গাজীপুর সিভিল সার্জনসহ ১৭০ জন হোম কোয়ারেন্টিনে
গাজীপুরে জেলা সিভিল সার্জন ও তার অফিসের ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৭০ জনকে রোববার হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঠাণ্ডা ও জ্বরের উপসর্গ থাকায় সিভিল সার্জন অফিসের নৈশ প্রহরী আসাদুজ্জামান ১৭ দিন তার গ্রামের বাড়ি কাপাসিয়ায় হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ না থাকায় বুধবার তিনি অফিসে ফিরে আসেন। তবে তার দেহে ভাইরাসটির সংক্রমণ নিশ্চিত হতে শুক্রবার তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার আইইডিসিআর-এ পাঠানো হয়। শনিবার তার ওই নমুনা রিপোর্টে পজিটিভ আসে। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিটি অফিসে অন্যদের সংস্পর্শে আসায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সিভিল সার্জন এবং তার অফিসের ইপিআই সুপারিন্টেনডেন্ট, জেলা সেনিটারি ইন্সপেক্টর (ডিএসআই) ও প্রধান অফিস সহকারিসহ (ইউডিএ) ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তিনি সরকারি বাসায় কোয়ারেন্টিনে থেকেই কাজ করছেন। এ ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হতে তাদেরও নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা সবাই সুস্থ আছেন।
তিনি জানান, গাজীপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় রোববার পর্যন্ত মোট ২৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদেরকে কুর্মিটোলা ও গাজীপুরের হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
জেলায় এ পর্যন্ত মোট ২৯৪৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এরমধ্যে ২৫৮৩ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
এদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় শনিবার সন্ধ্যা হতে গাজীপুর জেলাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম।
