দেশে রেকর্ড মৃত্যু ১৫ জনের, নতুন আক্রান্ত ২৬৬
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ১৫ জন মারা গেছেন। একদিনে এ ভাইরাসে এটি সর্বোচ্চসংখ্যক মৃত্যু। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৭৫ জনে দাঁড়ালো। এছাড়া নতুন ২৬৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১ হাজার ৮৩৮ জনের শরীরে শনাক্ত হলো প্রাণঘাতি ভাইরাসটি।
শুক্রবার দুপুরে নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ২ হাজার ১৯০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জন আরোগ্য লাভ করেছেন। এই নিয়ে দেশে আক্রান্তদের মধ্যে মোট ৫৮ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।
ব্রিফিংয়ে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, এ পর্যন্ত আক্রান্ত ১ হাজার ৮৩৮ জনের মধ্যে শতকরা ৬৮ শতাংশ পুরুষ এবং ৩২ শতাংশ নারী। এদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ ঢাকায়, ২০ শতাংশ নারায়ণগঞ্জে এবং বাকিরা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আক্রান্ত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বাড়িতেই রয়েছেন, বাকি ৩২ শতাংশকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। করোনাভাইরাস আক্রান্ত সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মোট আক্রান্তদের বয়সের অনুপাত:
- ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী: ২১%।
- ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী: ১৯%।
- ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী: ১৫%।
- বাকিরা অন্যান্য বয়সের।
উল্লেখ্য, দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রথম কারও মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।
এক নজরে দেশের করোনাচিত্র:
- আক্রান্ত হয়েছেন: ১,৮৩৮ জন।
- সুস্থ হয়ে উঠেছেন: ৫৮ জন।
- মারা গেছেন: ৭৫ জন।
করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য সরকার ইতোমধ্যেই একটি বিশেষ ওয়েবসাইট (www.corona.gov.bd) চালু করেছে।
অন্যদিকে, ওয়ার্ল্ডোমিটার-এর তথ্যমতে, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত বৈশ্বিক এ মহামারিতে সারা পৃথিবীতে ২১ লাখ সাড়ে ৮৬ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৫৩ হাজার জন সুস্থ হয়ে উঠলেও প্রাণ গেছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৬৯ জনের। দুর্ভাগ্যক্রমে, এ সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে প্রতিনিয়তই বাড়ছে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যেসব দেশে:
- যুক্তরাষ্ট্র: ৩৪ হাজার ৬৪১ জন।
- ইতালি: ২২ হাজার ১৭০ জন।
- স্পেন: ১৯ হাজার ৩১৫ জন।
- ফ্রান্স: ১৭ হাজার ৯২০ জন।
- যুক্তরাজ্য: ১৩ হাজার ৭২৯ জন।
- ইরান: ৪ হাজার ৮৬৯ জন।
- বেলজিয়াম: ৪ হাজার ৮৫৭ জন।
- চীন: ৪ হাজার ৬৩২ জন।
- জার্মানি: ৪ হাজার ৯৩ জন।
- নেদারল্যান্ড: ৩ হাজার ৩১৫ জন।
