জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, ট্র্যাভেল এজেন্সির ৩ জন গ্রেপ্তার
জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার এবং অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে অনুমোদনহীন একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মাঞ্জুর প্রধানিয়া (৩৫), মো. ওসমান গনি (২৫) ও কাজী মো. আতা-ই-রাব্বি (২৮)।
সোমবার (১৫ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
তিনি জানান, সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেলের একটি দল রোববার (১৪ জুন) বিকাল ৪টায় উত্তর বাড্ডার রূপায়ণ মিলেনিয়াম স্কয়ারে অবস্থিত 'সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স'-এ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, বিদেশগমনসংক্রান্ত ১৬টি চুক্তিনামা, ২টি সিপিইউ এবং ১টি ডিভিআর জব্দ করা হয়। চুক্তিনামাগুলো নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করা হয়েছিল। জব্দ পাসপোর্টগুলোর মধ্যে ১৮টি জর্ডানগামী এবং বাকিগুলো সৌদি আরবগামী ব্যক্তিদের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সিআইডি জানায়, জর্ডানের আম্মানে আল-তাজামুয়াত ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে অবস্থিত 'জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড'-এর নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স শ্রমিক ভিসায় জর্ডানে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছিল।
বিষয়টি নজরে আসার পর ওই গার্মেন্টস কোম্পানি জর্ডানে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে অভিযোগ জানায়। পরে অভিযোগটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেল অনুসন্ধান শুরু করে।
প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স মূলত একটি ট্র্যাভেল এজেন্সি হলেও তাদের কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে জর্ডান, সৌদি আরব, সার্বিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল।
বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করছিলেন, যা অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে ধারণা করছে সিআইডি।
সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলছে।
