হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্টের
নিজের নামে বিশালাকার বহুতল ভবল কিংবা বিলাসবহুল রিসর্ট গড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরনো শখ। কিন্তু এবার খোদ ভৌগোলিক নৌপথের নাম বদলে নিজের নামে ঘোষণা দিয়ে ফের বিদ্রুপের মুখে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানের উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নাম বদলে তিনি রেখেছেন 'ট্রাম্প প্রণালি'।
নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এআই দিয়ে তৈরি একটি মানচিত্র শেয়ার করেছেন ট্রাম্প। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই সংকীর্ণ জলপথটিকে 'ট্রাম্প প্রণালি' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এই নৌপথ দিয়ে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এই পথ অবরুদ্ধ রয়েছে, যার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন আকাশছোঁয়া।
ট্রাম্পের এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রুপের ঝড় উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসমের কার্যালয় তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে কড়া ভাষায় ট্রাম্পের সমালোচনা করেছে।
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম সম্ভাব্য পদপ্রার্থী নিউসম কার্যালয় 'এক্স' হ্যান্ডলে লিখেছে: 'ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়েছে এবং তা ক্রমাগত বাড়ছে। আমেরিকানরা চড়া দাম মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেন তার "ট্রাম্প প্রণালি" খুলে দিচ্ছেন না?'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবশ্য এবারই প্রথম হরমুজকে 'ট্রাম্প প্রণালি' বলেননি। গত ২৭ মার্চ মায়ামিতে সৌদি আরব সমর্থিত এক বিনিয়োগ সম্মেলনেও একই কথা শোনা গিয়েছিল তার মুখে।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, 'আমরা আলোচনা চালাচ্ছি। যদি ইতিবাচক কিছু করা যায় তবে ভাল, কিন্তু ওদের ওই জলপথ খুলতে হবে।'
এরপরই তিনি বলেন, 'ওদের ট্রাম্প প্রণালি খুলে দিতে হবে—মানে হরমুজ প্রণালি। মাফ করবেন, দুঃখিত, মারাত্মক ভুল হয়ে গেল!'
