ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নির্মম বোমাবর্ষণ চলছেই, ২০ বছরে ভিয়েতনামে ফেলা হয় ৭৫ লাখ টন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলার প্রথম দিনেই ইসরায়েল ১,২০০'র বেশি মিউনিশন (ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা) নিক্ষেপ করে। এই তথ্য পরদিনই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এর পক্ষ থেকে জানানো হয়। প্রথমদিনের হামলাতেই প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইতোমধ্যেই ইরানের ওপর গত জুন মাসের ১২ দিনের যুদ্ধের চেয়েও বেশি যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে। আক্রমণের ব্যাপকতা ও তীব্রতাও প্রচণ্ড।
অসম এই যুদ্ধ এখন গড়িয়েছে দশম দিনে। তবে প্রথম এক সপ্তাহে ইসরায়েল সাড়ে ৬ হাজার বোমা ফেলেছে ইরানে। এর মধ্যে অবশ্য ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নেই। সে তুলনায় ২০২৫ সালের জুনের ১২ দিনের যুদ্ধে সাড়ে ৪ হাজার বোমা ফেলে ইসরায়েল। এ তথ্য জানিয়েছে খোদ ইসরায়েলের গণমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট।
এমনকি দুদিন আগেই তেহরানের তেল শোধনাগারে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হয়। এতে জ্বালানি মজুতের ট্যাংকগুলো ধ্বংস হয়ে যায়, বিপুল জ্বালানি তেল আগুনের লেলিহান শিখা হয়ে বয়ে যায় শহরের বিভিন্ন অংশে। যুদ্ধের কারণে এই মহাবিপর্যয়ের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনো সামনে আসেনি।
তবে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, এতে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে ইরানের পরিবেশ দপ্তর ও রেড ক্রিসেন্ট। জ্বালানি তেল আগুন লাগার ফলে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত রাসায়নিক এই উদ্বেগের অন্যতম কারণ। এতে নগরীর বাসিন্দারা এসিড বৃষ্টির সম্মুখীন হতে পারেন। ক্ষতি হবে তাদের ত্বক ও ফুসফুসের।
গতকাল সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-র প্রধান তেদরোস আধানম ঘেব্রেইয়েসুস বলেন, "ইরানে পেট্রোলিয়াম স্থাপনার ক্ষতি খাদ্য, পানি ও বায়ুকে বিষাক্ত করে তোলার ঝুঁকি তুলে ধরছে। এসব বিপর্যয়ে শিশু, বৃদ্ধ ও পূর্বাপর রোগাক্রান্ত মানুষের ওপর বিশেষভাবে মারাত্মক স্বাস্থ্যগত প্রভাব পড়বে।"
মার্কিন বাহিনী ইরানে কী পরিমাণ বোমা ফেলেছে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো জানানো হয়নি। তবে এর পরিমাণও জুনের সংঘাতের তুলনায় অনেক বেশি বলেই ধারণা করা যায়। ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নিজ বক্তব্যের ফুটে উঠেছে আক্রমণের ভয়াবহতা।
সম্প্রতি তিনি বলেছেন, "(ইরানে) সারাদিন ধরে আকাশ থেকে মৃত্যু আর ধ্বংস নেমে আসছে। এটিকে কখনোই কোনো ন্যায্য লড়াই হিসেবে ভাবা হয়নি, আর এটি কোনো ন্যায্য লড়াই নয়ও। শত্রুরা যখন দুর্বল হয়ে মাটিতে পড়ে আছে, আমরা ঠিক তখনই আঘাত হানছি, আর লড়াইটা ঠিক এমনই হওয়া উচিত।"
ইরানে মার্কিন আগ্রাসনের তীব্রতা আমেরিকার আরেক যুদ্ধের কথাই মনে করিয়ে দেয়। যেখানে বিমানশক্তির বিপুল প্রদর্শন করেছিল পেন্টাগন, এবং সেবারেও অত্যন্ত নির্মমতার সঙ্গে।
ভিয়েতনামে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আগুন
মাত্র দুই দশকের ব্যবধানে ভিয়েতনাম একটি ঔপনিবেশিক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে স্নায়ুযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংঘাত কেন্দ্রে পরিণত হয়। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী সামরিক অভিযানের জন্ম দেয়। ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম হিসেবে যে লড়াই শুরু হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে এক ভয়াবহ যুদ্ধে রূপ নেয়—যেখানে বোমা, রাসায়নিক পদার্থ এবং বিদেশি সামরিক দখলদারিত্বে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ভিয়েতনাম।
যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামে প্রবেশ করেছিল দেশটিকে রক্ষার জন্য নয়, বরং নিজেদের আদর্শগত আশঙ্কার প্রতিচ্ছবি অনুযায়ী দেশটির শাসনকাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে। 'ডমিনো তত্ত্ব' দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা বিশ্বাস করতেন, যদি ভিয়েতনাম কমিউনিজম গ্রহণ করে, তবে পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াই সেই পথে হাঁটবে। এই আশঙ্কাই ওয়াশিংটনকে এমন এক সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়, যা শুধু প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি জাতি ও তার জনগণের বিরুদ্ধেই পরিচালিত হয়েছিল।
১৯৫৪ সালে প্রথম ইন্দোচিন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ভিয়েতনামকে ১৭তম প্যারালাল লাইন বরাবর ভাগ করা হয়। উত্তরে নেতৃত্ব দেন হো চি মিন-এর কমিউনিস্ট সরকার, আর দক্ষিণে ক্ষমতায় বসানো হয় যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের সমর্থিত একটি সরকার। যদিও সারাদেশে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্র এই বিভাজনকে আরও গভীর করে তোলে, যার ফলে অভ্যন্তরীণ সংঘাত দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক যুদ্ধে রূপ নেয়।
মার্কিন সামরিক কৌশলের ভিত্তি ছিল বিপুল শক্তির ব্যবহার। মার্কিন বাহিনীর কৌশলগত বোমা হামলায় ভিয়েতনামের অবকাঠামো ও গ্রামীণ অঞ্চল বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। প্রায় ৭৫ লাখ টন বোমা—যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত মোট বোমার তিন গুণেরও বেশি—ভিয়েতনামের ওপর নিক্ষেপ করা হয়। বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোট্রেস বোমারু বিমানগুলো একেকটি মিশনে বিপুল মুল্য্যের বিস্ফোরক ফেলত, এবং পুরো যুদ্ধে প্রায় ১৬ লাখ টন গোলাবারুদ ব্যবহৃত হয়।
অপারেশন রোলিং থান্ডার এবং অন্যান্য অভিযানে ধারাবাহিক বোমা হামলায় অসংখ্য গ্রাম ধ্বংস হয়, কৃষিজমি নষ্ট হয়ে যায় এবং ভিয়েতনামের অগণিত বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান। উত্তর ভিয়েতনামে প্রায় ৬০ কোটি ডলারের ভৌত ক্ষতি হয়, অথচ এই বোমা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার—বিধ্বংসী অসমতার এক নির্মম হিসাব।
বিস্ফোরকের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র রাসায়নিক যুদ্ধও পরিচালনা করে। ১ কোটি ৯০ লাখ গ্যালনের বেশি ডিফোলিয়েন্ট—যার মধ্যে কুখ্যাত এজেন্ট অরেঞ্জ ছিল—৩৫ লাখ একর জমিতে ছিটানো হয়। এই পরিবেশগত হামলা শুধু কৃষিকাজ ধ্বংস করেনি, বরং বাস্তুতন্ত্র ও মানুষের শরীরেও বিষক্রিয়া ছড়িয়ে দেয়। ডাইঅক্সিন দূষণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আজও ভিয়েতনামের অনেক এলাকায় রয়ে গেছে। জন্মগত ত্রুটি, ক্যানসার এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আক্রান্ত করছে।
১৯৬৫ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনাম যুদ্ধে প্রায় ১৭৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে—যা বর্তমান মূল্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
এই যুদ্ধে ৫৮,১৯৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হলেও বৃহত্তর সংঘাতে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ—যাদের বেশিরভাগই ভিয়েতনামী—প্রাণ হারান। নির্বিচার বোমা হামলা, অভিযানে এবং গণহত্যায় বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হন। মাই লাই হত্যাযজ্ঞে মার্কিন সেনারা ৫০০-এর বেশি নিরস্ত্র ভিয়েতনামি গ্রামবাসীকে হত্যা করে। এই ঘটনা আমেরিকান যুদ্ধযন্ত্রের নির্মমতার প্রতীক হয়ে ওঠে।
আহত ও অঙ্গহানির ঘটনা এই ট্র্যাজেডিকে আরও গভীর করে তোলে। প্রায় ৭৫ হাজার মার্কিন ভেটেরান গুরুতর প্রতিবন্ধিতার শিকার হন, তবে ভিয়েতনামের ক্ষয়ক্ষতি ছিল আরও ভয়াবহ—লাখো মানুষ পঙ্গু, এতিম বা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন। পুরো সম্প্রদায় উচ্ছেদ হয়ে যায়, আর একাধিক প্রজন্ম হারিয়ে যায় যুদ্ধের অভিঘাতে।
মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা 'ক্ষয়যুদ্ধ' কৌশলে বিশ্বাস করতেন—অর্থাৎ শত্রুপক্ষের যত বেশি সম্ভব যোদ্ধাকে হত্যা করা, যাতে তারা নতুন করে শক্তি জোগাড় করতে না পারে। কিন্তু এই কৌশল ভিয়েতনামীদের দৃঢ়তা এবং যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত দক্ষিণ ভিয়েতনামী সরকারের অজনপ্রিয়তাকে উপেক্ষা করেছিল। ১৯৬৮ সালে টেট অফেন্সিভ-এর পর স্পষ্ট হয়ে যায় যে বিজয় আর নাগালের মার্কিনীদের মধ্যে নেই।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমত দ্রুত বদলে যায়। ১৯৭১ সালে ফাঁস হওয়া পেন্টাগন পেপার্স প্রকাশ করে যে কর্মকর্তারা যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। দেশজুড়ে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে, এবং 'ভিয়েতনামাইজেশন' নামে একটি নীতি গ্রহণ করা হয়—যার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের দায়িত্ব দক্ষিণ ভিয়েতনামী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
১৯৭৫ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত দক্ষিণ ভিয়েতনামের সরকার ভেঙে পড়ে। সায়গন উত্তর ভিয়েতনামের সেনাদের দখলে চলে যায়, আর আমেরিকার শেষ হেলিকপ্টারগুলো ভবনের ছাদ থেকে লোকজন সরিয়ে নেয়। আমেরিকার এ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে বিজয়ের মধ্য দিয়ে নয়, বরং অপমানজনক প্রত্যাহারের মাধ্যমে।
ভিয়েতনাম তখন শারীরিক, অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়া জুড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। প্রায় ১৬ লাখ ভিয়েতনামী—যাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধী ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করা লোকজনও ছিল—নৌকা বা অন্য জলযানে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তাদের অনেকেই পরে "বোট পিপল" নামে পরিচিত হন।
কম্বোডিয়া ও লাওসও যুক্তরাষ্ট্রের গোপন বোমা হামলা ও সামরিক অভিযানের কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দুই দেশেও রাজনৈতিক বিপর্যয় ও কমিউনিস্ট শাসনের উত্থান ঘটে—যে ফলাফল ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আসলে সেই পরিস্থিতির পথই প্রশস্ত করেছিল।
এই যুদ্ধ ভিয়েতনামের সবুজ ভূপ্রকৃতিকে দগ্ধ ভূমিতে পরিণত করে। কোনো কোনো প্রদেশ পুরো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। নদী-খাল দূষিত হয়, বনভূমি উজাড় হয়ে যায়, এবং রাসায়নিক পদার্থে মাটি অনুর্বর হয়ে পড়ে। আজও বিস্ফোরিত না হওয়া বোমা ও গোলাবারুদ সাধারণ মানুষকে আহত করছে, আর এজেন্ট অরেঞ্জ-এর শিকার হয়ে রয়েছে বহু পরিবার।
মার্কিন সেনাদের জনমিতিক গঠন ছিল তরুণ ও জাতিগতভাবে বৈচিত্র্যময়, তবে এতে বৈষম্যের চিত্রও ফুটে ওঠে। যদিও ৮৮.৪ শতাংশ সেনা শ্বেতাঙ্গ ছিলেন, কিন্তু নিহতদের ১২.৫ শতাংশ ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ—যা অনুপাতের তুলনায় বেশি। হিস্পানিক সেনারাও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির শিকার হন, যদিও সরকারি হিসাবে তাদের অনেককে আলাদাভাবে গণনা করা হয়নি।
নারীরাও যুদ্ধের ভার বহন করেছেন—বিশেষত প্রায় ৬,২৫০ জন নার্স, যারা যুদ্ধের ভয়াবহতার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন। দেশে ফিরে তাদের অনেকেই মানসিক আঘাত নিয়ে নীরবতা ও অবহেলার মুখে পড়েন।
এই বিপুল ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও ভিয়েতনাম টিকে থাকে। দেশটি একীভূত হয়, যদিও তার মূল্য ছিল ভয়াবহ। পরবর্তী কয়েক দশক দেশটি দারিদ্র্য, আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা এবং যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতির সঙ্গে লড়াই করেছে।
তবু ধীরে ধীরে ভিয়েতনাম পুনর্গঠিত হয়েছে—গ্রাম থেকে শহর, ধাপে ধাপে। আজ ভিয়েতনাম সাফল্যের সোপানে এমন এক রাষ্ট্র, যা নিজের অতীতের ক্ষতকে দৃঢ়তায় এবং শক্তিতে রূপ দিয়েছে।
তবে এর জন্য কত মূল্য চুকাতে হয়েছিল—সে প্রশ্নটিও থেকে যায়।
ভিয়েতনাম যুদ্ধ বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি—শুধু ধ্বংসের জন্য নয়, বরং যে শিক্ষা এটি রেখে গেছে তার জন্যও। এটি ছিল এমন একটি যুদ্ধ, যা ভিয়েতনামের জন্য নয়, বরং তার বিরুদ্ধে পরিচালিত করেছিল একটি পরাশক্তি। যে বিশ্বশক্তি একটি জাতিকে নিজের ইচ্ছামতো অধীনস্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়ে বিদ্রোহী সেই জাতির ইচ্ছাশক্তি আরও শক্তিশালী বলে প্রমাণিত হয়।
