ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু; এবার নেই আওয়ামী লীগের প্যানেল
ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনের প্রথম দিনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে আইনজীবীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিচ্ছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকার নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হলেও শুরুতেই বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে সকালের দিকে ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা কম দেখা গেছে। দুই দিনব্যাপী এই ভোট গ্রহণ চলবে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত। প্রতিদিন মাঝখানে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ চলবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ২১ হাজার ৭৩১ জন আইনজীবী ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।
তিনি আরও বলেন, 'তবে এই প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা কোনো প্যানেল দিতে পারেননি। আওয়ামী লীগ ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একই প্যানেলে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াত পৃথক প্যানেল দিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।'
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা লড়ছেন 'নীল প্যানেল' (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল) থেকে। অন্যদিকে, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন 'সবুজ প্যানেলে' (আইনজীবী ঐক্য পরিষদ)।
অনুকূল পরিবেশ না থাকায় এবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত 'সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ' (সাদা প্যানেল) নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
প্রতিটি প্যানেল থেকে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন এবং স্বতন্ত্র ৮ জনসহ মোট ৫৪ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন।
বিএনপি সমর্থিত 'নীল প্যানেলের' প্রার্থীরা হলেন—সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান।
অন্যান্য সম্পাদকীয় পদের প্রার্থীরা হলেন—মো. রেজাউল করিম চৌধুরী (সিনিয়র সহসভাপতি), মো. আবুল কালাম আজাদ (সহসভাপতি), মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান আনিস (কোষাধ্যক্ষ), মো. এলতুতমিশ সওদাগর অ্যানি (সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক), মো. মাহাদী হাসান জুয়েল (সহসাধারণ সম্পাদক), খন্দকার মাকসুদুল হাসান সবুজ (লাইব্রেরি সম্পাদক), মারজিয়া হীরা (সাংস্কৃতিক সম্পাদক), মো. আফজাল হোসেন মৃধা (অফিস সম্পাদক), মো. সোহেল খান (ক্রীড়া সম্পাদক), এ.এস.এম ফিরোজ (সমাজকল্যাণ সম্পাদক) এবং শফিকুল ইসলাম শফিক (তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক)।
এই প্যানেলে কার্যনির্বাহী সদস্য পদের প্রার্থীরা হলেন—এ.এইচ.এম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও), ফারজানা ইয়াসমিন, মো. আদনান রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (মামুন), মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম), শেখ শওকত হোসেন এবং সৈয়দ সারোয়ার আলম (নিশান)।
সবুজ প্যানেলের প্রার্থী তালিকা
জামায়াত সমর্থিত 'সবুজ প্যানেলের' সভাপতি পদে এস. এম. কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্যানেলটির অন্যান্য সম্পাদকীয় পদপ্রার্থীরা হলেন—মো. শাহিদুল ইসলাম (সিনিয়র সহসভাপতি), মো. লুৎফর রহমান আজাদ (সহসভাপতি), মো. আজমত হোসেন (কোষাধ্যক্ষ), মো. শাহীন আক্তার (সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক), মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া (সহসাধারণ সম্পাদক), মো. শাহাদাত হোসেন (লাইব্রেরি সম্পাদক), বিলকিস আক্তার (সাংস্কৃতিক সম্পাদক), মো. আবদুর রাজ্জাক (অফিস সম্পাদক), বাবুল আক্তার বাবু (ক্রীড়া সম্পাদক), মোহাম্মদ শাহজাহান মোল্লা (সমাজকল্যাণ সম্পাদক) এবং মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ (তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক)।
সবুজ প্যানেলের সদস্য পদপ্রার্থীরা হলেন—বেলাল হোসেন, দিলরুবা আক্তার (সুবর্ণা), জহিরুল ইসলাম, কাওসার আহমেদ, মো. কাইয়ুম হোসেন (নয়ন), মো. মহসিন (রেজা), মো. ওমর ফারুক, মো. শাহ আলম, মো. ইউনুস এবং মোশাররফ হোসেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে মোহাম্মদ ইউনুস আলী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক পদে বলাই চন্দ্র দেব ও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহসহ মোট ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা জয়ী হয়েছিলেন। তবে ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আদালতে আসা বন্ধ করে দিলে সমিতির কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে গত বছরের ১৩ আগস্ট বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন। পরবর্তীতে গত ২৯ মার্চ প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেন।
