ছাত্র জোটের নারী কর্মীকে লাথি মারার ঘটনায় বহিষ্কৃত জামায়াত কর্মী আকাশ চৌধুরী গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের কর্মসূচিতে এক নারী কর্মীকে লাথি মারার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত কর্মী আকাশ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার (২ জুন) বিকেলে নগরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম টিবিএসকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বেলা পৌনে তিনটার দিকে আকাশ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দায়ের করা দ্রুত বিচার আইনের মামলায় তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আকাশ চৌধুরী সাতকানিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নেসার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর ছেলে।
গত ২৯ মে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের এক কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল 'একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত' জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে খালাস দেওয়ার রায়ের প্রতিবাদে। কর্মসূচির শুরুতেই 'শাহবাগবিরোধী ঐক্য' ব্যানারে একটি মিছিল এসে সেখানে হাজির হয়। দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, এবং পুলিশ উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
এ সময় 'শাহবাগবিরোধী ঐক্য'র সদস্যরা গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়, যাতে অন্তত ১২ জন আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করে এবং দ্রুত বিচার আইনে মামলা করে, যাতে আকাশ চৌধুরীসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি পেছন থেকে এক নারীসহ দুজনকে লাথি মারছেন। পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, ওই ব্যক্তির নাম আকাশ চৌধুরী। ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্র জোটের কর্মীরা প্রেস ক্লাবের পাশের একটি ভবনের নিচে আশ্রয় নেন, যেখানে পুলিশও উপস্থিত ছিল। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আকাশ চৌধুরী এক নারীকে এবং পরে আরেকজনকে লাথি মারেন।
ঘটনার পর ৩০ মে রাতে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নারীকে লাথি মারার ঘটনায় আকাশ চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
