বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি অর্থনীতি ও ভোক্তাদের চাপে ফেলবে: ক্যাব
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সরাসরি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং শেষ পর্যন্ত এর বোঝা ভোক্তাদের ওপরই পড়বে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন।
বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এস এম নাজের হোসাইন বলেন, 'আমরা বারবার বলে আসছি যে বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানি অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি হলে স্বাভাবিকভাবিই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ ব্যক্তি জীবনে যেরকম দাম বাড়ার প্রভাব পড়বে; তেমনি শিল্প কলকারখানায়, বাসাবাড়ী, কৃষি, গণপরিবহনসহ সব জায়গায় উৎপাদন খরচ বাড়বে।'
তিনি বলেন, 'আর এগুলোর উৎপাদন খরচ বাড়লে তার দায়ভার সর্বশেষ ব্যবহারকারী হিসাবে ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে। ফলে সব ধরনের মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক পড়বে, যা মূল্যস্ফীতি উসকে দেবে।'
তিনি আরও বলেন, 'বিএনপি সরকার সবেমাত্র ক্ষমতায় আসলো। ক্ষমতায় আসার পরপরই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো, এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার, ডিজেল, কেরোসিন, ফার্নেস অয়েলের মতো সব ধরনের জ্বালানির দাম বাড়ায়; সাধারণ মানুষ এবং শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত লোকজনের জন্য নেতিবাচক বার্তা দেওয়া হলো।'
এস এম নাজের হোসাইন বলেন, 'ক্যাবসহ সবধরনের লোকজন অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, সিসটেস লস ও ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিষয়গুলো বন্ধ করার দাবি তুলেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ওপর খগড় নামানো হলো, যা খুবই দুঃখজনক।'
তিনি বলেন, 'যেখানে বিভিন্ন দেশ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য বিল মওকুফের কথা বলছে, সেখানে ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ওপর ভর্তুকি কমানোর কথা বলে দাম বাড়ানোর বিষয়টি সমর্থনযোগ্য নয়। এর বাইরে বিশ্বব্যাপী যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দেওয়া হচ্ছে, সেখানে সরকারের সেরকম উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী সংকট তৈরি হতে পারে।'
এস এম নাজের হোসাইন বলেন, 'গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণের বিশাল বৈষম্য এবং বিদ্যুৎহীনতার কারণে গ্রামের এক শ্রেণীর মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড দেশে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও; সেখানে নানা অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও সক্ষমতার ঘাটতি সরকারের শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই এসব বিষয় দ্রুত সমধান করা দরকার।'
প্রসঙ্গত, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। আর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
এতে বলা হয়, বিভিন্ন ধাপের (স্লাব) গ্রাহকদের মধ্যে সবচেয়ে কম ১৫ শতাংশ ও সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে এবার। নতুন দাম জুন থেকেই কার্যকর হচ্ছে।
