খিলক্ষেতে জিম্মি করে ছিনতাই: হানিট্র্যাপ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
ফেসবুকে পরিচয়, এরপর নিয়মিত কথা বলা থেকে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। কিন্তু সেই বন্ধুত্বের আড়ালেই পাতা ছিল ভয়ংকর 'হানিট্র্যাপ' বা প্রেমের ফাঁদ। দেখা করার কথা বলে ডেকে নিয়ে এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে মারধর এবং মোবাইল, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সাগর হাওলাদার (২৮), নাসিফ অঙ্কন (২৮) ও ফরহাদ সোহান (৩৩)। তবে এই চক্রের অন্যতম সদস্য হাফিজা নামের এক তরুণী বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
আজ রবিবার (১ মার্চ) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী মো. জসীম উদ্দিন (৩৮) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। ফেসবুকে হাফিজা নামের এক তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সেই সূত্রে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাফিজা তাকে খিলক্ষেত রাজউক মার্কেটের উত্তর পাশের গেটে দেখা করার জন্য ডাকে।
জসীম উদ্দিন সেখানে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সাগর, অঙ্কন ও ফরহাদ তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। তারা দাবি করে, হাফিজা মার্কেটের চতুর্থ তলায় একটি রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা করছে এবং তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে জসীম যেতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা তাকে জোরপূর্বক রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায় এবং সেখানে আটকে রেখে মারধর করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং নগদ ১ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
চক্রটি আরও টাকা দাবি করে এবং যোগাযোগের জন্য তাকে একটি মোবাইল নম্বর দেয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী জসীম উদ্দিন খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা করেন।
পুলিশের তদন্ত সূত্র জানায়, মামলা দায়েরের পর সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজউক মার্কেটের সামনে থেকে সাগর হাওলাদার ও নাসিফ অঙ্কনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফরহাদ সোহানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর ছিনতাই হওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা এবং পলাতক হাফিজা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক ও ছিনতাই চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়েদের নামে ভুয়া প্রোফাইল খুলে যুবকদের টার্গেট করে আসছিল। এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
