করোনার হটস্পট নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪ জন আক্রান্ত
নারায়ণগঞ্জ লকডাউনের ২০তম দিনে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৪২ জন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৪২ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা করোনা ফোকাল কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা গতকালের চেয়ে দ্বিগুণ।
এদিকে শহরের ৩০০ শয্যা হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বেসরকারি দুটি সেন্টারের আটটি বুথে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব ভঙ্গ করে একদিনে ১৬০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও সেখানে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক মানুষ জমায়েত হচ্ছেন। এতে ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।
নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ইমতিয়া আহমেদ জানান, ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইডিসিআর) পেন্ডিং থাকা গত ২১, ২২, ২৩ ও ২৪ এপ্রিলের আশিংক রিপোর্ট একসঙ্গে এসেছে। এ কারণে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ দেখাচ্ছে।
তিনি বলেন, ২৫, ২৬ ও ২৭ এপ্রিল করোনা শনাক্তের জন্য যেসব নমুনা সংগ্রহ করে আইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর রিপোর্ট এখনো আসেনি।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের কন্ট্রোল রুমে যেসব রোগী করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে আমাদের কাছে এসএমএস করছেন, আমরা তাদের নমুনা সংগ্রহ করছি।
এখন পর্যন্ত খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ৪৪ জন এবং শিমরাইল বেসরকারি সাজেদা হাসপাতালে ৩০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন বলে জানান তিনি।
নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন এলাকায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে নমুনা পরীক্ষার জন্য অনুরোধ রয়েছে ৬৮৩ জনের। সিটি করপোরেশনের সহায়তায় সিভিল সার্জন অফিস ৩১৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে। তাদের মধ্যে ভাইরাসটি পজিটিভ পাওয়া গেছে ১১২ জনের। করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ৬ জনের এবং ভাইরাসটির উপসর্গসহ অন্যান্য রোগে মারা যাওয়া ১০২ জনের মরদেহ সৎকার করেছে সিটি কপোরেশন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় আড়াইহাজারের আরও ৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা আফরোজ ইভা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সময়ে শনাক্ত হওয়া ওই ছয়জনের মধ্যে ২ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ।
তিনি জানান, এ নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলায় ১৯ জন করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হলেন। তাদের মধ্যে হানিফা ও মাসুদা নামে দুজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
অন্যদিকে, রূপগঞ্জে একদিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারসহ ৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সাইদ আল মামুন। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের এলাকায়।
জানা যায়, কয়েকদিন আগে করোনাভাইরাস পজিটিভ নিয়ে আসা দাউদপুর ইউনিয়নের বীর হাটাবো এলাকার এক কলেজছাত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। ওই ছাত্রীর সংস্পর্শে আসা তার মা-সহ হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নমুনা সংগ্রহ করে দুদিন আগে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
সোমবার সন্ধ্যায় পাওয়া রিপোর্টে হাসপাতালের এক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, এক রেডিওলোজি অপারেটর, হাসপাতালের খণ্ডকালীন এক বাবুর্চি, এক আয়া, ওই কলেজছাত্রীর মা, রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ভিংরাবো এলাকার একজন এবং ভুলতা ইউনিয়নের মাছুমাবাদ গ্রামের একজনের করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে। এদের কারও শরীরেই আক্রান্তের কোনো উপসর্গ ছিল না।
ডা. সাইদ আল মামুন জানান, নতুন আক্রান্ত ৭ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই আলাদা আলাদা ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ নিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৬।
