Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Saturday
June 06, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
SATURDAY, JUNE 06, 2026
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: পাকিস্তানের শেষ মুহূর্তের মধ্যস্থতা চেষ্টায় কেন যোগ দিলেন জেডি ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক

আজ জাজিরা
08 April, 2026, 04:15 pm
Last modified: 08 April, 2026, 04:24 pm

Related News

  • অবশেষে বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেল ইরানের ফুটবল দল
  • এখনও মোজতবার সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য হয়নি, তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই: ট্রাম্প
  • আমি না থাকলে এখন ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প
  • ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভর্তুকির চাহিদা বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা
  • ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ভোট: কতটা কার্যকর হবে এই পদক্ষেপ?

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: পাকিস্তানের শেষ মুহূর্তের মধ্যস্থতা চেষ্টায় কেন যোগ দিলেন জেডি ভ্যান্স

ওয়াশিংটনের এই কূটনৈতিক তৎপরতায় কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা নিয়ে ট্রাম্পকে চাপ দেওয়া হয়।তিনি বলেন, ‘তারা মার্কো ও জেডির সঙ্গে এটি করছে। আমাদের বেশ কয়েকজন মানুষ এই কাজ করছে।’
আজ জাজিরা
08 April, 2026, 04:15 pm
Last modified: 08 April, 2026, 04:24 pm
২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত বোর্ড অফ পিস-এর উদ্বোধনী বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশ্ব নেতাদের সাথে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কথা বলছেন

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কি হাতের নাগালে?

সোমবার তিনি বলেন, 'অপর পক্ষে আমরা একজন সক্রিয় ও ইচ্ছুক অংশগ্রহণকারী পেয়েছি।' আলোচনার টেবিলে থাকা প্রস্তাবটিকে তিনি 'একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ' হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে পরক্ষণেই তিনি বলেন, 'এটি যথেষ্ট নয়।'

ওয়াশিংটনের এই কূটনৈতিক তৎপরতায় কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা নিয়ে ট্রাম্পকে চাপ দেওয়া হয়। তখন তিনি এমন কিছু নিশ্চিত করেন, যা বেশ কয়েক দিন ধরেই পর্দার আড়ালে ঘটছিল।

তিনি বলেন, 'তারা মার্কো ও জেডির সঙ্গে এটি করছে। আমাদের বেশ কয়েকজন মানুষ এই কাজ করছে।' প্রশাসনের প্রধান আলোচক হিসেবে এবারই প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নাম উল্লেখ করেন তিনি।

পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের জন্য একটি সুসংহত কূটনৈতিক কৌশল দাঁড় করাতে হিমশিম খাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। এমন অবস্থায় 'অপারেশন এপিক ফিউরি' থেকে বেশ ভেবেচিন্তেই দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন ভ্যান্স।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য একটি বিষয় প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছে। তা হলো, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শেষ মুহূর্তের এই চেষ্টায় চুপিসারেই প্রধান চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ভ্যান্স। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক সামরিক উত্তেজনার দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনাই এই চেষ্টার মূল লক্ষ্য।

গত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি কড়া হুমকি দেন। তিনি বলেন, ইরান সময় বুধবার সকালের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে তেহরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালানো হবে। শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পার হয়। সোমবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ইরানের বিরুদ্ধে রীতিমতো গালিগালাজপূর্ণ এক আক্রমণাত্মক পোস্ট দেন।

আর মঙ্গলবার, ইরানের জন্য বেঁধে দেওয়া নিজের সময়সীমার প্রায় ১২ ঘণ্টা আগে, ট্রাম্প তার সেই ধ্বংসাত্মক বয়ানকে আরও উসকে দেন।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, 'আজ রাতে আস্ত একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনোই ফিরিয়ে আনা যাবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, তবে সম্ভবত এমনই হতে চলেছে।'

এর কড়া জবাব দেয় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলে, ট্রাম্প যদি সামরিক হামলা বাড়ান, তবে লক্ষ্যবস্তুর ওপর থেকে তাদের সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হবে। এই হুমকিতে পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন সকালেই ইরানের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। জবাবে সৌদি আরবের জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় আঘাত হেনেছিল ইরান।

এমন হামলা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই মধ্যস্থতার সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো একটি তথ্য জানিয়েছে। তারা জানায়, যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের দেওয়া দুই ধাপের একটি প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে রাজি করানোর চেষ্টা এখনও চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা আক্রমণাত্মক বাকযুদ্ধকে পাশ কাটিয়ে এই চেষ্টা দেশ দুটিকে শান্তি চুক্তির কাছাকাছি নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সূত্রগুলোর মতে, এটি মূলত ট্রাম্পের ওপর ভ্যান্সের প্রভাবের একটি পরীক্ষা। একইসঙ্গে আলোচনায় তার উপস্থিতি ইরানকে সংলাপের দিকে কতটা টেনে আনতে পারে, সেটিও দেখার বিষয়।

ভ্যান্সের যে ভূমিকার কথা জানা গেছে

ট্রাম্প কথা বলার আগের রাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা আল জাজিরাকে একটি বিষয় নিশ্চিত করেন। তারা জানান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে কথা বলেছেন।

গত মার্চের শেষ দিক থেকে পাকিস্তানের নেতৃত্বে চলা জোরদার মধ্যস্থতা চেষ্টারই অংশ ছিল এই ফোনালাপ। যুদ্ধ থামাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২৯ মার্চ তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আতিথেয়তা দেয় ইসলামাবাদ। এর আগে ১৯ মার্চ রিয়াদে একই আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে একটি আলোচনা হয়েছিল। সেখান থেকেই মূলত তারা নিজেদের অবস্থান এক করতে শুরু করে।

এর আগে ২৬ মার্চ মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্টকে ইরানের কর্মকর্তাদের ব্রিফ করার নির্দেশ দেন। এর মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ভ্যান্সের ভূমিকার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলে।

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একজন ঊর্ধ্বতন বেসামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো একটি খবর প্রকাশ করে। খবরে বলা হয়, ইরানি সমকক্ষদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দল দুইবার ইসলামাবাদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল।

ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, তেহরান অভ্যন্তরীণ আলোচনার জন্য আরও সময় চাওয়ায় শেষ মুহূর্তে দুটি সফরই বাতিল করা হয়। শেষমেশ তারা এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

তারপরও গত সপ্তাহান্তের মধ্যে এই প্রচেষ্টায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়। ইরান নিশ্চিত করে যে তারা একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পেয়েছে। এর ফলে বৃহত্তর আলোচনার একটি পথ তৈরি হয়। তবে তেহরান শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনাকে 'অযৌক্তিক' আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে।

তেহরান কেন ভ্যান্সকে ভিন্ন চোখে দেখে

ভ্যান্সের প্রতি ইরানের এই আপাত পছন্দের শুরুটা যুদ্ধের আগে থেকেই।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার জেনেভায় ইরানের আরাগচির সঙ্গে তৃতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা শেষ করেন। কুশনার হলেন ট্রাম্পের জামাতা এবং উইটকফের মতোই রিয়েল এস্টেট ধনকুবের। এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করা ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি বেশ আশাবাদী হয়ে ওঠেন।

পরের দিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন, 'একটি শান্তি চুক্তি আমাদের হাতের নাগালেই রয়েছে।' তিনি একে 'তাৎপর্যপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ এবং নজিরবিহীন অগ্রগতি' হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত না করার বিষয়ে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, 'বড় খবর হলো, একটি চুক্তি আমাদের হাতেই রয়েছে।'

অথচ ঠিক এর দুই দিন পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করে। এই হামলার প্রথম ধাক্কাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ আরও কয়েকজন ইরানি নেতা নিহত হন।

তেহরানের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ছিল দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বাসঘাতকতা। কারণ, ১২ দিনের সেই যুদ্ধে ইসরায়েল এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বোমা হামলা চালানোর আগে, ওই জুনেও মার্কিন কর্মকর্তারা তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।

তেহরানের 'পার্সিয়ান গালফ স্টাডিজ গ্রুপ'-এর পরিচালক জাভাদ হেইরান-নিয়া বলেন, ইরান শুরুতে উইটকফকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের একজন মধ্যপন্থী হিসেবে দেখেছিল। এই ভিত্তির ওপর ভর করেই তারা তাঁর ভূমিকা মেনে নিয়েছিল।

ফেব্রুয়ারির আলোচনার আগে কুশনার যখন এতে যোগ দেন, তখন তেহরান এটিকে গুরুত্বের একটি সংকেত হিসেবে দেখেছিল। কারণ ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বেশ ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

হেইরান-নিয়া আল জাজিরাকে বলেন, 'ইরানের মূল্যায়ন ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনার বিষয়ে বেশ আন্তরিক।'

কিন্তু আলোচনা চলা অবস্থাতেই যুদ্ধ শুরু করার জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্ত সেই মূল্যায়নকে পুরোপুরি উল্টে দেয়।

হেইরান-নিয়া বলেন, 'ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন একটি ধারণা কাজ করছে যে, যুদ্ধের আগের ওই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য সময় কেনা।'

পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো পরে জানায়, জেনেভা আলোচনার পর তেহরান কুশনার বা উইটকফ কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে রাজি হয়নি। আঞ্চলিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, অন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের তুলনায় ভ্যান্সকে সংঘাত অবসানের বিষয়ে বেশি সহানুভূতিশীল হিসেবে দেখে ইরান।

হেইরান-নিয়া বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ সমীকরণও এই পছন্দের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। খামেনির মৃত্যুর পর রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরের গোষ্ঠীগুলো নিজেদের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে।

এই যুদ্ধ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে আরও শক্তিশালী করেছে। অন্যদিকে কৌশলগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকারের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে।

হেইরান-নিয়া জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাসহ বিভিন্ন আলোচনার স্বীকৃতি এসেছে ইরানের উচ্চতর পর্যায় থেকে। তবে আলোচনার এই ধরনটি এখনও রাজনৈতিকভাবে বেশ সংবেদনশীল।

মধ্যস্থতা এক সংকটময় পর্যায়ে

মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ইসলামাবাদের সরকারি কর্মকর্তারা এই আলোচনা একটি উন্নত পর্যায়ে রয়েছে বলে বর্ণনা করেছেন।

নতুন এই কাঠামোতে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার কথা ভাবা হয়েছে। এর আওতায় শুরুতে আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ নিতে একটি প্রাথমিক চুক্তি হবে। সেই পদক্ষেপগুলো কার্যকর হলে এরপর একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হবে।

এসব পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে আগাম কোনো কথা বলা থেকেও বিরত থেকেছেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা।

পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম মঙ্গলবার এই অগ্রগতির ইঙ্গিত দেন।

এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুদ্ধ থামাতে ইসলামাবাদের 'সদিচ্ছা এবং সদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ প্রচেষ্টা' একটি 'সংকটময় ও সংবেদনশীল পর্যায়ে' পৌঁছাচ্ছে।

একজন ইরানি কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এটিই ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট প্রকাশ্য ইঙ্গিত, যা প্রমাণ করে যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রাথমিক আলোচনা ছাড়িয়ে অনেক দূর এগিয়েছে।

এতসব কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার পরও ট্রাম্প তাঁর আক্রমণাত্মক বক্তব্য বাড়িয়েই চলেছেন বলে মনে হচ্ছে।

মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, 'আজ রাতে আস্ত একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনোই ফিরিয়ে আনা যাবে না।' এরপর তিনি ইঙ্গিত দেন যে ইরানে হয়তো এরই মধ্যে 'একটি সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ সরকার পরিবর্তন'-এর প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও যোগ করেন, '৪৭ বছরের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং মৃত্যুর এই ধারার অবশেষে অবসান ঘটবে।'

রাজনীতি, দৃষ্টিভঙ্গি এবং ২০২৮

ভ্যান্সের প্রতি ইরানের এই পছন্দের বিষয়টি কেবল তাঁর ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে না। বিদেশি হস্তক্ষেপে তাঁর অতীতের রেকর্ডের সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

২০২৩ সালে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক মতামতে সিনেটর হিসেবে ভ্যান্স যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ট্রাম্পের ক্ষমতার সাফল্যের একটি অংশ নতুন কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর ওপর নির্ভরশীল।

২০২৪ সালে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্বার্থ তো পূরণ হবেই না, বরং এটি সম্পদের এক 'বিশাল অপচয়' ঘটাবে।

২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার কয়েক দিন আগে তিনি ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছিলেন, 'আমার মনে হয়, আমরা সবাই কূটনৈতিক বিকল্পই বেশি পছন্দ করি। তবে এটি আসলে নির্ভর করে ইরানিরা কী করে এবং তারা কী বলে, তার ওপর।'

হেইরান-নিয়া বলেন, ভ্যান্সকে নিয়ে তেহরানের দৃষ্টিভঙ্গি দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।

প্রথমত, পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে তাল মেলালেও শুরুতে তিনি যুদ্ধের বিপক্ষে ছিলেন বলেই দেখা হতো।

দ্বিতীয়ত, উইটকফ ও কুশনারের মতো তিনি হামলার আগের কোনো আলোচনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

হেইরান-নিয়া বলেন, 'প্রতীকী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সাধারণ মানুষের কাছে এই প্রক্রিয়াটিকে যৌক্তিক প্রমাণ করার ক্ষেত্রে ইরানের জন্য তাঁকে ব্যবহার করা অনেক বেশি সমর্থনযোগ্য।'

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের সময় ভ্যান্সের আচরণ ইরানে এমন একটি ধারণাকে জোরালো করেছে যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য খুব সতর্কভাবে নিজের অবস্থান তৈরি করছেন।

২০২৮ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে সামনের সারিতে থাকা ভ্যান্সকে এখন দুটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। একদিকে ট্রাম্পের প্রতি তাঁর আনুগত্য, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রতি তাঁর সংশয়।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ভ্যান্স ও রুবিও দুজনই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বা বাজেভাবে শেষ হলে, যুদ্ধের প্রতি রুবিওর সমর্থন তাঁর জন্য বড় দায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের অবস্থান থেকে খুব বেশি দূরে সরে গেলে ভ্যান্সকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে দেখা হতে পারে।

এই টানাপোড়েনের মধ্যে নিজেকে যুদ্ধ থামানোর কাজে যুক্ত থাকা একজন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরাই হতে পারে তাঁর জন্য একটি সম্ভাব্য মুক্তির পথ।

তেহরানের চোখও এই হিসাব-নিকাশ এড়িয়ে যায়নি। হেইরান-নিয়ার মতে, এটি 'ইরানের ভেতরে এমন একটি ছাপ তৈরি করেছে যে, ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনার জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট একটি সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছেন।' তিনি আরও বলেন, 'ট্রাম্পের ব্যবস্থার ভেতরে থেকে কাজ করলেও, তিনি একটি স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।'

Related Topics

টপ নিউজ

জেডি ভ্যান্স / ইরান যুদ্ধ / মধ্যস্ততা

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: বারক্রফট মিডিয়া
    দীর্ঘ বিরতির পর স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও ওয়্যারেবল ডিভাইস নিয়ে বাংলাদেশে ফিরছে হুয়াওয়ে
  • প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
    আসন্ন বাজেটে বড় কর ছাড় পাচ্ছে সোলার, ইভি ও ইলেকট্রনিক্স খাত
  • ছবি: সংগৃহীত
    তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব বাংলাদেশের
  • প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
    ‘বিশ্বে প্রথমবারের’ মতো ভ্যাকসিন তৈরি করল এআই, মানবদেহে সফল পরীক্ষা
  • প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
    মা‌র্কিন ভিসা প্রার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল 'পাবলিক' রাখার নির্দেশ দূতাবাসের
  • ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস
    প্রত্যাবাসনের জন্য নাগরিকত্ব যাচাই দ্রুত করতে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আহ্বান 

Related News

  • অবশেষে বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেল ইরানের ফুটবল দল
  • এখনও মোজতবার সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য হয়নি, তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই: ট্রাম্প
  • আমি না থাকলে এখন ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প
  • ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভর্তুকির চাহিদা বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা
  • ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ভোট: কতটা কার্যকর হবে এই পদক্ষেপ?

Most Read

1
ছবি: বারক্রফট মিডিয়া
বাংলাদেশ

দীর্ঘ বিরতির পর স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও ওয়্যারেবল ডিভাইস নিয়ে বাংলাদেশে ফিরছে হুয়াওয়ে

2
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

আসন্ন বাজেটে বড় কর ছাড় পাচ্ছে সোলার, ইভি ও ইলেকট্রনিক্স খাত

3
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব বাংলাদেশের

4
প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

‘বিশ্বে প্রথমবারের’ মতো ভ্যাকসিন তৈরি করল এআই, মানবদেহে সফল পরীক্ষা

5
প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
বাংলাদেশ

মা‌র্কিন ভিসা প্রার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল 'পাবলিক' রাখার নির্দেশ দূতাবাসের

6
ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস
আন্তর্জাতিক

প্রত্যাবাসনের জন্য নাগরিকত্ব যাচাই দ্রুত করতে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আহ্বান 

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net