মামুনুল হককে নিয়ে বিএনপি এমপির বক্তব্য ও নিজের মন্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মওলানা মামুনুল হকের কথিত 'কথিত পরকীয়া' নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) খোন্দকার আবু আশফাকের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ (কার্যবিবরণী থেকে বাদ) করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে এ বিষয়ে স্পিকারের নিজের করা একটি মন্তব্যও কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার নিজেই এ তথ্য জানান।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ জুন। সেদিন বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক মওলানা মামুনুল হকের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, 'মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলছেন। বাজেট নিয়ে তিনি সরকারের পতন ঘটাবেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে একটি নারীসহ ধরা পড়লেন, মুতাহ বিয়ের নামে—সেটা আসলে কী ছিল?'
সেদিন আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছিলেন যে, মামুনুল হকের এই বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই। স্পিকার তখন আরও বলেছিলেন, 'একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ সংসদে আলোচিত হোক—সেটি তিনি চান না।'
আজকের অধিবেশনে স্পিকার বলেন, গত বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক মাওলানা মামুনুল হকের 'কথিত পরকীয়া' নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা অনভিপ্রেত। স্পিকার যুক্তি দেন, যার সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়েছে, তার সংসদে এসে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ নেই। তাই অনুপস্থিত ব্যক্তির সম্পর্কে এমন বিরূপ মন্তব্য করা অনুচিত। এই কারণে আবু আশফাকের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে স্পিকার জানান, কোনো ব্যক্তির জীবনের 'অন্ধকার অধ্যায়' সম্পর্কে তার নিজের মুখে যে কথাটি এসেছিল, সেটিও তিনি এক্সপাঞ্জ করলেন। ভবিষ্যতে বাজেট বক্তব্যসহ অন্য বক্তৃতায় সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, "যার পক্ষে এখানে এসে নিজেকে ডিফেন্ড (রক্ষা) করা সম্ভব নয়, তার উদ্দেশে যেন কোনো বিরূপ মন্তব্য করা না হয়।"
'শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান' দাবিও এক্সপাঞ্জ
এদিকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি মো. জালাল উদ্দীন একটি অসত্য তথ্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি জানান, গত ১৪ জুন নীলফামারী-৪ আসনের এমপি আবদুল মুনতাকিম বাজেটের ওপর আলোচনাকালে নিজেকে 'শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান' দাবি করেছেন। কিন্তু বাস্তবে তার পিতা এখনো জীবিত আছেন। জালাল উদ্দীন এই অসত্য বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।
জবাবে স্পিকার জানান, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য তার চেম্বারে এসে ভুল স্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন এটি অনিচ্ছাকৃত 'স্লিপ অব টাং' বা মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কথা। ওই সংসদ সদস্য দুঃখ প্রকাশ করায় এটিও কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন স্পিকার।
সংসদের বাইরে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে স্পিকারের রুলিং
অধিবেশনের অন্য এক পর্যায়ে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান মুন্সিগঞ্জে গিয়ে সেখানকার মানুষের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ এনেছেন। এটি মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত বলে দাবি করেন তিনি।
তবে স্পিকার এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, এটি পয়েন্ট অব অর্ডার হতে পারে না। স্পিকার মন্তব্য করেন, 'বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা আছে এবং রাজনীতিবিদরা বাইরে অনেক কথাই বলেন। সংসদের বাইরের কথা সংসদের বাইরেই জবাব দেওয়া ভালো। তবে সংসদের ভেতরে যদি কোনো আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয়, কেবল তখনই বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে।'
