গাজীপুরে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ৩ জনের মৃত্যু, পিকআপ ভ্যানে আগুন
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার (১০ মে) ভোরে উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঘচালা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উত্তেজিত জনতা চোরচক্রের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। তাদের বয়স আনুমানিক ৪০ বছর।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় গরু চুরির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় গ্রামবাসী সতর্ক অবস্থানে ছিল। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ভোর ৪টার দিকে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র একটি নীল রঙের পিকআপ ভ্যান নিয়ে বাঘচালা এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে হানা দেয়।
এ সময় চুরির বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির মালিক চিৎকার শুরু করলে গ্রামবাসী চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলে।
স্থানীয়দের চিৎকারে চোরচক্রের কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তিনজনকে ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে তালা কাটার সরঞ্জাম, চাপাতি ও দা উদ্ধার করা হয়।
পরে বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে তারা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টার দিকে আরও দুজন মারা যান।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, "গণপিটুনিতে আহত তিনজনেরই মৃত্যু হয়েছে। তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান জানান, "হাসপাতালে নেওয়ার পর আহত দুজন নিজেদের পরিচয় দিলেও পরে তা যাচাই করে সঠিক পাওয়া যায়নি। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে পিবিআইয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় চুরির চেষ্টা এবং গণপিটুনির ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।"
