গাজায় ইসরায়েলের ‘ভয়াবহ আচরণ’ ঠেকাতে বাইডেনের আরও কিছু করা উচিত ছিল: কমলা হ্যারিস
সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস গত বুধবার বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের 'ভয়াবহ আচরণ' ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কিছু করা উচিত ছিল।
হ্যারিস তার এই বক্তব্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের ব্যর্থতা স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন। যদিও তিনি নিজেও এই প্রশাসনেরই অংশ ছিলেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারেরও কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।
হ্যারিস বলেন, গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলি সরকারের ''ভয়াবহ আচরণ নিয়ন্ত্রণে নিজেদের প্রভাব কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র 'মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তার নৈতিক দায়বদ্ধতা' পালনে 'ব্যর্থ হয়েছে'।''
তার ভাষ্য, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন নেতানিয়াহুকে কার্যত অবাধ ছাড় (ব্ল্যাঙ্ক চেক) দিয়ে রেখেছে এবং এর আগের প্রশাসনে যখন আমাদের আরও দ্রুত ও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল, উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আসান ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন সাবেক এই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
২০২৮ সালে অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনার মধ্যেই হ্যারিস এমন কথা বললেন। গাজা যুদ্ধ মোকাবিলায় বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা এখনো প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে অবিশ্বাসের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এবং গাজায় পরবর্তী যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের প্রতি জো বাইডেনের অবিচল সমর্থন বামপন্থী ভোটারদের সমর্থন কমিয়ে দেয়।
ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২০ সালে বাইডেনকে ভোট দেওয়া কিন্তু ২০২৪ সালে হ্যারিসকে ভোট না দেওয়া ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল 'গাজায় ইসরায়েলের সহিংসতা বন্ধ করা'।
নির্বাচনী প্রচারের সময় ইসরায়েল ইস্যুতে বাইডেনের অবস্থান থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেননি হ্যারিস। তবে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকে তিনি বেশ কয়েকবার বলেছেন, গাজায় বেসামরিক হতাহত ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলের ওপর আরও বেশি চাপ প্রয়োগ করা উচিত ছিল।
গত শরতে হ্যারিস বলেছিলেন, 'প্রশাসনে থাকার সুবাদে আমাদের আরও কিছু করা উচিত ছিল। প্রভাব খাটানোর ক্ষেত্রে আমাদের হাতে আরও অনেক সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা সেগুলো কাজে লাগাইনি।'
হ্যারিস তার নির্বাচনী প্রচারের স্মৃতিকথা '১০৭ ডেজ'-এও ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি বাইডেনের প্রকাশ্য সহানুভূতির সমালোচনা করেছেন।
তিনি লিখেছেন, ''তিনি যখন আবেগের সঙ্গে বলতে পারতেন, 'আমি একজন জায়নিস্ট', তখন নিরীহ ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে তার বক্তব্য অপর্যাপ্ত ও কৃত্রিম মনে হতো।''
দুই বছর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হওয়ার পর ২০২৮ সালে আবারও নির্বাচনে লড়ার বিষয়ে হ্যারিসকে নিয়ে দলের কিছু দাতা ও প্রভাবশালী নেতা সতর্ক থাকলেও অধিকাংশ জরিপে তাকেই ডেমোক্রেটিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে দেখা যাচ্ছে।
রোববার প্রকাশিত ফোকালডাটা/ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য প্রাইমারিতে ৩০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার হ্যারিসকে পছন্দ করেন। এরপর ১৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম।
ইসরায়েলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে তিনি কী পরিবর্তন আনবেন, সে বিষয়ে হ্যারিস এখনো খুব বেশি কিছু বলেননি। তবে গত এক বছরে তিনি ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন 'আনকমিটেড' আন্দোলনের এক সহপ্রতিষ্ঠাতাও। গাজা যুদ্ধ মোকাবিলায় বাইডেনের ভূমিকার প্রতিবাদে ভোটারদের তার প্রতি সমর্থন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল এই আন্দোলন।
