Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Monday
June 08, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
MONDAY, JUNE 08, 2026
নীতি নয়, ইলিশ বোঝে পানির ভাষা; জলবায়ু পরিবর্তনে টিকবে তো জাতীয় মাছ?

ফিচার

সুমনা শারমিন স্বর্ণা
05 June, 2026, 08:45 pm
Last modified: 05 June, 2026, 09:39 pm

Related News

  • পহেলা বৈশাখের আগে ইলিশের দাম চড়া, স্বস্তি নেই সবজি-মুরগিতেও
  • ইনডোর ইলিশ চাষে সরকারের অনুমোদন নেই: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
  • দেশে প্রথম ইনডোরে ইলিশ চাষ করবে প্রাণ-আরএফএল, যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ ৪৩০ কোটি টাকা
  • ভারতে গেল মাত্র ১০৭ টন ইলিশ, রপ্তানির অনুমতি ছিল ১২০০ টন
  • ২০২৫ সালে ভারতে ১৪৫ টন ইলিশ রপ্তানি, ৭ বছরে সর্বনিম্ন; ১ বছরে দাম বেড়েছে ২৮-৫২%

নীতি নয়, ইলিশ বোঝে পানির ভাষা; জলবায়ু পরিবর্তনে টিকবে তো জাতীয় মাছ?

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইলিশের বিস্তার অভ্যন্তরীণ নদী থেকে ধীরে ধীরে সাগর ও মোহনাকেন্দ্রিক অঞ্চলের দিকে সরে যাচ্ছে। ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে মোট উৎপাদনের প্রায় ৯৪ শতাংশ আসত নদী থেকে। কিন্তু ২০১২-১৩ সালে চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। সেসময় প্রায় ৭২ শতাংশ ইলিশ ধরা পড়ে সামুদ্রিক জলসীমায় এবং ২৮ শতাংশ নদী থেকে।
সুমনা শারমিন স্বর্ণা
05 June, 2026, 08:45 pm
Last modified: 05 June, 2026, 09:39 pm
ফাইল ছবি: টিবিএস

ইলিশ জানে না অক্টোবর মাস কখন শুরু হয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞা কোন তারিখে কার্যকর হয়, তাও তারা জানে না। পানি যখন তাকে চলার সংকেত দেয়, তখনই সে চলতে শুরু করে।

নদীর তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, গভীরতা, অক্সিজেনের মাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে ইলিশ তার চলাচলের সংকেত পায়। এসব সংকেত পরিবর্তিত হলে ইলিশও তার চলাচলের পথ, সময় এবং প্রজননক্ষেত্র পরিবর্তন করতে পারে।

এই সূক্ষ্ম নির্ভরশীলতাই এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের কেন্দ্রে রয়েছে—জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যখন বাংলাদেশের নদী ও মোহনাগুলো ক্রমবর্ধমান চাপে রয়েছে, তখন দেশের জাতীয় মাছ ইলিশ কি টিকে থাকতে পারবে?

দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশ ইলিশকে সংরক্ষণে একটি সফলতার গল্প হিসেবে তুলে ধরেছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে।

তারা আরও জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ২৯ হাজার টন, যার বাজারমূল্য ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্বের মোট ইলিশের ৮০ শতাংশেরও বেশি বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়।

সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেছেন, বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি ইলিশ বাংলাদেশ থেকে আসে। এ মাছ দেশের জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ অবদান রাখে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িত।

তবে এই সাফল্যের গল্পের আড়ালে চাপ বাড়ছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশ উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন উৎপাদন থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে নেমে আসে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন আরও কমে ৫ লাখ ১২ হাজার টনে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বের প্রধান ইলিশ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখনও শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন উৎপাদনের পরিমাণে নয়, বরং ইলিশের ভৌগোলিক বিস্তারে।

এ মাছের ভৌগোলিক বিস্তার বদলে যাচ্ছে

সাউথইস্ট এশিয়ান ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিফডেক) -এর 'ফিশ ফর দ্য পিপল' সাময়িকীতে প্রকাশিত 'দ্য শিফটিং হ্যাবিট্যাট অব হিলসা: রিভার টু সি'সহ গত কয়েক দশকের গবেষণায় দেখা গেছে, ইলিশের বিস্তার অভ্যন্তরীণ নদী থেকে ধীরে ধীরে সাগর ও মোহনাকেন্দ্রিক অঞ্চলের দিকে সরে যাচ্ছে।

১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে মোট উৎপাদনের প্রায় ৯৪ শতাংশ আসত নদী থেকে। কিন্তু ২০১২-১৩ সালে চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। সেসময় প্রায় ৭২ শতাংশ ইলিশ ধরা পড়ে সামুদ্রিক জলসীমায় এবং ২৮ শতাংশ নদী থেকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উজানের পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো, অভিবাসন পথে প্রতিবন্ধকতা, নদী ভরাট, আবাসস্থল সংকোচন এবং অতিরিক্ত আহরণের কারণে এ পরিবর্তন ঘটছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের হালদা নদী গবেষণাগারের সমন্বয়ক ও অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া জলবায়ু পরিবর্তনকে একমাত্র বা সবচেয়ে বড় তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে দেখছেন না।

তিনি বলেন, 'আমার মতে জলবায়ু পরিবর্তনের চেয়েও মানবসৃষ্ট প্রভাব বর্তমানে বড় হুমকি হিসেবে কাজ করছে।'

তিনি দূষণ, নদী ভরাট, নাব্যতা হ্রাস এবং অতিরিক্ত মাছ ধরাকে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এমন একটি পরিবেশে প্রভাব ফেলছে, যা ইতোমধ্যে নানা কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবেশগত সামান্য পরিবর্তনও ইলিশের মতো পরিযায়ী মাছের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, 'ইলিশ তারিখ দেখে চলাচল করে না। পানির গুণগত মান ও জলবায়ুগত অবস্থা অনুকূল হলে তবেই এটি চলাচল করে।'

নদীর ভাষা বুঝে কীভাবে পথ নির্ধারণ করে ইলিশ

ইলিশের অভিবাসন নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী নয়, বরং পরিবেশের সংকেতের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।

২০১৪ সালে 'ইকোলজিক্যাল মডেলিং' সাময়িকীতে প্রকাশিত 'ডিসকভারিং স্পনিং গ্রাউন্ড অব হিলসা শ্যাড (টেনুয়ালোসা ইলিশা) ইন দ্য কোস্টাল ওয়াটার্স অব বাংলাদেশ'- শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, ইলিশের অভিবাসন ও প্রজনন নির্ভর করে পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, দ্রবীভূত অক্সিজেন, স্রোত, বৃষ্টিপাত ও পানির গুণগত মানের ওপর। পরিবেশগত এসব সংকেত বদলে গেলে ইলিশও তার বিচরণপথ ও প্রজননক্ষেত্র পরিবর্তন করতে পারে।

জিআইএসভিত্তিক একটি পরিবেশগত মডেলে দেখা গেছে, বাংলাদেশের জলজ পরিবেশের খুব ছোট একটি অংশই উচ্চমানের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে উপযোগী। অর্থাৎ, ভৌগোলিকভাবে অনুকূল পরিবেশ এমনিতেই সীমিত।

সাম্প্রতিক আরেক গবেষণা 'অ্যাসেসমেন্ট অব স্পনিং অ্যান্ড নার্সারি হ্যাবিট্যাটস অব হিলসা ইন দ্য তেঁতুলিয়া অ্যান্ড মেঘনা রিভার এস্টুয়ারিজ'-এ লবণাক্ততার গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তেঁতুলিয়া ও মেঘনা মোহনার মতো এলাকায় ইলিশের প্রজনন ও পোনা বেড়ে ওঠার পরিবেশ খুব কম লবণাক্ততার ওপর নির্ভরশীল। মিঠা পানির প্রবাহে সামান্য পরিবর্তনও এসব এলাকার উপযোগিতা বদলে দিতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে তেঁতুলিয়া নদীর মোহনাকে বছরজুড়ে প্রায় মিঠা পানির পরিবেশ থাকার কারণে অনুকূল প্রজনন ও পোনা লালনক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এমন এলাকায় সারা বছর জাটকা ও মা ইলিশের কঠোর সুরক্ষার সুপারিশ করেছেন।

ফলে জলবায়ুগত পরিবর্তন, উজানে পানি প্রত্যাহার কিংবা অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে মিঠা পানির প্রবাহ ব্যাহত হলে ইলিশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে দূষণের মেলবন্ধন

শুধু জলবায়ু পরিবর্তনই উদ্বেগের বিষয় নয়, এর সঙ্গে দূষণ, পলি জমা এবং অতিরিক্ত মাছ ধরা প্রভৃতি সম্মিলিত প্রভাব ফেলছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে পারে। নদীর প্রবাহ কমে গেলে লবণাক্ত পানি মোহনার আরও ভেতরে প্রবেশ করে। শিল্পবর্জ্য ও কৃষিজমির প্রবাহিত বর্জ্য পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য এবং ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের গঠন পরিবর্তন করে, যা ইলিশের খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি।

২০১৫ সালে প্রকাশিত 'ক্লাইমেটিক অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোজেনিক ফ্যাক্টরস চেঞ্জিং স্পনিং প্যাটার্ন অ্যান্ড প্রোডাকশন জোন অব হিলসা ফিশারি ইন দ্য বে অব বেঙ্গল'- গবেষণায় বলা হয়েছে, মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড, জলবায়ু পরিবর্তন, পলি জমা এবং নদী অববাহিকার পরিবর্তনের কারণে ইলিশের অভিবাসন পথ ও প্রজননক্ষেত্র ব্যাহত, স্থানচ্যুত কিংবা ধ্বংস হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দুই দশকে অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে ইলিশ উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে, বিপরীতে সামুদ্রিক উৎপাদন প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে প্রধান প্রজননক্ষেত্রগুলো হাতিয়া, সন্দ্বীপ ও ভোলার মতো নিম্ন মোহনা অঞ্চলের দিকে সরে গেছে।

কিছু এলাকায় পানির গভীরতা মাছের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার অনেক নিচে নেমে গেছে। ফলে সেখানে শুধু নৌ-চলাচলের প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং 'জৈবিক বাধা' তৈরি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

মেঘনা-হাতিয়া-সন্দ্বীপ-মনপুরা-ভোলা অঞ্চল ইতোমধ্যে অতিরিক্ত মাছ ধরা, নদীর খণ্ডিত হয়ে যাওয়া এবং পলি জমার কারণে বাড়তি চাপে রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোতে একাধিক প্রতিবন্ধক স্থান চিহ্নিত করেছে, যেখানে ইলিশের চলাচল আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চর জেগে ওঠা, গভীরতা কমে যাওয়া এবং সরু চ্যানেল তৈরি হওয়ায় সাগর ও প্রজননক্ষেত্রের মধ্যে মাছের যাতায়াত সীমিত হয়ে পড়ছে।

ফলে ইলিশের টিকে থাকা এখন ক্রমেই কয়েকটি নাজুক পরিবেশগত করিডরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

জাটকা ও ভবিষ্যৎ উৎপাদনের প্রশ্ন

ইলিশের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করে সেই নার্সারি এলাকার ওপর, যেখানে জাটকা সমুদ্রে ফিরে যাওয়ার আগে বেড়ে ওঠে।

চাঁদপুর, পদ্মার নিম্নাঞ্চল এবং তেঁতুলিয়া মোহনার কিছু অংশ এখনও গুরুত্বপূর্ণ জাটকা লালনক্ষেত্র। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, এসব আবাসস্থল যদি সংকুচিত হয় বা অল্প কয়েকটি এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তাহলে অবশিষ্ট এলাকাগুলোর ওপর চাপ আরও বেড়ে যাবে।

ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, পকেট জালের মতো ক্ষতিকর মাছ ধরার সরঞ্জাম বড় আকারের মা ইলিশকে অভিবাসন, ডিম ছাড়ার এবং সমুদ্রে ফিরে যাওয়ার আগেই ধরে ফেলতে পারে।

তার মতে, নির্দিষ্ট জালসংক্রান্ত এ দাবির বিষয়ে আরও সরকারি গবেষণা প্রয়োজন। তবে সামগ্রিক উদ্বেগটি সুপ্রতিষ্ঠিত। নির্বিচারে জাটকা ও মা ইলিশ ধরা, ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার এবং ক্রমবর্ধমান মাছ ধরার চাপ নদীকেন্দ্রিক ইলিশের মজুদকে দুর্বল করে দিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা কি এখনও জীববৈজ্ঞানিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

বাংলাদেশে ইলিশ ব্যবস্থাপনা এখনও অনেকাংশে নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে ২২ দিনের মা ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকাল, আট মাসের জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি, অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা এবং সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা।

এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশে ইলিশের মজুদ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে। কিন্তু বৃষ্টিপাত, লবণাক্ততা, পানির প্রবাহ ও তাপমাত্রা যদি পরিবর্তিত হতে থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট তারিখভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা সব সময় মাছের জীববৈজ্ঞানিক সময়সূচির সঙ্গে মিল নাও খেতে পারে।

ড. কিবরিয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার আগে প্রতি বছর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, পানির গুণগত মান, জীববৈজ্ঞানিক সূচক এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য বিবেচনায় নিয়ে এর সময়কাল পর্যালোচনা করা উচিত।

তার যুক্তি হলো, মানুষ একটি তারিখ নির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু ইলিশ সাড়া দেয় পানির অবস্থার ভিত্তিতে।

তিনি আঞ্চলিক সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, ইলিশ যেহেতু পরিযায়ী মাছ, তাই বাংলাদেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও প্রতিবেশী দেশের জলসীমা উন্মুক্ত থাকলে বাংলাদেশের জেলেরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন, অথচ এসব মাছ অন্যত্র আহরণ করা হতে পারে।

জীবিকা ঝুঁকিতে

পরিবেশগত এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে একটি বড় জীবিকা-সংক্রান্ত প্রশ্ন। লাখো মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইলিশ আহরণ ও বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল।

ইলিশের চলাচলের ধরন বা আহরণের পরিমাণে যেকোনো পরিবর্তন আয়, খাদ্যনিরাপত্তা এবং নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
উপকূলীয় বাংলাদেশের ক্ষুদ্র পরিসরের ইলিশজীবীদের জলবায়ু অভিযোজন কৌশল নিয়ে ২০২৩ সালে 'ফ্রন্টিয়ার্স ইন মেরিন সায়েন্স'-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বিকল্প জীবিকা, ঋণসুবিধা, জেলেদের স্থানীয় পরিবেশগত জ্ঞান ব্যবহার, শক্তিশালী অভয়াশ্রম এবং আরও কার্যকর সংরক্ষিত এলাকা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ধরনের পদক্ষেপ না নিলে কঠোর সংরক্ষণনীতি গ্রামীণ অর্থনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ধস নয়, চাপের মুখে রয়েছে

বিভিন্ন চাপ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ইলিশ খাত ধসে পড়েনি। এটি এখনও বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে উৎপাদনশীল ইলিশ বাস্তুতন্ত্রগুলোর একটি।

এ খাত দেখিয়েছে যে জাটকা সংরক্ষণ, মা ইলিশ রক্ষা, অভয়াশ্রম এবং আইন প্রয়োগ একসঙ্গে কার্যকর হলে ইলিশের মজুদ পুনরুদ্ধার সম্ভব। তবে সামনের চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন।

এখন বিষয়টি শুধু কয়েক সপ্তাহ মাছ ধরা বন্ধ রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং নদী-মোহনা-সমুদ্রের পুরো ব্যবস্থাকে এমন অবস্থায় রাখা জরুরি, যাতে ইলিশের অভিবাসন, প্রজনন, জাটকার বেড়ে ওঠা এবং সমুদ্রে ফিরে যাওয়া অব্যাহত থাকে।

নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ এখন ইলিশ সংরক্ষণ নীতির অংশ। খনন ও নাব্যতা রক্ষা ইলিশ নীতির অংশ। শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, মিঠা পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা, জলবায়ু পূর্বাভাস এবং জেলেদের ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাও এখন ইলিশ নীতির অংশ।

ইলিশ কোনো প্রতিবাদ করবে না। নদী যদি অতিরিক্ত দূষিত, অগভীর, উষ্ণ, লবণাক্ত বা অক্সিজেনস্বল্প হয়ে পড়ে, তাহলে এটি আগের মতো আর ফিরে আসবে না।

ভবিষ্যতের উষ্ণতর বাংলাদেশে ইলিশের ভবিষ্যৎ শুধু নিষেধাজ্ঞার সময় কতজন জেলেকে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখা হলো তার ওপর নির্ভর করবে না; বরং বাংলাদেশ ইলিশের ফিরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় জলজ পরিবেশ কতটা উপযোগী রাখতে পারে, তার ওপর। কারণ ইলিশ নীতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেবে না, সে অনুসরণ করবে কেবল পানির সংকেত।

Related Topics

টপ নিউজ

ইলিশ / অক্টোবর মাস / সরকারি নিষেধাজ্ঞা

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত এই অভিনেতাকে শিগগিরই পরিচালক লোকেশ কানাগারাজের পরিচালনায় নির্মিত একটি চলচ্চিত্রে দেখা যাবে। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস
    শাহরুখ, প্রভাস বা বিজয় নন, এক চলচ্চিত্র থেকে সর্বোচ্চ আয় করেছেন যে ভারতীয় অভিনেতা
  • প্রতীকী। ছবি: সংগৃহীত
    চাচাতো-খালাতো ভাই-বোনদের মধ্যে বিয়ে: সন্তানদের যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে
  • ছবি: সংগৃহীত
    ফিফা থেকে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব কিনছে বিটিভি, ব্যয় ৭২.৭০ কোটি টাকা
  • ছবি: এনবিআর
    ব্যাংক হিসাব খুলতে ও চালু রাখতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার
  • শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
    উচ্চশিক্ষায় আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ: ৪০% একাডেমিক, ৩০% ব্যবহারিক, ২০% ইন্টার্নশিপের প্রস্তাব
  • ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। ছবি: রয়টার্স
    ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও সেখান থেকে ফিরবে বিশ্বকাপ দল: ইরান

Related News

  • পহেলা বৈশাখের আগে ইলিশের দাম চড়া, স্বস্তি নেই সবজি-মুরগিতেও
  • ইনডোর ইলিশ চাষে সরকারের অনুমোদন নেই: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
  • দেশে প্রথম ইনডোরে ইলিশ চাষ করবে প্রাণ-আরএফএল, যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ ৪৩০ কোটি টাকা
  • ভারতে গেল মাত্র ১০৭ টন ইলিশ, রপ্তানির অনুমতি ছিল ১২০০ টন
  • ২০২৫ সালে ভারতে ১৪৫ টন ইলিশ রপ্তানি, ৭ বছরে সর্বনিম্ন; ১ বছরে দাম বেড়েছে ২৮-৫২%

Most Read

1
ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত এই অভিনেতাকে শিগগিরই পরিচালক লোকেশ কানাগারাজের পরিচালনায় নির্মিত একটি চলচ্চিত্রে দেখা যাবে। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস
বিনোদন

শাহরুখ, প্রভাস বা বিজয় নন, এক চলচ্চিত্র থেকে সর্বোচ্চ আয় করেছেন যে ভারতীয় অভিনেতা

2
প্রতীকী। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

চাচাতো-খালাতো ভাই-বোনদের মধ্যে বিয়ে: সন্তানদের যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে

3
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

ফিফা থেকে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব কিনছে বিটিভি, ব্যয় ৭২.৭০ কোটি টাকা

4
ছবি: এনবিআর
অর্থনীতি

ব্যাংক হিসাব খুলতে ও চালু রাখতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার

5
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

উচ্চশিক্ষায় আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ: ৪০% একাডেমিক, ৩০% ব্যবহারিক, ২০% ইন্টার্নশিপের প্রস্তাব

6
ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও সেখান থেকে ফিরবে বিশ্বকাপ দল: ইরান

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net