কুমিল্লায় হত্যার শিকার শিক্ষার্থীর মরদেহ যশোরে দাফন, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা-বাবা
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৪) মরদেহ যশোরে দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সদরের ছাতিয়ানতলা গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে গভীর রাতে তাজমিনের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয়জনের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পিতা মাতাসহ স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ার আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারসহ কুমিল্লা শহরে বসবাস করতো তাজমিন। সেখানে স্থানীয় ফরিদা বিদ্যায়াতনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এই ঘটনায় সুমন নামে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়াতে অবস্থিত তাজমিনের গ্রামে বাড়িতে দেখা যায় শোকে স্তব্ধ তার পিতা-মাতাসহ নিকট স্বজনেরা।
স্থানীয় সাংবাদিকেরা স্বজনদের ছবি তুলতে গেলে তাজমিনের মা কেয়া খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'কী হবে এসব ছবি তুলে! আমার কলিজার পাখিটা যখন চলে গেছে; এখন আর কিছু বলবো না।'
আহাজারি করে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমার পাখির সাথে কথা হয় সবশেষ গত বৃহস্পতিবার বিকালে। তখন সে বলে আমি আমার বান্ধুবীর সাথে রয়েছি। আমার বান্ধুবীর বাড়িতে আসি নিয়ে যাও। তখন আমি তাকে প্রশ্ন করি, তোর সেই বান্ধুবির নাম কী? বাবা মায়ের নাম কী? তখনও সে কিছু বলেনি।'
তাজমিনের মা ওর বান্ধবির দিকে অভিযোগের তীর ছোড়েন। দাবি করেন, তাকেই ধরলেই এই হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে। প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও।
বাবা আবদুল আলীম কুমিল্লা শহরে রেনেটা ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। একমাত্র সন্তানকে এভাবে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তিনি।
তিনি বলেন, '৪ তারিখ বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয় মেয়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তার ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে সে মেসেজ এবং লাইভ লোকেশন পাঠায়। মেসেজে ওই জায়গায় তাকে এসে নিয়ে যেতে বলে।'
তিনি বলেন, 'তখন আমি ঘুমে ছিলাম। পরে সকালে মেসেজ দেখি। তারপর লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পাই।'
তিনি আরও বলেন, 'এখন আমি অভিযোগ দিতে চাই না। আমার মেয়ের সঙ্গে কী হয়েছে, কারা তাকে হত্যা করেছে, পুরো ঘটনা জানতে চাই। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করার দাবি জানাই।'
স্থানীয়রা জানান, তাজমিনের আর কোনো ভাই-বোন নেই। সে খুব মেধাবি ছিলো। বিভিন্ন ছুটিতে বাবা মায়ের সাথে গ্রামে বেড়াতে আসতো। জেদি স্বভাবের ছিলো। এই হত্যার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
