‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’কে টপকে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা মিউজিক বায়োপিক এখন ‘মাইকেল’
গানের চার্টে নয়, এবার বক্স অফিসে ফ্রেডি মারকারিকে হারিয়ে দিলেন মাইকেল জ্যাকসন। প্রয়াত এই পপসম্রাটের অফিশিয়াল বায়োপিক 'মাইকেল' বক্স অফিসে ঝড় তুলে রেকর্ড গড়েছে। 'বোহেমিয়ান র্যাপসোডি'কে পেছনে ফেলে এটি এখন সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা মিউজিক বায়োপিক।
অ্যান্টোইন ফুকোয়া পরিচালিত 'মাইকেল' গত ২৪ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৯১১ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে ছবিটি।
শুক্রবার এটি 'বোহেমিয়ান র্যাপসোডি'র বৈশ্বিক আয়কে ছাড়িয়ে যায়। ফ্রেডি মারকারির বায়োপিক বিশ্বজুড়ে মোট ৯১০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। মজার বিষয় হলো, 'মাইকেল' এবং 'বোহেমিয়ান র্যাপসোডি'—দুটি ছবিরই প্রযোজক গ্রাহাম কিং।
এর আগে ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া এলভিস প্রিসলির বায়োপিক 'এলভিস'-এর আয়কেও টপকে গিয়েছিল 'মাইকেল'। ছবিটি এখন ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের মাইলফলকের দিকে এগোচ্ছে। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, চলতি মাসের শেষে প্রেক্ষাগৃহ থেকে নেমে যাওয়ার আগেই এই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবে 'মাইকেল'। আর তেমনটা হলে, বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে ঢোকা প্রথম বায়োপিক হবে এটি।
এখন 'মাইকেল'-এর লক্ষ্য সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা বায়োপিকের মুকুটটি নিজের করে নেওয়া। এই রেকর্ডটি বর্তমানে ক্রিস্টোফার নোলানের 'ওপেনহাইমার'-এর দখলে।
পারমাণবিক বোমার জনক খ্যাত বিজ্ঞানী জে. রবার্ট ওপেনহাইমারের জীবন নিয়ে নির্মিত ওই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন কিলিয়ান মার্ফি। ২০২৩ সালে মুক্তির পর ছবিটি বিশ্বজুড়ে ৯৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল।
এ বছর বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ছবিই ১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক পার করতে পেরেছে। 'দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি' গত সপ্তাহেই এই রেকর্ড গড়েছে।
'মাইকেল' নিয়ে যত কথা
অ্যান্টোইন ফুকোয়ার পরিচালনায় এবং জন লোগানের চিত্রনাট্যে তৈরি 'মাইকেল' ছবিতে প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ও ক্যারিয়ারের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। ২০০৯ সালে মাত্র ৫০ বছর বয়সে জ্যাকসনের মৃত্যুর কয়েক বছর পর তার পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় এই প্রজেক্টটি শুরু হয়।
ছবিতে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাই জারমেইন জ্যাকসনের ছেলে জাফর জ্যাকসন। আর তরুণ মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জুলিয়ানো ক্রু ভালদি।
ছবিটি মুক্তির পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। অনেক সমালোচক জাফর জ্যাকসনের অভিনয় ও ছবির মিউজিকের প্রশংসা করেছেন। তবে অনেকেই আবার ছবিটির বিরুদ্ধে মাইকেল জ্যাকসনের ইমেজকে 'হোয়াইটওয়াশ' (সত্য গোপন করে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি) করার অভিযোগ এনেছেন।
তাদের প্রধান অভিযোগ হলো, মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নির্যাতনের অভিযোগগুলো এই ছবিতে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
