ধানক্ষেত ছিল, এক বিঘা জমির দাম ছিল ৫ হাজার টাকা—ধানমন্ডি যেন গল্পগাথাকেও হার মানায়!
ব্রিটিশ আমলে ঢাকার প্রথম পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা ছিল ওয়ারি। পাকিস্তান আমলে তৈরি হয় ধানমন্ডি। এর আগে জায়গাটি পরিচিত ছিল 'ধানমন্ডাইয়ের মাঠ' নামে।
ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুনের ঢাকার স্মৃতি-৩ বই থেকে জানা যাচ্ছে, প্রখ্যাত সাহিত্যিক সমরেশ বসুর শৈশব কেটেছে ঢাকার এক্রামপুরে। স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন,'ধানমন্ডাইয়ের মাঠ ছিল ধু ধু মাঠ। মাঠ ঘিরে ছিল ফুটবল ক্লাব। কলকাতা থেকে ফুটবল দল এলে এখানে বড় আসরের আয়োজন করা হত। আমাদের এক্রামপুর থেকে জায়গাটি ছিল অনেক দূরে, একা একা যাওয়া ছিল বারণ। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ হলে বড়দের সঙ্গী হয়ে যাওয়ার অনুমতি ছিল।'
দেশভাগের পর সি অ্যান্ড বি অধিগ্রহণ করে ধানমন্ডাই মাঠের প্রায় ৫০০ একর জমি। ঐতিহাসিকদের মতে, 'ধানমন্ডাই' নাম থেকেই ধানমন্ডি নামটি এসেছে। ধানমন্ডাই মানে ধানের আড়ৎ। প্রবীণরা বলেন, একসময় এখানে ধানের ক্ষেতও ছিল।
ধানমন্ডি ছয় নম্বর রোডের বাসিন্দা সৈয়দ সালাউদ্দিন হোসাইন জানান, ষাটের দশকের শেষ দিকেও ধান ক্ষেত দেখা যেত। তখনকার বাড়িগুলো ছিল একতলা বা দোতলা। প্রত্যেক বাড়িতেই ছিল অনেক গাছ, বিশেষ করে নারকেল। তাদের বাড়িতে একসময় একটি জাপানি পরিবার ভাড়া থাকত—এটা সে সময়ের সাধারণ চিত্র।
"প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই একটি-দুটি বিদেশি পরিবার থাকত। বিকেলে তাদের হেঁটে বেড়াতে দেখা যেত ফুটপাথে। কিন্তু এখন সেই বাড়িগুলোর বেশিরভাগই বহুতল ভবনে রূপ নিয়েছে," বললেন তিনি।
পুরোনো দিনের আবহ এখনও টিকে আছে অল্প কিছু বাড়িতে। এর একটি ধানমন্ডির ১৫/এ রোডের 'তরুছায়া'। ১৯৮৬ সালে বাড়িটি তৈরি হয়। মালিক ছিলেন এক মনোবিজ্ঞানী। পরে তিনি সামনের আট কাঠা জমি বিক্রি করে দেন কামাল ইউ আহমেদের বাবার কাছে।
কামাল আহমেদ বুয়েট থেকে যন্ত্রকৌশলে স্নাতক শেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এখন 'তরুছায়া' তার অফিস। কেউ থাকেন না সেখানে। ভাইদের কেউ ডেভেলপারের হাতে বাড়ি তুলে দিতে চান, কিন্তু কামাল সাহেব স্মৃতি ধরে রাখতে চান। পিতা-মাতার ব্যবহৃত আসবাবপত্র তিনি আগের মতোই রেখে দিয়েছেন। তার মায়ের ডাকনাম তরু ছিল বলেই বাড়ির নাম হয়েছে তরুছায়া।
তখনকার প্রায় সব বাড়িরই নাম গাছ বা প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল—তরুপল্লব, ছায়াবীথি, আরণ্যক। তরুছায়ায় এখনো আছে বড় একটি নিমগাছ, কয়েকটি আমগাছ আর নারকেল গাছ। নব্বই দশক পর্যন্তও ধানমন্ডি ছিল ঢাকার প্রধান অভিজাত এলাকা।
কামাল আহমেদ স্মৃতিচারণ করেন—বিশ্ববিদ্যালয় শেষে চাকরিসূত্রে তিনি কিছুদিন ছিলেন সিলেটে। সহকর্মীরা যখন শুনতেন তিনি ধানমন্ডির বাসিন্দা, চোখে বেশ একটা সমীহের ভাব নিয়ে তাকাতেন।
পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি ডিআইটি (ঢাকা ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট, এখনকার রাজউক) ধানমন্ডিতে এক বিঘা করে প্লট ভাগ ও বরাদ্দ শুরু করে। তখন ধানমন্ডি ছিল ঢাকার উপান্তের এক গ্রাম। ফলে আকর্ষণ ছিল কম। ডিআইটি তাই সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করল।
প্রথমে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে চেষ্টা করল, পরে প্রয়োজনে চাপও দিল। অথচ এক বিঘা জমির দাম ধরা হয়েছিল মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। কর্মকর্তারা টাকাটা জমা দিয়ে বাড়ি ফিরে দুদিন মন খারাপ করে বসে থাকতেন। আত্মীয়-স্বজনদের বলতেন, "টাকাগুলো জলে ফেলে দিয়ে এলাম।"
কামাল আহমেদ বললেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ধানমন্ডির বড়জোর ৩০ শতাংশ বাড়ি গড়ে উঠেছিল, বাকিগুলো স্বাধীনতার পর। তার বাবার একটি ফিয়াট গাড়ি ছিল। ছোটবেলায় সে গাড়িতে চড়ে তারা রায়েরবাজারের মামাবাড়ি যেতেন। তখন ধানমন্ডির বাসিন্দারা বাজার করতেন নিউমার্কেটে, আশপাশে বাজার বলতে কিছুই ছিল না। রায়েরবাজারে নদীর মাছ পাওয়া যেত, কিন্তু তাতে সব চাহিদা মিটত না।
সাংবাদিক ফয়েজ আহ্মদ স্মৃতিচারণে লিখেছেন, 'নিউমার্কেটটি উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে শুরু হয় ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার নির্মাণ, সম্প্রসারণ ও বিক্রয়। আজকের তুলনায় এক অবিশ্বাস্য কম মূল্যে ধানমন্ডির প্লটগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল তখন।'
আসলে নিউমার্কেট তৈরি হয়েছিল ধানমন্ডি ও আজিমপুরের বাসিন্দাদের জন্য। ১৯৫৪ সালে এর উদ্বোধন হয়। তখন অনেকে বলাবলি করত—এটি নূরুল আমিনের পারিবারিক মার্কেট। সে সময় এটি ছিল অভিজাতদের কেন্দ্র। এর সমকক্ষ আর কোনো মার্কেট ঢাকায় ছিল না। মার্কেটের আইসক্রিমের দোকান নভেলটির কথা এখনো মনে আছে কামাল আহমেদের।
পাকিস্তান আমলে ঢাকায় ছিল বিদেশি ডেপুটি হাইকমিশনের অফিস। স্বাধীনতার পর এগুলো পূর্ণাঙ্গ হাইকমিশন বা দূতাবাসে পরিণত হয়। এদের অনেকগুলোর অবস্থানই ছিল ধানমন্ডিতে—ভুটানি, নেপালি, সুইডিশসহ নানা মিশন। ভারতীয় হাইকমিশনও ছিল অল্পকাল আগে পর্যন্ত। এখনো এখানে রয়েছে জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গ্যেটে ইনস্টিটিউট, ফরাসি আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং ইরানি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
ইন্টারনেট সর্বজনীন হওয়ার আগে পর্যন্ত এসব কেন্দ্র প্রতিদিন বিকেলে আড্ডায় মুখর থাকত। ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো, আন্দ্রেই তারকভস্কি, ভের্নার হের্ৎসগ, ফেদেরিকো ফেলিনির চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা হতো। সেখানে সাহিত্যপ্রেমী ও সংগীতপ্রেমীরাও যোগ দিতেন।
এখনকার ধানমন্ডির একটি বড় আকর্ষণ ছায়ানট। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগীত বিদ্যানিকেতনটি নানা সময়ে দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে, কোথাও স্থায়ী হতে পারেনি। শেষে ধানমন্ডির বর্তমান স্থানে (সড়ক ১৫/এ) ২০০৬ সালে নিজস্ব ভবনে স্থায়ী হয়। এর নকশা করেছিলেন স্থপতি বশীরুল হক। সুদৃশ্য ভবনটি এখন স্থাপত্য শিক্ষার্থীদের পাঠ্য উদাহরণ।
ধানমন্ডাই মাঠকে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে লেকের অবদান ছিল অনেক। এটি মূলত কারওয়ান বাজার নদীর একটি পরিত্যক্ত খাল। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, এটি বেগুনবাড়ি খাল হয়ে গ্রিন রোড, কলাবাগান, ধানমন্ডি লেক ঘুরে তুরাগ নদীতে মিশত।
পুরো ধানমন্ডির ১৬ ভাগ জুড়ে রয়েছে লেক। দৈর্ঘ্যে তিন কিলোমিটার, প্রস্থ ৩৫ থেকে ১০০ মিটার। ভেতরে তিনটি দ্বীপ, আর যান চলাচলের জন্য দুটি ব্রিজ আছে। সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি লেক পয়ঃনিস্কাশনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লেক ঘিরে নানা আনন্দঘন কর্মকাণ্ড ছিল। সমবয়সীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও হতো—কে বেশি মাছ ধরতে পারে। বিকেলে পরিবার নিয়ে নৌভ্রমণও ছিল ধানমন্ডিবাসীর বড় বিনোদন।
ধানমন্ডি লেক যখন গড়ে উঠল, তখন এর সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হলো জাহাজবাড়ি। ধানমন্ডি ৫/এ–তে দাঁড়িয়ে থাকা এই বাড়িটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত, ছবি তুলত, মুগ্ধ হয়ে ফিরে যেত। রাতে লেকের জলে এর ছায়া পড়ত, ঢেউয়ের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ত পাড়ে।
খয়েরি রঙের এই বাড়ির আকৃতি ছিল জাহাজের মতো। নামও হয়ে গেল জাহাজবাড়ি। তবে এর আনুষ্ঠানিক নাম ছিল চিশতিয়া প্যালেস। ব্যবসায়ী একেএম আনোয়ারুল হক চৌধুরী ১৯৯৩ সালে নির্মাণকাজ শুরু করেন, পরের বছরই শেষ হয়। ষোল কাঠা জমির ওপর তৈরি বাড়িটিতে ছিল ৩৭টি মিনার ও গম্বুজ।
আনোয়ারুল হক 'শের-এ-খাজা' নামে পরিচিত ছিলেন। তাই বাড়িটির নাম রাখা হয়েছিল চিশতিয়া প্যালেস। প্রবেশপথ ছিল দুটি। প্রথম ফটক পেরোলেই পাওয়া যেত বিশাল সুইমিং পুল। এরপর দ্বিতীয় ফটক অতিক্রম করলে সামনে ছিল এক প্রশস্ত বারান্দা, পাশ দিয়ে ওপরে ওঠার সিঁড়ি।
২০১১ সালে আনোয়ারুল হক মারা যান। এরপরেও তার স্ত্রী ও সন্তানরা বাড়িটিতে ছিলেন। তবে কিছু জায়গায় ফাটল ধরায় ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। শান্তা হোল্ডিংসের সঙ্গে চুক্তি হয় এবং ২০১৫ সালে ভাঙার কাজ শুরু হয়। এখন সেখানে দাঁড়িয়ে আছে ১৪তলা ভবন—চিশতিজ ইয়ট।
২০২৩ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে অনুষ্ঠিত হয় পুরোনো ধানমন্ডি নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী। প্রচারণাপত্রে লেখা ছিল—ধানমন্ডির একটি নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় রয়েছে, যা প্রকাশ পায় এর দোতলা বাংলো, রাজকীয় ঈদগাহ মসজিদ, ছায়ানটে সকাল–সন্ধ্যার সুরেলা মহড়া আর সবুজে ঘেরা লেকের ভেতর দিয়ে।
প্রদর্শনীতে স্থান পায় পনেরটি আলোকচিত্র। রজার গোয়েন, শহীদুল আলম, ডন ম্যাটসন, আলাউদ্দিন আহমেদ, রশীদ তালুকদার প্রমুখের তোলা ছবি সাজানো হয় সেখানে। ষাট ও সত্তরের দশকের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছবি তুলেছিলেন ডন ম্যাটসন।
বাংলাদেশ ওল্ড ফটো আর্কাইভে রয়েছে তার ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২ সালের বেশ কিছু ছবি। বিশেষ করে সদরঘাট, ধানমন্ডি ও কাকরাইল চার্চ এলাকার ছবি সময়ের সাক্ষী হয়ে আছে। ১৯৬৭ সালে ধানমন্ডি লেকের পারে তোলা এক ছবিতে দেখা যায় কয়েকটি দোতলা বাংলো। সেসময় আবাহনী মাঠ ছিল ইটভাটা, ছবিটি তার প্রমাণ বহন করে। ফ্রেমের এক পাশে ধরা পড়েছে একটি পানির ট্যাংকি—যেটি আজও টিকে আছে।
ধানমন্ডিতে বাস করতেন দেশের দুই প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী—সফিউদ্দিন আহমেদ ও মোহাম্মদ কিবরিয়া। দুজনেই প্রয়াত হলেও তাদের শিল্পকর্ম এখনো দেশ-বিদেশের শিল্পপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। ধানমন্ডির চার নম্বর সড়কে সফিউদ্দিন আহমেদের পুরোনো বাড়িতে ছিল প্রদর্শনশালা 'গ্যালারি চিত্রক'। এখনো গ্যালারিটি আছে, তবে আগের মতো বাড়িটি আর নেই। সেখানে উঠেছে বহুতল ভবন, তারই কিছু অংশে টিকে আছে গ্যালারি চিত্রক।
২৭ নম্বর রোডে অবস্থিত বেঙ্গল শিল্পালয়ও ধানমন্ডির এক গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র। আগের ভবনটি ছিল এক যুগ আগেও, এখন সেখানে দাঁড়িয়ে আছে নতুন, সুদৃশ্য ও আধুনিক প্রদর্শনভবন—শিল্পপ্রদর্শনের জন্য যা আরও উপযোগী।
ধানমন্ডির সবচেয়ে পরিচিত বাড়ি হলো ৩২ নম্বরের শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে এই বাড়িটি।
তবে ধানমন্ডির গল্প আরও পুরোনো। ফিরে যেতে হবে শাহ সুজা ও শায়েস্তা খাঁর আমলে। ১৬৪০ সালের দিকে বাংলার সুবেদার ছিলেন সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজা। তার দেওয়ান মীর আবুল কাসিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একটি বিশাল ঈদগাহ নির্মাণের, যেখানে মোগলরা একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় করবেন। এজন্য তিনি মূল শহরের ভিড়ের বাইরে যে বিস্তীর্ণ ও নিরিবিলি জায়গা বেছে নেন, সেটিই আজকের ধানমন্ডি। গবেষকদের মতে, এ ঈদগাহকে কেন্দ্র করেই তখন অনেক মোগল আমীর-ওমরাদের বসতি গড়ে ওঠে এখানে।
ধানমন্ডিতেই নির্মিত হয় আরেকটি অনন্য স্থাপত্য—সাত গম্বুজ মসজিদ। ধারণা করা হয়, ১৬৮০ সালের দিকে শায়েস্তা খান এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে কেউ কেউ বলেন, তার পুত্র উমিদ খাঁ মসজিদটি গড়ে তোলেন। স্থাপত্যশৈলী অনেকটা লালবাগ দুর্গ মসজিদ ও খাজা আম্বর মসজিদের সঙ্গে মিল আছে। মসজিদটিতে আছে তিনটি প্রধান গম্বুজ ও চার কোনায় ছোট চারটি গম্বুজ, মোট সাতটি। চার ফুট পুরু দেয়ালের দৈর্ঘ্য ৩৮ ফুট, প্রস্থ ২৭ ফুট। মোগলদের ধর্মীয় সমাবেশ ও এসব স্থাপত্যকীর্তিই ধানমন্ডিকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছিল।
কালের আবর্তনে ধানমন্ডির চেহারা পাল্টে গেছে। মোগল আমলের স্থাপত্য ও পঞ্চাশের দশকের পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা—সবকিছু পেরিয়ে এখন ধানমন্ডি ভরপুর বহুতল ভবনে। সাত মসজিদ রোডে অসংখ্য খাবারের দোকান, রাস্তায় ঘন যানজট। সত্তর ও আশির দশকের ধানমন্ডি দেখা কামাল আহমেদের মতো মানুষজন সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন। তবু মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাস ফেলে চুপচাপ বলে ওঠেন, "আহা! কী সব দিন ছিল।"