অনিয়ন্ত্রিত বংশবৃদ্ধি, নিরাপত্তা শঙ্কা: পাবলো এসকোবারের আনা অন্তত ৮০ জলহস্তী হত্যা করবে কলম্বিয়া
কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ সোমবার কয়েক ডজন বন্য জলহস্তী নিধনের একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। দেশটির মধ্যাঞ্চলে মুক্তভাবে বিচরণ করা এই প্রাণীগুলো বর্তমানে স্থানীয় গ্রামবাসীদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং আদি প্রজাতির প্রাণীদের উচ্ছেদ করছে। কুখ্যাত মাদক সম্রাট পাবলো এসকোবার কয়েক দশক আগে প্রথম এই জলহস্তীগুলো কলম্বিয়ায় নিয়ে এসেছিলেন।
কলম্বিয়ার পরিবেশ মন্ত্রী আইরিন ভেলেজ জানিয়েছেন, জলহস্তীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এর আগের পদ্ধতিগুলো যেমন—বন্ধ্যাকরণ বা চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ব্যর্থ হয়েছে। ভেলেজ জানান, নতুন এই পদক্ষেপের ফলে অন্তত ৮০টি জলহস্তী নিধন করা হতে পারে। তবে ঠিক কবে থেকে এই নিধন অভিযান শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানাননি।
আইরিন ভেলেজ বলেন, 'যদি আমরা এটি না করি তবে এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। আমাদের বাস্তুসংস্থান (ইকোসিস্টেম) রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নিতেই হচ্ছে।'
কলম্বিয়া হলো আফ্রিকার বাইরে একমাত্র দেশ যেখানে বন্য জলহস্তীর জনবসতি রয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে পাবলো এসকোবার ম্যাগডালেনা নদী উপত্যকায় তার বিশাল খামার 'হ্যাসিন্ডা নাপোলস'-এ একটি ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা তৈরির জন্য চারটি জলহস্তী নিয়ে এসেছিলেন। এসকোবারের মৃত্যুর পর সেই জলহস্তীগুলো বংশবিস্তার করে বর্তমানে বিশাল সংখ্যায় পৌঁছেছে।
কলম্বিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশটিতে প্রায় ১৭০টি জলহস্তী মুক্তভাবে বিচরণ করছিল। সম্প্রতি এই প্রাণীগুলোকে এসকোবারের খামার থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের এলাকাগুলোতে দেখা গেছে।
পরিবেশ কর্মকর্তারা বলছেন, এই বিশাল স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলো নদী ও খামারে গ্রামবাসীদের জন্য বিপদের কারণ হচ্ছে। পাশাপাশি, এরা 'রিভার ম্যানাটি'র মতো স্থানীয় প্রজাতির প্রাণীদের খাবার ও বসবাসের জায়গায় ভাগ বসাচ্ছে। তবে এই জলহস্তীগুলো ঘিরে স্থানীয় গ্রামগুলোতে পর্যটন ব্যবসাও গড়ে উঠেছে। এসকোবারের সেই খামারটি সরকার বাজেয়াপ্ত করার পর এখন সেটি একটি থিম পার্ক ও চিড়িয়াখানা হিসেবে পরিচালিত হয়।
অন্যদিকে, প্রাণী অধিকার কর্মীরা এই নিধন পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছেন। সিনেটর ও সমাজকর্মী আন্দ্রেয়া পাদিলা এই সিদ্ধান্তকে 'নিষ্ঠুর' বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, 'হত্যাকাণ্ড কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এই সুস্থ প্রাণীগুলো সরকারি অবহেলার শিকার।'
এর আগে, গত ১২ বছরে তিনটি সরকারের আমলে অনেক জলহস্তী বন্ধ্যাকরণের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত বিপজ্জনক এই প্রাণীগুলোকে ধরা এবং তাদের ওপর অস্ত্রোপচার করার খরচ অনেক বেশি হওয়ায় সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। এছাড়্ রোগের ঝুঁকি এবং জিনগত সীমাবদ্ধতার কারণে এদের আফ্রিকায় তাঁদের আদি আবাসে ফেরত পাঠানোও সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
