তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনার মধ্যেই মোদির সঙ্গে হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর ‘খুব ভালো’ ও ‘দীর্ঘ’ বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের চলমান আলোচনার মধ্যেই নয়াদিল্লিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী।
বুধবার (৭ অক্টোবর) মোদির সঙ্গে তার 'খুব ভালো' ও 'দীর্ঘ' বৈঠক হয়েছে বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
জুনে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া দিনেশ ত্রিবেদী বর্তমানে তিন দিনের পরামর্শমূলক সফরে নয়াদিল্লিতে রয়েছেন। তার মোদির সঙ্গে বৈঠকের দিনই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ নিয়ে তারা 'গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী' সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।
শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের 'প্রধান চ্যালেঞ্জ'
তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের পরিকল্পনা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। তবে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার পর দুই দেশের এই আলোচনা থমকে যায়। এ নিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর আবারও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে দুই দেশ আলোচনা শুরু করেছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ভারতে শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডকে তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে 'প্রধান চ্যালেঞ্জ' হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর জবাবে বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে 'গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী' সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সম্পর্কের টানাপোড়েন
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আট মাসে তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও অংশ নেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে তিনি চার দিনের সফরে জাপান যেতে পারেন।
তবে ভারত সফরের বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয়নি।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৫ মাস অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করে।
এই সময়ে ভারত তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বড় জয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।
এরপরও ভারত থেকে দুটি আমন্ত্রণ পেয়েছেন তারেক রহমান—একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য এবং অন্যটি সর্বশেষ ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য। তবে এখন পর্যন্ত তার সফরসূচিতে ভারতের নাম ওঠেনি।
