নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ শেষ হবে না: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি আরও বলেছেন, ততদিন পর্যন্ত তেলের দামও কমবে না।
বুধবার ট্রাম্প বলেন, "আমি মনে করি, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই যুদ্ধ শেষ হবে। কারণ, তারা আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না।" এ সময় তিনি তেহরানের কথা উল্লেখ করছিলেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে তার দল রিপাবলিকান পার্টির প্রথম সম্মেলনে যোগ দিতে টেক্সাসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে মার্কিন সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।
এদিকে ট্রাম্পের জনসমর্থনের জরিপের ফল ক্রমেই খারাপ হচ্ছে এবং তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য তার ওপর চাপ বাড়ছে।
বুধবার মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছায়, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "নির্বাচনের ঠিক পরেই তেলের দাম দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করবে। আমি মনে করি, মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত এর জন্য আরও কিছুটা সময় লাগবে।"
তিনি আরও বলেন, ইরান "নির্বাচনে প্রভাব ফেলার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে, যাতে আমরা সেখানে একটি বেশ দুর্বল দলকে ক্ষমতায় আনতে পারি"—এখানে তিনি সম্ভবত ডেমোক্র্যাটদের ইঙ্গিত করেছেন। এবং ইরান সম্পর্কে তিনি আরও বলেছেন, "তাদের একা ছেড়ে দিতে পারি, যাতে তারা তাদের পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে।"
যদিও তেহরান শুরু থেকেই বলে আসছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আবারও আলোচনা হতে পারে, "তবে আমরা এখন এমন কিছু নিয়ে কাজ করছি না।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুরুতে ধারণা করেছিলেন, বর্তমানে সপ্তম মাসে থাকা এই যুদ্ধ মাত্র কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে। এই সংঘাত এবং এর কারণে গ্যাস থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পর্যন্ত বিভিন্ন জিনিসের ওপর যে প্রভাব পড়েছে, তাতে তার জনসমর্থনের হার ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। এ সময় পুরো অঞ্চলের বিভিন্ন তেল স্থাপনা হামলার শিকার হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাচ্ছে এবং যেসব পণ্য পরিবহনের জন্য জাহাজ ব্যবহার করতে হয়, সেগুলোর দামও বাড়ছে।
বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং আটটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। এতে জাহাজগুলো "ব্যাপক ক্ষতির" শিকার হয়েছে বলেও গণমাধ্যমটি দাবি করেছে।
এর এক দিন আগে, ইয়েমেনে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হুথিরা সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলা চালায়। এর ফলে তেল স্থাপনাগুলোতে আগুন ধরে যায়।
সম্প্রতি আবারও শুরু হওয়া এই লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে গত মাসে শেষ হওয়ার পর। সংঘাত অব্যাহত থাকায় জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
