‘আমি আমার ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়িকে ভালোবাসি’: এইচ-১বি ভিসায় কর্মরতদের ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ বলা মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স রোববার এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত ব্যক্তিদের 'বিদেশি চুক্তিবদ্ধ দাস' বলে উল্লেখ করার বিষয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এ সময় তিনি তার দক্ষিণ ভারতীয় স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
ভ্যান্স স্বীকার করেন, তার বক্তব্যের ভাষা হয়তো পুরোপুরি যথাযথ ছিল না। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন একাধিক প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এটি প্রথম ধাপ।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি ও অন্যান্য ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার জন্য আবেদন করতে সহায়তা করতে পারে।
যেসব প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচি থেকে স্থগিত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফট, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনি।
এই স্থগিতাদেশ ঘোষণার সময় ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি আমেরিকান কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'যে কাজ একজন আমেরিকান কর্মী স্বেচ্ছায় করতে আগ্রহী, সেই কাজের জন্য বিদেশ থেকে চুক্তিবদ্ধ দাস আমদানি করা বন্ধ করুন।'
'অভিবাসন ব্যবস্থায় ভারসাম্য থাকতে হবে': মন্তব্যের ব্যাখ্যা ভ্যান্সের
বিদেশি কর্মীদের 'চুক্তিবদ্ধ দাস' বলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ভ্যান্স তার শ্বশুর-শাশুড়ির কথা বলেন। তিনি জানান, তারা দক্ষিণ ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে এসেছেন।
ভ্যান্স বলেন, 'আপনারা জানেন, আমার পরিবারের শিকড় কোথায়। আমি আমার শাশুড়ি ও শ্বশুরকে ভালোবাসি। তারা দক্ষিণ ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন। তাদের মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি এখন দেশটির দ্বিতীয় নারী। তাকে নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত এবং আমি তাকে খুব ভালোবাসি।'
তবে বিদেশি কর্মীদের প্রতি সম্মান দেখানো ও তাদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি আমেরিকানদের স্বার্থ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ভ্যান্স বলেন, 'আমি মনে করি, যারা যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে চান, তাদের আমরা সম্মান জানাতে পারি এবং স্বাগত জানাতে পারি। তবে একই সঙ্গে আমাদের এটাও বুঝতে হবে, কোনো বড় প্রতিষ্ঠান যদি এমন কাজ করে, তাহলে সেটি ন্যায্য হতে পারে না।'
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, 'ধরা যাক, কোনো প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটি একজন হিসাবরক্ষক নিয়োগ দিল। এরপর তারা বলল, তাদের বর্তমান কর্মীদের মধ্য থেকে ওই পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। অথচ একই সময়ে তারা আগে থেকেই বেতনভুক্ত একজন হিসাবরক্ষককে চাকরি থেকে বাদ দিল। এটি ন্যায্য আচরণ নয়।'
ভ্যান্সের দাবি, এ ধরনের ঘটনা অভিবাসী কর্মী এবং আমেরিকান কর্মী—উভয়ের জন্যই ভালো নয়।
তিনি আরও বলেন, 'আমি মনে করি, আমরা সঠিকভাবে এই ভারসাম্য বজায় রাখতে পারি। আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থায় ভারসাম্য থাকতেই হবে।'
ভ্যান্সের মন্তব্যের নিন্দা ভারতের
এর আগে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের মন্তব্যের নিন্দা জানায়। ভ্যান্স ভারতীয়সহ অন্যান্য দেশের পেশাজীবীদের 'চুক্তিবদ্ধ দাস' হিসেবে তুলনা করেছিলেন। ভারত এই মন্তব্যকে অযৌক্তিক ও অত্যন্ত আপত্তিকর বলে অভিহিত করে।
ভারত আরও বলেছিল, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) ও ইনফোসিসের মতো বড় ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড-সংক্রান্ত আবেদনপ্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।
ভ্যান্সের মন্তব্যের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, 'আমরা মনে করি, এ ধরনের বর্ণনা অযৌক্তিক। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরা উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ। তারা দেশটির অর্থনীতি এবং উদ্ভাবনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।'
