দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুলের জামিন হয়নি
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান ও মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন আইনজীবী এমপি গাজী নজরুলের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এ জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
জামিন আবেদনে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, আসামি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সাথে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। কেবল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করার জন্য তাকে এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা আরও জানান, ৭৫ বছর বয়সী এই বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জটিল হৃদরোগে ভুগছেন। তার স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে এবং জামিন পেলে তিনি আত্মগোপন বা এলাকা ত্যাগ করবেন না। এছাড়া গত ৩০ সেপ্টেম্বর আসামির প্রথম স্ত্রী আপোসের শর্তে জামিন পেয়েছেন, ফলে আসামি জামিন পাওয়ার হকদার।
এর আগে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সংসদ সদস্য নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন ঢাকার একটি আদালত।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই ওই রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পরবর্তীকালে একই রাতে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে গাজী নজরুল ইসলামকে চারদিন ও মাকছুদা বেগমের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ২৩ সেপ্টেম্বর এই মামলায় গ্রেপ্তার অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
a
