যুদ্ধবিরতি এখনো শেষ হয়নি; হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হলেই ইরানে বিধ্বংসী হামলা: হেগসেথ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
ইরান থেকে আসা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব হামলা ঠেকাতে বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে যে বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোনগুলো আকাশেই ধ্বংস করার ফলাফল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করছে যে, দেশের বিক্ষিপ্ত এলাকায় শোনা শব্দগুলো ইরানের দিক থেকে ধেয়ে আসা হামলা মোকাবিলায় আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল কার্যক্রমের অংশ।'
হরমুজ প্রণালি সচল করার লক্ষ্যে ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলবেন মাঁখো
হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করবেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো। আজই (মঙ্গলবার) এই দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপ হওয়ার কথা রয়েছে।
আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে এক সংবাদ সম্মেলনে মাঁখো সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি শিগগিরই ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলব।'
গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে 'নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের' প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পণ্যবাহী জাহাজের অবাধ চলাচল বজায় রাখতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে একটি আন্তর্জাতিক নৌ-প্রতিরক্ষা জোট গঠনের প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত: ড্যান কেইন
ইরানের সঙ্গে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হবে কি না, তা সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং এটি তার এখতিয়ারের বাইরে বলে জানিয়েছেন মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, উপর মহল থেকে আদেশ পাওয়ামাত্রই ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
সোমবারের ধারাবাহিক হামলার পর যুদ্ধবিরতি কি শেষ হয়ে গেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল কেইন বলেন, ইরান বর্তমানে কেবল 'হয়রানিমূলক হামলা' চালাচ্ছে।
তিনি বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, 'এই মুহূর্তে সংঘাতের মাত্রা বেশ নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। তবে কোনো প্রতিপক্ষের উচিত হবে না আমাদের এই সংযমকে আমাদের সংকল্পের অভাব হিসেবে ভুল করা।'
ইরানের বর্তমান সামরিক সক্ষমতা ও কৌশল সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে জেনারেল কেইন বলেন, 'মনে হচ্ছে ইরান তাদের দক্ষিণ অঞ্চলে কিছু একটা করার জন্য মরিয়া হয়ে আছে।'
তিনি আরও দাবি করেন যে, ইরানের সামরিক কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কাঠামো বর্তমানে অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে এবং তারা তাদের বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চাই না: পিট হেগসেথ
মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' নৌ-অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের 'অবৈধ নিয়ন্ত্রণ' ভাঙতে চায় বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানি আগ্রাসন থেকে পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে রক্ষা করা। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন বাহিনীকে ইরানের আকাশসীমা বা জলসীমায় প্রবেশ করতে হবে না।'
ইরানের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'আমরা কোনো লড়াই বা যুদ্ধ খুঁজছি না। তারা (ইরান) দাবি করে যে প্রণালিটি তাদের নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু আসলে তা নয়।'
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' চলাকালীন যদি কোনো বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তবে ইরানকে ভয়াবহ ও বিধ্বংসী হামলার মুখে পড়তে হবে।
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'বিশ্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে আমরা এই প্রণালির ওপর একটি শক্তিশালী 'লাল, সাদা ও নীল' [মার্কিন পতাকার রঙের রূপক] সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলেছি। যদি ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়, তবে তারা আমাদের প্রচণ্ড হামলার মুখোমুখি হবে।'
সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ জোর দিয়ে বলেন, 'যুদ্ধবিরতি এখনো শেষ হয়ে যায়নি।' গতকাল থেকে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পথ দেখিয়ে বের করে আনার যে মার্কিন মিশন শুরু হয়েছে, তার শুরুতে কিছুটা 'অস্থিরতা' বা সংঘাতের আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হেগসেথ এই বিশেষ নৌ-অভিযানকে বর্তমান বৃহত্তর সামরিক সংঘাত থেকে 'আলাদা ও স্বতন্ত্র' বলে উল্লেখ করেন। তিনি একে 'প্রকৃতিগতভাবে আত্মরক্ষামূলক, নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক এবং সাময়িক' একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসন যেহেতু মনে করছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি এখনো বলবৎ আছে, তাই চলমান সামরিক কার্যক্রম বা এই মিশনের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কংগ্রেসের কাছ থেকে নতুন করে কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ট্রাম্পের 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' বাস্তবায়নে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন রণতরী মোতায়েন
হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ উদ্যোগ 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' বাস্তবায়নে যোগ দিয়েছে মার্কিন রণতরী 'ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ'।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে, এই বিশালাকার বিমানবাহী রণতরীটি বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীকে সহায়তা করছে। এই রণতরীতে ৬০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান রয়েছে।
গতকালে (শুক্রবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা কাটিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল রাখা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
আলোচনার জন্য চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আজ চীন সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বেইজিং সফরের সময় আরাগচি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। দুই নেতা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
পোপের সঙ্গে 'খোলামেলা' আলোচনায় বসছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
ইরানের ওপর হামলা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পোপের সাম্প্রতিক বাকযুদ্ধের কয়েক সপ্তাহ পর এবার পোপ লিও-র সঙ্গে সাক্ষাত করতে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আগামী বৃহস্পতিবার এই দুই নেতার মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কড়া সমালোচনা করায় গত ১২ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোপকে 'ভয়াবহ' বলে অভিহিত করেছিলেন ট্রাম্প। এর দুই দিন পর ট্রাম্প আরও একটি পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, 'কেউ কি দয়া করে পোপ লিও-কে (হামলায় নিহত) ইরানি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর কথা জানাবেন?'
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের জবাবে পোপ লিও বলেছিলেন, 'আমি সকল অন্যায় কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাই। মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ারও আমি নিন্দা জানাচ্ছি।'
ভ্যাটিকানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে পোপের সঙ্গে রুবিও'র অত্যন্ত 'খোলামেলা এবং সোজাসাপ্টা' আলোচনা হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন নৌ-পথ 'ঝুঁকিপূর্ণ': হুঁশিয়ারি ইরানের
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের প্রস্তাবিত নতুন বিকল্প পথটিকে 'পাথুরে, অগভীর ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ' বলে বর্ণনা করেছে ইরান। আজ ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন 'জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার' আটকা পড়া জাহাজগুলোকে ওমানের জলসীমা দিয়ে চলাচলের পরামর্শ দিচ্ছে। সেখানে একটি 'উন্নত নিরাপত্তা বলয়' তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিকল্প পথ ব্যবহার করতে গিয়ে ইতিমধ্যে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়েছে। বিশ্বস্ত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, 'ওমান উপকূলের নিকটবর্তী জলসীমা অত্যন্ত পাথুরে। ফলে জাহাজগুলো সেখান থেকে বের হতে বা ফিরে আসতে পারছে না।'
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, 'মুসান্দাম ও আল-খাইল দ্বীপের কাছে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ উপকূলের ভৌগোলিক গঠন সামুদ্রিক করিডোর হওয়ার উপযোগী নয়। এই পাথুরে ও অগভীর অঞ্চল দিয়ে জাহাজ চলাচল করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।'
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
