দেশে হাম ও হামের উপসর্গে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৩০০ ছাড়াল
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত এটিই একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। সোমবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ২টি শিশুর। এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৫৪টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।
চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫২টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ২৫৯টি শিশুর। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৩১১টি শিশু মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৯৩, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৪৬৭। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ২৮ হাজার ৮৪২ রোগী, যাদের মধ্যে ২৫ হাজার ১৫১ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম মোস্তফা হোসেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস)-বলেন, 'সংক্রমণ যেদিন থেকে কমতে শুরু করবে তার এক মাস পর থেকে মৃত্যুটা কমবে। সংক্রমণ তো এখনও কমার লক্ষণ দেখছি না, সংক্রমণ শীর্ষ পর্যায় পর্যায়ে আছে, তাই এখনই পরিস্থিতি উন্নতির লক্ষণ নাই।'
তিনি বলেন, 'হামের এই অবস্থায় দেশে স্বাস্থ্যের বিষয়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা প্রয়োজন, যাতে সবাই সবার মতো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। কিন্তু সরকার সেটি করছে না। কোভিড পরবর্তী সময়েও আমরা মহামারিতে কীভাবে কাজ করতে হয়, সেটি শিখলাম না।'
ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, 'যেসব শিশু জ্বরে আক্রান্ত, তাদের দ্রুত আলাদা করে রাখতে হবে। এতে একদিকে চিকিৎসা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সংক্রমণ ছড়ানো কমবে '
তিনি বলেন, 'কিন্তু বাস্তবতা হলো দেশের অনেক দরিদ্র পরিবারে এক রুমে অনেক মানুষ বসবাস করে। সেখানে একজন আক্রান্ত হলে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সিটি কর্পোরেশনের হাসপাতালগুলোকে ব্যবহার করে আক্রান্ত শিশুদের পর্যবেক্ষণে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।'
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সোমবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, 'আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে হামের সংক্রমণ কমে আসবে।একটি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা শুরু হতে সাধারণত তিন সপ্তাহ সময় লাগে। তবে বর্তমান পদক্ষেপের ফলে দ্রুতই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে।'
তিনি জানান, দেশের সব জেলা হাসপাতালে আইসিইউ সেবা নিশ্চিত করা গেলে কেন্দ্রীয় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ অনেকাংশে কমে আসবে। বর্তমানে হামের প্রকোপ মোকাবিলায় বিশেষায়িত ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় এর সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'বিগত সরকার পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রেখে যায়নি। তবে বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতায় বিদেশি বন্ধুরাষ্ট্র ও দাতা সংস্থাগুলো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।'
আগামী ৬ মে ভ্যাকসিনের একটি বড় চালান দেশে পৌঁছাবে বলে জানান তিনি।
