পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, শপথ শনিবার
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে রাজ্যটির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার (৮ মে) দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে বিধানসভায় বিজেপির সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে ঘোষণা করেন।
২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় বিজেপি ২৯৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২০৭টিতে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করার কয়েক দিন পরই শুভেন্দুর নাম ঘোষণা করা হলো।
এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ এই প্রথম কোনো বিজেপি নেতার নেতৃত্বে সরকার পেতে যাচ্ছে। বিজেপির জন্য এই ঘোষণাটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কয়েক দশক ধরে রাজ্যে আঞ্চলিক ও বাম শক্তিগুলোকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের যে লড়াই বিজেপি চালিয়ে আসছিল, এই বিজয়ের মাধ্যমে তার সফল সমাপ্তি ঘটল।
আগামীকাল কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন বিজেপি সরকার শপথ গ্রহণ করবে। এই জমকালো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এবং বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
'ভূমিপুত্র' তত্ত্ব ও শুভেন্দুর উত্থান
নির্বাচনি প্রচারণার শুরু থেকেই বিজেপি নেতারা বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন 'ভূমিপুত্র', যার শিকড় এই মাটির ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে। সেই প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারী আগে থেকেই এই পদের জন্য দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন।
এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী একটি অত্যন্ত প্রতীকী ও বড় জয় উপহার দিয়েছেন। তিনি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত 'ভবানীপুর' আসনে পরাজিত করেছেন। পাশাপাশি শুভেন্দু তার নিজস্ব কেন্দ্র 'নন্দীগ্রাম' থেকেও জয় ধরে রেখেছেন। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলন নন্দীগ্রাম থেকেই শুভেন্দুকে বাংলার অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
আসন নিয়ে সিদ্ধান্ত
চলতি সপ্তাহের শুরুতে নন্দীগ্রামে দেওয়া এক বক্তব্যে শুভেন্দু জানান, আইন অনুযায়ী ১০ দিনের মধ্যে তিনি যেকোনো একটি আসন ছেড়ে দেবেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। নিজের অনুসারীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, 'ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি আমার দায়িত্ব আমি ভুলব না।' তার সমর্থকরা বারবার তাকে নন্দীগ্রাম না ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছেন, যেটিকে শুভেন্দু নিজের রাজনৈতিক 'ভদ্রাসন' বা দুর্গ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তৃণমূল থেকে বিজেপির মসনদ
শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক যাত্রা পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক মানচিত্রেরই প্রতিফলন। এক সময় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠতম সহযোগীদের একজন ছিলেন এবং ২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তার বিজেপিতে যোগদান রাজ্য রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনে এবং শেষ পর্যন্ত গেরুয়া শিবিরের ক্ষমতায় আসার পথ প্রশস্ত করে।
বিজয়ী হওয়ার পর দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, 'আমি ২০১১ সালের পরিবর্তনের অংশ ছিলাম, আর এখন আমি 'আসল পরিবর্তন'-এর অংশ।'
পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিজেপি এমনভাবে কাজ করবে যাতে রাজ্যে তাদের সরকার আগামী ১০০ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকে।
