বাংলাদেশের ধারহীন বোলিং, টাকার-ম্যাকব্রাইনে আয়ারল্যান্ডের স্বপ্নের দিন
বাংলাদেশ কি তবে ইনিংস ব্যবধানে জিততে যাচ্ছে? দ্বিতীয় দিন শেষেই আলোচনায় ছিল এমন সম্ভাবনার কথা। প্রথম ইনিংসেই বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া আয়ারল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে ১৩ রানেই হারায় ৪ উইকেট, ইনিংস হার এড়াতে লাগতো আরও ১২৮ রান। তাই দ্বিতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল বাংলাদেশ, সেটাও ইনিংস ব্যবধানে। যদিও তৃতীয় দিনে সব হিসেব পাল্টে গেল, এখন চলছে নতুন হিসাব। উল্টো বাংলাদেশই এখন বিপদে!
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনটা একেবারে ভিন্ন, যেখানে শাসন কেবল আইরিশদের। ৪ উইকেট নিলেও পুরো দিন ধারহীন বোলিং করে গেছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠের কোনো বোলারই পারেননি আইরিশদের পরীক্ষা নিতে। কৃতিত্ব দিতে হবে তাদের ব্যাটসম্যানদেরও। টেস্ট মেজাজ কাকে বলে, সেটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ব্যাটিং করে গেছেন হ্যারি টেক্টর, লরকান টাকার, অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনরা।
এই তিন জনের ব্যাটে তৃতীয় দিন নিজের করে নেওয়া আয়ারল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ২৮৬ রান তুলেছে। ম্যাকব্রাইন ৭১ ও গ্রাহাম হিউম ৯ রানে অপরাজিত আছেন। ইতোমধ্যে সফরকারীদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৩১ রানের। এর সঙ্গে চতুর্থ দিনে আর ৩০-৪০ রান যোগ করতে পারলেও বাংলাদেশের জয়ের কাজটি বেশ কঠিন হয়ে পড়বে। আইরিশদের প্রথম ইনিংসে করা ২১৪ রানের জবাবে ৩৬৯ রান তোলে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসেই ১৫৫ রানে পিছিয়ে পড়ে আইরিশরা। সেই রান পাড়ি দিয়ে তারাই এখন উপরে থাকা দল!
আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান হ্যারি টেক্টর ও পিটার মুর আজও সাবলীল শুরু করেন। এদিন ২৪ রান যোগ করাসহ পঞ্চম উইকেটে ১৫৪ বলে ৩৮ রানের জুটি গড়েন এ দুজন। দলকে বিপদ থেকে বাঁচাতে প্রাণপণে লড়াই করে যাওয়া মুরকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন শরিফুল ইসলাম। ফেরার আগে ৭৮ বলে ৩টি চারে ১৬ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।
এরপর টেক্টরের সঙ্গে যোগ দেন আইরিশ ইনিংসের রূপকার টাকার। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে এ দুজন ১৪৫ বলে ৭২ রানের জুটি গড়েন। এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম, ফেরান টেক্টরকে। দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করে দলে স্বস্তি ফেরানো টেক্টর ১৫৯ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় ৫৬ রান করেন। এরপর আইরিশ ইনিংসে সবচেয়ে ভালো সময় আসে, ম্যাকব্রাইনকে নিয়ে নতুন মিশনে নামেন সেঞ্চুরিয়ান টাকার।
বাংলাদেশের বোলারদের হতাশায় ডুবিয়ে ব্যাটিং করে যেতে থাকেন টাকার-ম্যাকব্রাইন। সপ্তম উইকেটে ১৭১ বলে ১১১ রান যোগ করেন তারা। যা টেস্টে সপ্তম উইকেটে আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় সেরা জুটি, সর্বোচ্চ রানের জুটি ১১৪ রানের। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই জুটি গড়েন কেভিন ও'ব্রায়েন ও থম্পসন।
দারুণ জুটিতে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পথে সেঞ্চুরি তুলে নেন টাকার, তার নাম ওঠে রেকর্ড বইয়ে। টেস্টে আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিয়ান তিনি, অভিষেকেও আইরিশদের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিয়ান। অভিষেকেই সেঞ্চুরি করা কেভিন ও'ব্রায়েন এতোদিন আইরিশদের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন। সাত নম্বরে নেমে বিশ্বের নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন টাকার।
আয়ারল্যান্ডকে খাদের কিনার থেকে উদ্ধার করা এই ব্যাটসম্যান শেষ পর্যন্ত এবাদত হোসেনের বলে আউট হন। ফেরার আগে ১৬২ বলে ১৪টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৮ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর মার্ক এডেয়ারের সঙ্গে ৩১ রানের জুটি গড়েন ম্যাকব্রাইন।
এডেয়ার ১৩ রান করে ফিরলে হিউমকে নিয়ে দিন পার করেন ৭১ রানে অপরাজিত থাকা ম্যাকব্রাইন। এটাই তার প্রথম টেস্ট হাফ সেঞ্চুরি। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া তাইজুল ৮৬ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ২টি উইকেট পান সাকিব আল হাসান। একটি করে উইকেট নেন শরিফুল ও এবাদত।
