বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটাতে মোট অর্থনীতির এক-দশমাংশ অর্থের প্রয়োজন নেপালের
নেপালে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে দেশ পুনর্গঠনে আনুমানিক ৪ বিলিয়ন থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এই খরচের পরিমাণ নেপালের মোট অর্থনীতির প্রায় দশভাগের একভাগের সমান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শনিবার (২৯ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে।
নেপালের অর্থমন্ত্রী বলেন, 'ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হচ্ছে। এটি কেবল প্রাথমিক অনুমানমাত্র। তবে ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠনে যে পরিমাণ অর্থ লেগেছিল, এবারের ক্ষতি কাটাতে তার চেয়ে অনেক কম অর্থের প্রয়োজন হবে।'
উল্লেখ্য, বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক হিমবাহ ধসের কারণে বিশাল পরিমাণের পাথর, কাদামাটি, বরফ ও ধ্বংসাবশেষের তীব্র স্রোত পাহাড়ি নদীগুলোতে আছড়ে পড়ে। এতে নেপাল ও চীন সীমান্তে ভয়বহ বন্যা ভূমিধসের সৃষ্টি হয়। এতে উভয় অংশে এ পর্যন্ত ৬০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়াও এখনো ২ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
পাহাড়ি ঢল ও কাদামাটির স্রোতে সীমান্ত লাগোয়া একাধিক শহর লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যম বহু সেতু ও সড়ক বন্যার স্রোতে ভেসে যায়। পাশাপামি দেশটির মূল জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নেপালের জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১২ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করে আসছিল।
দেশটিতে ২০১৫ সালের ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠনে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। তবে সে তুলনায় এবারের দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে খরচ কেন কম হতে পারে—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি অর্থমন্ত্রী ওয়াগলে।
২০১৫ সালের সেই ভূমিকম্পটি ছিল নেপালের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়। ওই সময় প্রায় ৯ হাজার মানুষ মারা যান। ধ্বংস হয় ৫ লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি। সে সময় নেপালের মোট অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছিল।
তবে তা সত্ত্বেও, বুধবারের বন্যা পরিস্থিতি প্রবাসী আয়, পর্যটন এবং জলবিদ্যুৎ খাতের ওপর টিকে থাকা নেপালি অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
