বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ঘোড়া ‘হুগো’, বাড়ছে এখনও
বিশ্বের জীবিত সবচেয়ে দীর্ঘতম ঘোড়া হিসেবে গিনেস রেকর্ড বুকে নাম তোলা একটি শায়ার জাতের ঘোড়া হুগো । ভবিষ্যতে এটি আরও লম্বা হতে পারে, কারণ সেটির বৃদ্ধি এখনো থামেনি বলে জানিয়েছেন ঘোরাটির মালিক।
নর্দাম্পটনশায়ারের টোস্টারে বসবাসকারী হুগো নামের এই ঘোড়াটি এরই মধ্যে ১৯৯ সেন্টিমিটার (প্রায় ৬.৫ ফুট বা কাঁধ পর্যন্ত ১৯.৬ হ্যান্ডস) উচ্চতা ছুঁয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ অস্বাভাবিক।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস জানিয়েছে, চার বছর বয়সী এই ঘোড়াটির উচ্চতা নিখুঁতভাবে মাপার জন্য একজন পশু চিকিৎসকের মাধ্যমে কোনো নাল বা জুতো ছাড়াই আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল।
হুগোর মালিক ব্রেট মাস্টার্স জানান, 'একজন কায়রোপ্র্যাক্টর (হাড় ও পেশি বিশেষজ্ঞ), দন্ত চিকিৎসক, ভেটেরিনারি সার্জন এবং ম্যাসাজ বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে হুগো বেশ যত্ন পায়—যার অর্থ সে এক প্রকার "ফাইভ-স্টার জীবনযাপন" করছে।' শায়ার জাতের ঘোড়াগুলো সাধারণত তাদের দীর্ঘদেহী উচ্চতা এবং বিশাল গঠনের জন্য সুপরিচিত, যার কারণে এরা ভারী ওজন টানতে সক্ষম। আর এই কারণেই ঐতিহাসিকভাবে খামার ও পরিবহনের কাজে এদেরকে ব্যবহার করা হতো।
এখন পর্যন্ত নথিবদ্ধ ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা ও ভারী ঘোড়াটি ছিল 'স্যাম্পসন' নামের একটি শায়ার ঘোড়া (পরবর্তীতে যার নাম দেওয়া হয় ম্যামথ)। বেডফোর্ডশায়ারের টডিংটন মিলসের থমাস ক্লিভারের লালন-পালন করা এই ঘোড়াটি ১৮৫০ সালে ২.১৯ মিটার (৭ ফুট ২.৫ ইঞ্চি) লম্বা ছিল।
'টোভ ভ্যালি শায়ার হর্সেস'-এর মালিক মাস্টার্স জানান, এই জাতের ঘোড়া লালন-পালন করা তার একটি ঝোঁক। হুগো "স্থানীয়ভাবে বেশ জনপ্রিয়" হয়ে ওঠায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তারা নিজে থেকেই তার সাথে যোগাযোগ করেন। কারণ তারা শুনেছিলেন, 'সেখানে একটি বিশাল আকৃতির ঘোড়া আছে, আপনাদের ওদের সাথে কথা বলা দরকার।'
মাস্টার্স বলেন, মাত্র ১৮ মাস বয়সে তিনি যখন হুগোকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন, তখন তিনি ধারণাই করতে পারেননি যে এটি "অস্বাভাবিক রকমের লম্বা" হতে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, 'তার আরও তিন বছর বেড়ে ওঠার সময় বাকি আছে। প্রায় সাড়ে আট বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত সে বাড়তেই থাকবে, সে তো এখনো একপ্রকার বাচ্চাই। এত বেশি বাড়ার কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হবে, তাই আমাদের তাকে নিয়ে খুব সতর্ক থাকতে হয়।'
তিনি জানান, 'তার পেছনে একজন কায়রোপ্র্যাক্টর আছেন, নিয়মিত ম্যাসাজ করানো হয়, প্রতি ছয় মাসে ডেন্টিস্ট আসেন এবং ভেটেরিনারি চিকিৎসক সব সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন—কারণ তার বেড়ে ওঠার উপাদানগুলো (গ্রোথ প্লেটস) মাত্রাতিরিক্ত সক্রিয়। তাকে প্রচুর সাপ্লিমেন্ট এবং মেপে মেপে বিশেষ খাবার দিতে হয়। সে একেবারে ফাইভ-স্টার জীবনযাপন করছে, তার চাওয়ার আর কিছুই বাকি নেই।'
মাস্টার্স আরও বলেন, 'সে যখনই বাইরে বের হয়, মানুষজন থেমে যায়, তার ভিডিও করে এবং চেঁচিয়ে বলে 'এটি বিশালদেহের! কিন্তু ভীষণ শান্ত ও দয়ালু স্বভাবের এক ঘোড়া।'
তিনি জানান, এই অফিসিয়াল স্বীকৃতির জন্য তিনি কোনো প্রকার অর্থ পাননি, তবে কিছুটা রসিকতা করে বলেন, 'যদি কোনো গাজর চাষি তাকে কিছু গাজর দিতে চান, সে আনন্দের সাথেই তা গ্রহণ করবে।'
হুগোকে সবসময় নানা প্রদর্শনীতে ব্যস্ত রাখা হয়, যেখানে সে লোকজনকে দেখায় কীভাবে শায়ার জাতের ঘোড়াগুলো পুরোনো দিনে কৃষি সরঞ্জাম টানা কিংবা চাকার গাড়ি চালানো'-র মতো কাজ করত। বর্তমানে তাকে পিঠে মানুষ নিয়ে চড়ার প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
মাস্টার্স বলেন, 'সে ভীষণ শান্তিতে আছে, একটু বাড়তি আদর-যত্ন পেলেই সে দারুণ খুশি হয়ে যায়।'
