কক্সবাজারে টুপটুপ রিসোর্টে ছিল না অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স, তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি
কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেকে অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর জানা গেছে এর কোনো লাইসেন্স ছিল না। মেরিন ড্রাইভের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিকে এ বিষয়ে আগে সতর্ক করা হলেও কর্তৃপক্ষ বৈধতা নেয়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন। রিসোর্টটির পরিচালনা নিয়ে স্থানীয়দের নানা অভিযোগও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু ও ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, বোয়ালখালী এলাকার তানভির আহমেদ নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে স্থানীয়দের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ ছিল। প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে অবৈধভাবে মাদক বিক্রি এবং গভীর রাত পর্যন্ত নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক তানভির আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট সবাই পলাতক রয়েছেন।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সকাল ৮টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে এবং সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
দুপুর ২টা পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার এবং ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন।
তিনি জানান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রিসোর্টটির প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করা সম্ভব হয়নি। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নিহতদের মধ্যে এ পর্যন্ত সাতজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও অপর তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
পরিচয় পাওয়া সাত নিহত হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), ফায়িজান আহম্মেদ (৫) এবং আশুলিয়ার নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৮)।
এ ঘটনায় আহত ছয়জনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে উদ্ধারকারী দল। এ ঘটনায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ছয়জনকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে ভর্তি করা হলেও দুজনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আগুনের কারণ জানা যায়নি। ঘটনার তদন্তে এডিএমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
