ইরান যুদ্ধে সেনা পাঠাবে না যুক্তরাজ্য; ‘শিগগির’ চুক্তি না হলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলো ‘ধ্বংসের’ হুমকি ট্রাম্পের
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (৩০ মার্চ) ৩১তম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
ইরান যুদ্ধে সেনা পাঠাবে না যুক্তরাজ্য; স্টারমার বললেন, 'এটা আমাদের যুদ্ধ নয়'
ইরান যুদ্ধে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাজ্য এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে না।
স্টারমার বলেছেন, 'এটা আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে জড়াবো না।'
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানান, 'ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন, ব্রিটিশ স্বার্থ এবং এই অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্য) আমাদের মিত্রদের' সুরক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য 'প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ' নিচ্ছে।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চলাচলের জন্য খুলে দিতে যুক্তরাজ্য তাদের সহায়তা করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'আমরা এই যুদ্ধে কোনোভাবেই জড়িয়ে পড়ব না।'
তবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার জন্য ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এছাড়াও ইরানের নিক্ষেপ করা ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে মধ্যপ্রাচ্যে আকাশপথে যুক্তরাজ্য যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
'শিগগির' চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলো পুরোপুরি 'ধ্বংস' করা হবে: ট্রাম্প
ইরানের ওপর হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি জানান, ইরান যদি অবিলম্বে চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে দেশটির তেলক্ষেত্র, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানিশোধন কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে তারা ইরানের একটি 'তুলনামূলক যুক্তিবাদী সরকারের' সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং এতে বেশ অগ্রগতি হয়েছে।
তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ''যদি কোনো কারণে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায় এবং হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া না হয়, তবে আমরা ইরানের সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলক্ষেত্র এবং খারগ দ্বীপ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে আমাদের এই 'অভিযান' শেষ করব।''
ট্রাম্প আরও হুমকি দিয়েছেন, ইরানিদের সুপেয় পানি সরবরাহের উৎস পানি শোধনাগারগুলোতেও হামলা চালানো হবে। এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য তিনি ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত রাখবেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামরিক লক্ষ্য অর্জনই 'প্রাথমিক লক্ষ্য': মার্কো রুবিও
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আল জাজিরাকে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো এই সামরিক অভিযানের 'উদ্দেশ্যগুলো অর্জন করা'।
তিনি বলেন, 'আমরা সেই লক্ষ্যেই অবিচলভাবে কাজ করে যাচ্ছি।'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের জন্য পরস্পরবিরোধী একাধিক চূড়ান্ত লক্ষ্যের কথা বলেছেন। এগুলো হলো- ইরানের আঞ্চলিক সামরিক শক্তি ধ্বংস করা, এর নেতৃত্ব ও পারমাণবিক কর্মসূচি নির্মূল করা এবং শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে তার 'কাজ শেষ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ': রুবিও
রুবিও বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিরতা ও বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্যই ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, 'একবার কল্পনা করুন তো, এখন থেকে পাঁচ বছর কিংবা তিন বছর পরে যখন তাদের (ইরান) কাছে আরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র, আরও বেশি ড্রোন থাকত, তখন তারা তাদের প্রতিবেশি ও আমাদের সাথে কী করতে প্রস্তুত থাকত। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এ কারণেই এটি (যুদ্ধ) করা প্রয়োজন ছিল।'
'এখন যুক্তরাষ্ট্র তার কাজ শেষ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা আমাদের সব মিত্রদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি… এরা অঞ্চলের শক্তিশালী ও স্থিতিশীল দেশ। এরা আমাদের মিত্র, আমাদের বন্ধু এবং আমরা তাদের পাশে থাকব ও এই আক্রমণের মুখে তাদের সমর্থন দিয়ে যাব।'
ইরানের স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য তৈরি: রুবিও
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেছেন রুবিও। সেই সঙ্গে তিনি ইরানের স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং গত মাসে উপসাগরীয় প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে তেহরানের এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথাও বলেছেন।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ইরানের উৎক্ষেপন করা স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তৈরির একটাই উদ্দেশ্য, তা হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইনে হামলা করা।
তিনি আরও বলেন, 'সম্প্রতি আমরা যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেখেছি, ইরানকে অবশ্যই সেগুলোর উৎপাদন বন্ধ করতে হবে।'
নিজেদের জনগণকে সমর্থন না করে ইরান 'সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে' বেছে নিয়েছে: রুবিও
রুবিও বলেছেন, ইরানের কাছে কূটনীতির মাধ্যমে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা ঠেকানোর সুযোগ ছিল। তবে তারা সেটি করতে পারেনি। তারা আলোচনায় তারা ব্যর্থ হয়েছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য এখন আলোচনা চলছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমরা এটি আগেই করতে পারতাম। আমি বলতে চাইছি, এমন একটি ইরানি সরকারের কথা ভাবুন, যারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন না করে ও অস্ত্র তৈরির জন্য শত শত কোটি ডলার ব্যয় না করে সেই অর্থ ইরানের জনগণের কল্যাণে বিনিয়োগ করত, যাতে তাদের পানির অভাব না হতো, যাতে তাদের অর্থনীতিতে সুযোগ তৈরি হতো।'
'ইরানের জনগণ অসাধারণ। তারা অত্যন্ত সম্পদশালী, অত্যন্ত উদ্যোগী। কিন্তু তাদের সরকারই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা তাদের দেশের সম্পদ হিজবুল্লাহ, হামাস এবং অভ্যন্তরীণ শিয়া মিলিশিয়াদের সমর্থনের জন্য ব্যয় করার পথ বেছে নিয়েছে', বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
১৫ দফার মার্কিন প্রস্তাব 'অবাস্তব' ও 'অযৌক্তিক', ট্রাম্পের দাবি নাকচ ইরানের
সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবকে 'অত্যধিক, অবাস্তব এবং অযৌক্তিক' বলে অভিহিত করেছে ইরান। সোমবার (৩০ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।
এর মাধ্যমে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিলেন, যেখানে ট্রাম্প বলেছিলেন যে ইরান অধিকাংশ শর্তে রাজি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা 'ইরনা'-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাগাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে না। তিনি বলেন, 'ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা বার্তাগুলো কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই আদান-প্রদান হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি সংলাপ হয়নি।'
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান তাদের দেওয়া শর্তগুলোর বেশিরভাগই মেনে নিয়েছে। বাগাইয়ের এই বক্তব্য ট্রাম্পের সেই দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বিমানের স্পেনের আকাশপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
ইরানের ওপর হামলায় অংশ নেওয়া মার্কিন সামরিক বিমানগুলোর জন্য নিজেদের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে স্পেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মারগারিতা রোবেলস এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, এর আগে যৌথভাবে পরিচালিত সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের ওপর যে বিধিনিষেধ ছিল, এখন তা আকাশপথের ক্ষেত্রেও জারি করা হয়েছে। মাদ্রিদে সাংবাদিকদের রোবেলস বলেন, 'ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য আমরা আমাদের সামরিক ঘাঁটি বা আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেব না।'
স্পেনের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে মার্কিন সামরিক বিমানগুলোকে এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হবে। তবে জরুরি বা জরুরি প্রয়োজনে পরিচালিত ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।
দেশটির অর্থনীতি মন্ত্রী কার্লোস কুয়ের্পো বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া কোনো যুদ্ধকে সমর্থন না করার অংশ হিসেবেই স্পেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তেহরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলা, 'সামরিক ঘাঁটি' ব্যবহারের দাবি
ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইসরায়েলের দাবি, ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে 'সামরিক প্রাঙ্গণ' হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রমের আড়ালে মূলত সামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হতো, যার ফলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের পক্ষ থেকেও এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ এগিয়ে নিতে চীনে যাচ্ছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা আয়োজনের লক্ষ্যে এক বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই আগামীকাল চীন সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। বেইজিংয়ে তিনি চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক নানা বিষয়ে বৈঠক করবেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরটি এমন এক সংকটময় মুহূর্তে হচ্ছে যখন ইসলামাবাদ তেহরান ও ওয়াশিংটনকে আলোচনার টেবিলে বসানোর চেষ্টা করছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ইসহাক দার সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের সঙ্গে মিলে একটি 'চারপক্ষীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা' চালিয়ে যাচ্ছেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি সংলাপের ব্যবস্থা করা।
চীন ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের এই উদ্যোগের প্রতি তাদের প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে। গতকালের আলোচনা শেষে ইসহাক দার পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার আয়োজনে পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে চীন পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।
পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলায় আইএইএ-এর 'উদাসীনতায়' ক্ষুব্ধ ইরান
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) 'উদাসীনতার' তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই এই সমালোচনা করেন।
আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত মন্তব্যে বাগাই বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক পরিচালিত এসব হামলা স্পষ্টত অপরাধ।'
তিনি আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, 'গ্রোসি অত্যন্ত ভুল একটি পথ অবলম্বন করেছেন। আক্রমণকারীদের নিন্দা জানানোর পরিবর্তে তিনি তার সাক্ষাৎকারে এমন সব শব্দ বা ভাষা ব্যবহার করছেন, যা সমস্যাগুলোকে আরও জটিল করে তোলে।'
ইরানি মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন যে, গ্রোসির মধ্যে কোনো দৃঢ় অবস্থান এবং 'নিরপেক্ষতার' অভাব রয়েছে।
কুয়েতের পানি শোধনাগারে ইসরায়েল হামলা করেছে, দাবি ইরানের
কুয়েতের একটি পানি শোধনাগারে (ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট) হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'তাসনিম'-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ জানানো হয়।
বিবৃতিতে ইরান বলেছে, 'ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর দোষ চাপানোর উদ্দেশ্যে কুয়েতের পানি শোধন কেন্দ্রে এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী। গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা দখলদারদের নীচতা ও হীনম্মন্যতারই বহিঃপ্রকাশ।'
ইরানের সামরিক বাহিনী আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, তাদের সেনাসদস্য ও স্বার্থ এবং ইসরায়েলের সামরিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং স্থাপনাগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে অব্যাহত থাকবে।
ইসরায়েলের হাইফায় তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফার 'বাজান' তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরপরই ওই জ্বালানি শোধনাগারে আগুন ধরে যায়। এর আগে গত ১৯ মার্চও এই স্থাপনাটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল ইরান।
তেহরানের দাবি, তাদের নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামোতে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা ওই সময় এই শোধনাগারটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং আল জাজিরা কর্তৃক যাচাইকৃত একটি ভিডিওতে, হাইফার একটি ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনাগার থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
ইসরায়েলি হামলায় নৌবাহিনী প্রধানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল ইরান
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সোমবার তাদের নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এর চার দিন আগে ইসরায়েল দাবি করেছিল, তারা বিমান হামলায় তাকে হত্যা করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তাংসিরি 'সৈন্যদের সংগঠিত ও শক্তিশালী করার কাজ করার সময়' হামলার শিকার হন এবং পরে মারা যান। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট তারিখ বা আঘাতের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
গত সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাংসিরিকে হত্যার দাবি করার সময় উল্লেখ করেছিল, হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন এবং নৌ-অবরোধের পেছনে তিনি মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে তাংসিরি বেশ সক্রিয় ছিলেন এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান রূপকার।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা এ ধরণের লোকসানে 'অভ্যস্ত'। তাংসিরির মৃত্যু সত্ত্বেও ইরানি নৌবাহিনী শত্রুপক্ষের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে বলে তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে রকেট হামলা, ইরাকি বিশেষ বাহিনীর বিমান ধ্বংস
ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত মোহাম্মদ আলা বিমান ঘাঁটিতে আজ রকেট হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় একটি বিমান ধ্বংস হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করছে এবং এই হামলার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
এর আগে আল-জাজিরার প্রতিনিধি বাগদাদে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রকেটগুলো প্রতিহত করতে পারেনি। ফলে একটি রকেট সেখানে থাকা ইরাকি বিশেষ বাহিনীর একটি 'এ৩২বি' পরিবহন বিমানে সরাসরি আঘাত হানে এবং সেটিতে আগুন ধরে যায়।
তিন সপ্তাহে লেবাননের ২০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত: ইউনিসেফ
তিন সপ্তাহের যুদ্ধে লেবাননের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে ১৯ হাজার শিশু তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এই তথ্য জানিয়েছে।
লেবাননে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মার্কোলুইজি কর্সি সোমবার সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'দক্ষিণ লেবাননের শিশুদের কাছে পৌঁছানো এখন আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।' তিনি জানান, অনেক শিশু এমন কিছু এলাকায় আটকা পড়ে আছে যেখানে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে বিমান হামলায় বেশ কয়েকটি সেতু ধ্বংস হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে বড় ধরনের অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লিটানি নদীর ওপর থাকা বেশ কয়েকটি সেতু উড়িয়ে দিয়েছে।
কর্সি আরও জানান, বর্তমানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসরত শিশুদের সহায়তা করা আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। এদের মধ্যে অনেক শিশু কয়েকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বারবার মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছে।
বর্তমানে স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় ইউনিসেফ শিশুদের টিকাদান, চিকিৎসা এবং প্রাথমিক শিক্ষা বা 'লার্নিং হাব'-এর মতো মৌলিক সেবাগুলো দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ইউনিসেফের মতে, লেবাননের কিছু কিছু এলাকায় বোমাবর্ষণের ফলে পানির ট্যাংক ও পাম্পিং স্টেশন ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের সুপেয় পানি পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া হাসপাতাল, সেতু এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও এই হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
লেবাননে পৃথক হামলা ও দুর্ঘটনায় ৬ ইসরায়েলি সেনা আহত
লেবাননের মাটিতে পৃথক হামলার ঘটনায় অন্তত ছয়জন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, গতকাল বিকেলে দক্ষিণ লেবাননে এক হামলার ঘটনায় দুইজন সেনা গুরুতর আহত হন। তাদের লক্ষ্য করে একটি ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছিল।
সামরিক বাহিনীর অন্য একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনাদের কাছাকাছি একটি ড্রোন আছড়ে পড়ায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া একটি 'অপারেশনাল দুর্ঘটনায়' আরও একজন সেনা আহত হন। আহত সকল সেনাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাতে এ পর্যন্ত দেশটিতে ১,০০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
বাগদাদে মার্কিন 'ভিক্টরি বেস'-এ রকেট হামলা, বিমানে আগুন
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আজ শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাগদাদ শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি 'ভিক্টরি বেস' লক্ষ্য করে এই রকেট হামলা চালানো হয়।
জানা গেছে, ঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রকেটগুলো প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে একটি রকেট সেখানে থাকা ইরাকি বিশেষ বাহিনীর 'এ৩২বি' মডেলের একটি পরিবহন বিমানে আঘাত হানে এবং এতে আগুন ধরে যায়।
বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম মার্কিন ভিক্টরি বেসে হামলার ঘটনা ঘটল। তবে এই ঘাঁটিতে বর্তমানে কোনো আমেরিকান সেনা নেই, কারণ যুক্তরাষ্ট্র আগেই ঘাঁটিটি খালি করে ফেলেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাটি অত্যন্ত প্রতীকী। কারণ ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের সময় এই ভিক্টরি বেস ছিল দেশটির সবথেকে সুরক্ষিত এলাকা। এখন সেই জায়গাতেও হামলা চালানো সম্ভব হচ্ছে। এদিকে, গত রাতভর বাগদাদের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ইরাকের কুর্দি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের রাজধানী এরবিলে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ড্রোনগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার পাউন্ড ইউরেনিয়াম ছিনিয়ে আনার পরিকল্পনা ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান থেকে ১,০০০ পাউন্ড ইউরেনিয়াম বের করে আনার লক্ষে একটি সামরিক অভিযানের কথা বিবেচনা করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই অভিযানের জন্য মার্কিন বাহিনীকে সম্ভবত কয়েক দিন বা তারও বেশি সময় ইরানের অভ্যন্তরে অবস্থান করতে হতে পারে। ট্রাম্প এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে তিনি এই পরিকল্পনার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন। মূলত ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে—সেই লক্ষ্য অর্জন করতেই তিনি এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন।
এদিকে আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রে মজুত থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দের অভিযানে ব্যবহার করা হতে পারে। এছাড়া, তাদের খারগ দ্বীপ দখল অথবা হরমুজ প্রণালি রক্ষার কাজেও লাগানো হতে পারে।
বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম, এশিয়ায় শেয়ারে দরপতন
ইরান যুদ্ধের তীব্রতা বাড়তেই সোমবার বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম। ইসরায়েলের দিকে ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের তেল দখলের ইচ্ছাপ্রকাশের পর জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও প্রবল হচ্ছে।
মে মাসের ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স-এর দাম ৩.২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এশিয়ার বাজারে সোমবার সকালে তা পৌঁছায় ব্যারেলপ্রতি ১১৬.১২ ডলারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই মাসিক মূল্যবৃদ্ধি একটি রেকর্ড হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাশাপাশি আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচার্স-এর দরও ৩.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২.৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া এশিয়ায় শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। সোমবার জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচকের দরপতন হয়েছে ৪.৫ শতাংশ, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি-র দরপতন হয়েছে ৩.৫ শতাংশ।
ইরানে ইতোমধ্যে 'সরকার পরিবর্তন' হয়ে গেছে: দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চালানো হামলাগুলো কার্যত 'রেজিম চেঞ্জ'-এর (সরকার পরিবর্তন) সমতুল্য। ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার সময় তিনি দেশটির সরকার পরিবর্তনের যে দাবি করেছিলেন, এয়ার ফোর্সেস ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালেও তিনি সেই একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন।
বাস্তবিক অর্থে ইরানের সামগ্রিক ইসলামী প্রজাতন্ত্র শাসনব্যবস্থা এখনও ভেঙে পড়েনি। তবে ট্রাম্প স্পষ্টতই সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং আরও ডজনখানেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করাকে পুরানো সরকারের পতন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।
এয়ার ফোর্সেস ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'একটি শাসনব্যবস্থা ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, তারা সবাই মারা গেছে। পরবর্তী স্তরের নেতারাও প্রায় শেষ। এখন আমরা এমন এক তৃতীয় স্তরের নেতৃত্বের সাথে কাজ করছি যাদের সাথে আগে কেউ কাজ করেনি... এবং সত্যি বলতে, তারা অত্যন্ত যুক্তিবাদী আচরণ করছে।'
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আদায়ের চেষ্টা নিমেষেই বন্ধ করে দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানের টোল আদায়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'খবরটি সত্য কি না তা আমাকে আগে খতিয়ে দেখতে হবে।'
তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে অত্যন্ত দ্রুত এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, 'আমরা মাত্র ২ মিনিটে এটি বন্ধ করে দিতে পারি। আমরা এটি এত দ্রুত বন্ধ করব যে আপনার মাথা ঘুরে যাবে।'
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন এখন ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা লড়াই করছে।
তিনি বলেন, 'তারা আক্রান্ত হওয়ায় অবাক হয়েছিল। আমিও খুব অবাক হয়েছিলাম যে তাদের ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু একবার আঘাত পাওয়ার পর তারা খুব ভালোভাবে লড়াই শুরু করেছে। আমাদের মধ্যে অত্যন্ত জোরালো যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে এবং তারা সবাই এখন যুদ্ধ করছে।'
লেবাননে 'নিরাপত্তা বলয়' আরও বাড়ানোর নির্দেশ নেতানিয়াহুর
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি দক্ষিণ লেবাননে তথাকথিত 'নিরাপত্তা বলয়' (সিকিউরিটি জোন) আরও সম্প্রসারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) নর্দান কমান্ডের সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে যেকোনো অনুপ্রবেশের হুমকি 'চূড়ান্তভাবে নস্যাৎ করা' এবং সীমান্ত এলাকা থেকে ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দূরে সরিয়ে দেওয়াই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
তবে এই সম্প্রসারণ গত সপ্তাহে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের ঘোষিত সীমানা ছাড়িয়ে যাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। কাটজ এর আগে বলেছিলেন, এই নিরাপত্তা বলয় লিটানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এবং উত্তর ইসরায়েলের ওপর হিজবুল্লাহর হুমকি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত কোনো লেবানিজ বাসিন্দাকে সেখানে থাকতে দেওয়া হবে না।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজের সেই বক্তব্য ছিল লেবানন নিয়ে ইসরায়েল সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সবথেকে জোরালো বার্তা। এর ফলে লেবাননের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১০ শতাংশ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এই বাফার জোন তৈরির পরিকল্পনাটি ১৯৮৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের সময়কার পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
বর্তমানে ওই এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। আইডিএফ দাবি করেছে যে তাদের সাম্প্রতিক অভিযানে হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, লেবাননে নতুন করে অনুপ্রবেশ শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন ইসরায়েলি সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের তেল সম্পদ কবজা করতে চান এবং দেশটির প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখল করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'সত্যি বলতে কি, আমার সবথেকে প্রিয় কাজ হলো ইরানের তেল দখল করা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কিছু নির্বোধ লোক আছে যারা প্রশ্ন তোলে—কেন আমি এমনটা করছি? তারা আসলে বোকা লোক।'
ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন , এই তেল দখলের জন্য খারগ দ্বীপ সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, 'হয়তো আমরা খারগ দ্বীপ দখল করব, আবার হয়তো করব না। আমাদের সামনে অনেক পথ খোলা আছে। তবে এর মানে হলো আমাদের সেখানে (খারগ দ্বীপে) কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করতে হবে।'
দ্বীপটিতে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেমন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তা তুচ্ছ করে বলেন, 'আমার মনে হয় না তাদের কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমরা খুব সহজেই এটি দখল করতে পারব।'
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৩,৫০০ মার্কিন সেনা পৌঁছেছে। সংঘাত আরও বাড়লে মার্কিন সেনারা ইরানি হামলার সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে বড় ধরনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প আরও জানান, পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা বেশ ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে শিগগিরই কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি। তিনি শুধু বলেন, 'খুব দ্রুতই একটি সমঝোতা হতে পারে।'
কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে ইরানের হামলা, ভারতীয় শ্রমিক নিহত
কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে ইরানের হামলায় একজন ভারতীয় শ্রমিক নিহত হয়েছেন। কুয়েত কর্তৃপক্ষ সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'কুয়েত রাষ্ট্রের ওপর ইরানের চলমান আগ্রাসনের অংশ হিসেবে একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারের সার্ভিস ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে সেখানে কর্মরত একজন ভারতীয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ভবনটির ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার পরপরই কারিগরি ও জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে প্ল্যান্টের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কাজ শুরু করেছে।
এই হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কুয়েতি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হামলায় প্ল্যান্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েত সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি মালিক ট্রাইনা জানিয়েছেন, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই কুয়েত বারবার হামলার শিকার হচ্ছে।
তিনি বলেন, 'মাত্র গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যায় কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ড্রোন একটি সামরিক ক্যাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, যেখানে ১০ জন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।'
যুদ্ধবাজদের কড়া সমালোচনা করলেন পোপ লিও চতুর্দশ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে ভ্যাটিকান সিটিতে পাম সানডে উদযাপনরত পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে পোপ লিও চতুর্দশ বলেছেন, যেসব নেতা যুদ্ধ শুরু করেন এবং যাদের 'হাত রক্তে ভেজা', ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করেন।
পোপ বলেন, 'আমাদের ঈশ্বর হলেন যিশু, যিনি শান্তির রাজা। তিনি যুদ্ধকে ঘৃণা করেন এবং যুদ্ধকে বৈধতা দেওয়ার জন্য কেউ তাঁকে ব্যবহার করতে পারে না।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'যারা যুদ্ধ করে, ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা শোনেন না বরং তা প্রত্যাখ্যান করেন।'
বাইবেলের একটি উদ্ধৃতি দিয়ে পোপ বলেন, 'তোমরা যতই প্রার্থনা করো না কেন, আমি তা শুনব না; কারণ তোমাদের হাত রক্তে রঞ্জিত।'
