড়ি লন্ড্রি মেশিন থাকায় এবং অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতিতে উপার্জন তেমন হয় না। কোনোদিন ২০ টাকা আর কোনোদিন ৩০ টাকা আয় হয়।
সোহেল রানারা ৩ ভাই; সংসার পরিচালনা করেন তার বাবা মোহাম্মদ হোসেন। তার বাবারও একটি হোটেল আছে। সোহেল রানা বলেন, 'এখন কোনোভাবে দিন যাচ্ছে। কাজ-কাম নাই, রোজগার নাই। দেখি, করোনা চলে গেলে কিছু একটা করতে হবে।'
দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'এখন পর্যন্ত কতজন মানুষ দিনাজপুরে এসেছেন, তার হিসাব নাই। অনেকেই এসেছেন, আবার চলে গেছেন। কোয়ারেন্টিনে যাদের হিসাব, শুধুমাত্র সেটিই হিসাবের মধ্যে রয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় এই হিসাব দিতে পারবে।'
দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, 'এ পর্যন্ত দিনাজপুরে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে মোট ১২ হাজার ৫৮৬ জনকে। এখনো কোয়ারেন্টিনে আছেন ২ হাজার ৪১১ জন। ঢাকাসহ বাইরে থেকে এসেছেন ৬ থেকে ৭ হাজারের মতো মানুষ; যাদেরকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল।'
