ট্রাম্পের ‘সাশ্রয়ী’ ১ মিলিয়ন ডলারের গোল্ড কার্ডে ভরাডুবি, আবেদন মাত্র ৩৩৮টি
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১ মিলিয়ন ডলারের 'গোল্ড কার্ড' ভিসা প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া পায়নি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৩৮টি আবেদন জমা পড়েছে, যদিও তিনি দাবি করেছিলেন এটি 'হু হু করে বিক্রি হবে'।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উন্মোচন করা হয়। 'ট্রাম্প গোল্ড কার্ড' নামে পরিচিত এই ভিসা ক্রেতাদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য দ্রুততর সুযোগ দেওয়ার কথা বলে।
বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক জানিয়েছিলেন, ২ লাখ ভিসা বিক্রি হলে ট্রেজারি বিভাগ ১ ট্রিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। তবে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে ভিসার মূল্য ৫ মিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ১ মিলিয়ন ডলার করা হয়।
ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমার মনে হয় এটি হু হু করে বিক্রি হবে। এটি একেবারেই সস্তা।'
তবে এ সপ্তাহে আদালতে দাখিল করা এক নথিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোল্ডেন ভিসার জন্য ৩৩৮ জন আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে ৫৯ জন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পরবর্তী ধাপে পৌঁছেছেন।
গত সপ্তাহে লুটনিক বলেন, এখন পর্যন্ত মাত্র একজন আবেদনকারীকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ট্রাম্প গোল্ড কার্ডে প্রেসিডেন্টের মুখ ও স্বাক্ষর, পাশাপাশি স্ট্যাচু অব লিবার্টি ও একটি বল্ড ঈগলের ছবি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'শত শত মানুষ অপেক্ষমাণ তালিকায় আছেন।'
তিনি হাউস কমিটি অন অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন্সকে বলেন, 'এটি একটি নতুন কর্মসূচি। তারা সদ্য এটি চালু করেছে এবং নিশ্চিত করতে চায় যেন সবকিছু নিখুঁতভাবে করা হয়। এটি অত্যন্ত কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পরিচালিত একটি কর্মসূচি।'
অনুমোদন পাওয়া ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। জানুয়ারিতে র্যাপার নিকি মিনাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, তিনি বিনামূল্যে একটি ট্রাম্প কার্ড পেয়েছেন।
তবে পরে হোয়াইট হাউসের এক অজ্ঞাত কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, সেটি ভিসা নয়, বরং একটি 'স্মারক' ছিল।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জিমি গোমেজ বলেন, 'ট্রাম্প তার গোল্ড কার্ড কর্মসূচি থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বাস্তবে তা ধারেকাছেও পৌঁছায়নি।'
গোল্ড কার্ডধারীরা বিদ্যমান ইবি-১ বা ইবি-২ ভিসা শ্রেণির আওতায় পড়বেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করতে পারবেন। সাধারণত এসব কর্মভিত্তিক ভিসা 'অসাধারণ দক্ষতা' বা উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত।
তবে গোল্ড কার্ডের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের শুধু ১ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে, যা প্রমাণ করবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উল্লেখযোগ্য উপকার বয়ে আনবেন। পাশাপাশি ১৫ হাজার ডলার প্রসেসিং ফিও দিতে হবে।
ট্রাম্প কার্ডের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এই ফি পরিশোধের পর ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে 'মাত্র কয়েক সপ্তাহ' সময় লাগবে।
এ কর্মসূচির বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস।
তাদের দাবি, গোল্ড কার্ড বিদ্যমান ভিসা ব্যবস্থাকে বেআইনিভাবে প্রতিস্থাপন করছে এবং 'মেধা বা দক্ষতার চেয়ে সম্পদকে' অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এতে ভিসা পাওয়ার অপেক্ষার সময়ও বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এই চ্যালেঞ্জ খারিজের চেষ্টা করেছে। তারা জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইবি-১ ভিসার জন্য ৫১ হাজার ৩৭১টি এবং ইবি-২ ভিসার জন্য ১ লাখ ১৬ হাজার ১৯৩টি আবেদন জমা পড়েছিল।
আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়, 'গোল্ড কার্ড এবং অন্যান্য ইবি-১ ও ইবি-২ আবেদনের পরিমাণ তুলনা করলে, কোনো বিলম্বের জন্য গোল্ড কার্ডকে দায়ী করা অসম্ভব এবং অবাস্তব।'
এছাড়া ৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি প্লাটিনাম কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এই ভিসায় কর-সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা থাকবে, যার মাধ্যমে আবেদনকারীরা বছরে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন এবং বিদেশে অর্জিত আয়ের ওপর কর দিতে হবে না।
তবে এই কর্মসূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি।
লুটনিক আগেই বলেছেন, প্লাটিনাম কার্ড চালু করতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
