রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন, থাকবে ৮ ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ
বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবশিষ্ট জমিতে আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাসহ ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ের 'কনস্ট্রাকশন অব ৪৪২ মেগাওয়াটপিক (ডিসি) সোলার ফটোভোলটাইক গ্রিড-কানেক্টেড পাওয়ার প্ল্যান্ট অ্যাট ব্লক-বি, রামপাল' প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটিতে ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ কারণে আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধা যুক্ত করে প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করা হবে।
তিনি বলেন, ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় নতুন করে হিসাব করতে হবে। সংশোধিত ব্যয় প্রাক্কলন তৈরির পর প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় কত হবে, তা জানা যাবে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধা ছাড়া সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬ টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছিল।
প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৭ কোটি ৩ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হবে।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র কমপ্লেক্সের ব্লক-বিতে ৬৮৫ একর ব্যবহারযোগ্য জমিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিপিডিবি। ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রামপালে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হলে দেশের জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আসবে। পাশাপাশি গ্যাস, তেল ও কয়লার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে।
নতুন ৩০টি লোকোমোটিভ পাচ্ছে রেলওয়ে
পুরোনো ইঞ্জিন প্রতিস্থাপন এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনসেবা উন্নত করতে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে 'রেলওয়ে ক্যাপাসিটি এক্সপানশন প্রজেক্ট (প্রকিউরমেন্ট অব ৩০ মিটার-গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভস ফর বাংলাদেশ রেলওয়ে)' প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) প্রকল্প ঋণ থেকে ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হবে।
পুরোনো ও জরাজীর্ণ লোকোমোটিভ প্রতিস্থাপন, আধুনিক ও নিরাপদ ইঞ্জিন সংযোজন, মিটারগেজ লোকোমোটিভের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা পূরণ করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।
প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মূলধনি ও ব্যবহার্য খুচরা যন্ত্রাংশ, সরঞ্জাম এবং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করবে। প্রযুক্তি ও জ্ঞান হস্তান্তরের জন্য রেলওয়ের প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক ও রক্ষণাবেক্ষণকর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।
প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে বর্তমানে ২৯২টি লোকোমোটিভ রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৪টি মিটারগেজ এবং ১২৮টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ।
মিটারগেজ লোকোমোটিভগুলোর মধ্যে ১১৫টি ইতোমধ্যে মেকানিক্যাল কোড ম্যানুয়াল অনুযায়ী নির্ধারিত ২০ বছরের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অতিক্রম করেছে। এমনকি ৬২টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের বয়স ৪০ বছরের বেশি হলেও সেগুলো এখনো ট্রেন পরিচালনায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রকল্পের নথিতে বলা হয়েছে, পুরোনো মডেলের লোকোমোটিভগুলোর খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ক্রমেই কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ফলে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লোকোমোটিভগুলো দীর্ঘ সময় চলাচলের বাইরে রাখতে হচ্ছে।
একনেকে ১৩ প্রকল্প অনুমোদন
রামপালে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও রেলওয়ের জন্য নতুন লোকোমোটিভ কেনার প্রকল্পসহ আজ একনেক সভায় মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি নতুন প্রকল্প, দুটি সংশোধিত প্রকল্প এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ থেকে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হবে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, রংপুর সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর অঞ্চলে সড়ক, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ।
এ ছাড়া সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং 'গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)'-এর দ্বিতীয় সংশোধনীও অনুমোদন দিয়েছে একনেক।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ৩৫টি বাণিজ্যিক নৌযান ও আটটি সহায়ক নৌযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ফ্রান্সের প্যারিসে বাংলাদেশের কেনা চ্যান্সারি ভবনটি ব্যবহার উপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় আরও দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর একটি দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্প। অন্যটি থানচি-রেমাক্রি-মদক-লিক্রি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী।
