ভারতের প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ মেলেনি বিরোধীদলের, আজ সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা; বন্ধ দিল্লির মেট্রো
শনিবারের ব্যাপক গণগ্রেপ্তার ও পুলিশি বাধার মুখেও ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে এই আন্দোলন করছে তারা।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিজেপি নেতা আশুতোষ রানকা জানান, একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের তারিখ নেওয়ার জন্য সোমবার সকালে তারা পুলিশের সঙ্গে দেখা করবেন। রানকা লেখেন, 'আগামীকাল সকাল ১০টায় আমি, সৌরভ দাস, রত্না সিং এবং অন্যান্য সিজেপি নেতারা যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের তারিখ পেতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যাব। দিল্লি পুলিশ আমাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যন্তর মন্তরে জমায়েতের তারিখ দিতে পারে, অন্যথায় আমরা নিজেরাই আরেকটি বিক্ষোভের ডাক দেব।'
এদিকে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেসের ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত দিল্লির ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের (জনপথ, মান্ডি হাউস, বারখাম্বা রোড, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক ও প্যাটেল চক) প্রবেশ ও প্রস্থান ফটক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্টেশনগুলোতে ইন্টারচেঞ্জ বা ট্রেন পরিবর্তনের সুবিধা চালু থাকবে।
আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যাতায়াত ও ইন্টারনেটে কড়াকড়ির বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। রবিবার শীর্ষ আদালত কেন্দ্র সরকারকে দিল্লির মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলে, যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধ অবশ্যই সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদের জনশৃঙ্খলা রক্ষা বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
অন্যদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মুখে দেশটির প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। তবে বিরোধীদের সাক্ষাতের সেই অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। কনট প্লেস থেকে দুপুর দেড়টায় এই পদযাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
রবিবার পুলিশের 'প্রতিরোধমূলক হেফাজত' থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি নেতারা কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তারা বলেন, পরিস্থিতিকে 'যুদ্ধের মতো' এক অবস্থায় ঠেলে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লজ্জিত হওয়া উচিত। রবিবারও সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিট্টাস এবং এআইএসএ সভাপতি নেহা বোরাসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছেন, শনিবার তিনি যখন পুলিশের হেফাজতে ছিলেন, তখন মহারাষ্ট্রে তার ৮৫ বছর বয়সী দাদি মারা যাওয়ার পরও পুলিশ তাকে ফোন দিতে বা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয়নি। পুলিশ তার শেষকৃত্যে যাওয়ার সহায়তার দাবি করে ভিডিও প্রকাশ করলেও দীপকে সেই দাবি অস্বীকার করেছেন। দাদির মৃত্যুর কারণে তিনি রবিবার দিল্লি ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
এর আগে রবিবার দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর দীপকে, রানকা এবং সৌরভ দাসকে মুক্তি দেওয়া হয়। আগামী এক বছর 'শান্তি ভঙ্গ করবেন না' এমন শর্তে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের আইনি প্রধান রত্না সিং।
